Last updated: August 28th, 2026 at 03:35 pm

নিউজ ডেস্ক; নেপালে হড়পা বান ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে দেশে ফিরেছিলেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার তৃণমূল নেতা মহম্মদ শাহেদ। কিন্তু দেশে ফিরে আর পুলিশের নজর এড়াতে পারলেন না। একাধিক মামলায় অভিযুক্ত এই তৃণমূল নেতাকে তাঁর বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, শাহেদের বিরুদ্ধে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, হুমকি এবং জমি দখল-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই মামলাগুলির তদন্ত চলছিল। পুলিশ তাঁর সন্ধান চালাচ্ছিল বলেও জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত মে মাস থেকে কাঠমান্ডুতে ছিলেন শাহেদ। এতদিন তিনি সেখানেই ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। কিন্তু বুধবার নেপালের বিভিন্ন এলাকায় হড়পা বান ও বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। আচমকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর আর ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত চোপড়ার সোনাপুরে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে শাহেদের দেশে ফেরার খবর বেশিক্ষণ গোপন থাকেনি। পুলিশ গোপন সূত্রে তাঁর বাড়ি ফেরার খবর পায়। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় থানার পুলিশ সোনাপুরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের এই অভিযানে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রেপ্তারের পর শাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযোগগুলির সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র খতিয়ে দেখতেই জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেই কারণেই বৃহস্পতিবার তাঁকে ইসলামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয়। যদিও আদালত পুলিশের আবেদন পুরোপুরি মঞ্জুর করেনি। বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
শাহেদের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী অভিযোগ রয়েছে, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, ভয় দেখানো বা হুমকি এবং জমি দখলের মতো অভিযোগ রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযোগকারীদের বক্তব্যও যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি সুরজিৎ সেনের দাবি, তৃণমূলের আমলে শাহেদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগ ছিল। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং এতদিন নেপালে ছিলেন। বিজেপি নেতার কটাক্ষ, এখন রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় অভিযুক্তদের পক্ষে পালিয়ে বেড়ানো আর সহজ হবে না।
অন্যদিকে, পুলিশের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান। তাঁর বক্তব্য, শাহেদ আদৌ নেপালে ছিলেন না। তিনি এলাকাতেই ছিলেন বলে দাবি করেছেন বিধায়ক। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। শাহেদের বিরুদ্ধে এমন কোনও বড় অভিযোগ ছিল না, যার কারণে তাঁকে নেপালে পালিয়ে থাকতে হবে—এমনটাই দাবি হামিদুলের।
এই ঘটনায় শাহেদের স্ত্রী রুবি খাতুনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। রুবি খাতুন সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন সুইচড অফ পাওয়া যায়। ফলে স্বামীর গ্রেপ্তারি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে রুবির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এখন পুলিশের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। শাহেদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির পুরনো নথি, অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং তাঁর গত কয়েক মাসের অবস্থান—সবই তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নেপালে তাঁর থাকার দাবি এবং দেশে ফেরার পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাও তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে শাহেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির পরই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং মামলাগুলির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments