
নিউজ ডেস্ক;বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল থেকে উদ্ধার হল প্রথম বর্ষের এক ডাক্তারি পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ। শুক্রবার দুপুরে দুর্গাপুরের রাজবাঁধ এলাকার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃত পড়ুয়ার নাম অভিষেক কুমার (২১)। তিনি বিহারের সীতামারি জেলার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ।
পুলিশ এবং কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ হস্টেলের একটি ঘর থেকে অভিষেকের দেহ উদ্ধার হয়। তিনি মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। হস্টেলে অন্যান্য পড়ুয়ার সঙ্গেই থাকতেন তিনি। ঘটনার সময় ঘরে একাই ছিলেন অভিষেক বলে জানা গিয়েছে।
সহপাঠীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে অভিষেকের রুমমেট সুহিত মণ্ডল নমাজ পড়তে বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সময় ঘরে একাই ছিলেন অভিষেক। কিছুক্ষণ পরে নমাজ পড়ে হস্টেলে ফিরে আসেন সুহিত। ঘরে ঢোকার জন্য দরজার কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সেটি ভিতর থেকে বন্ধ। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে বিশেষ সন্দেহ হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
এর পর অভিষেককে ডাকতে শুরু করেন তাঁর রুমমেট। বার বার ডাকাডাকি করেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া না পাওয়ায় তাঁর সন্দেহ হয়। অভিষেকের মোবাইলে ফোন করেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফোনেরও কোনও উত্তর মেলেনি। ধীরে ধীরে বিষয়টি অন্য সহপাঠীদের জানানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের সামনে জড়ো হন বেশ কয়েক জন পড়ুয়া।
দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় কী ভাবে অভিষেকের কাছে পৌঁছনো যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তখন সহপাঠীদের একাংশ জানলার দিক থেকে ঘরের ভিতরে দেখার চেষ্টা করেন। একটি চেয়ার এনে জানলার ফাঁক দিয়ে তাকাতেই অভিষেককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় বলে দাবি সহপাঠীদের।
দৃশ্যটি দেখার পরেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হস্টেলে। সহপাঠীরা দ্রুত দরজা ভাঙার চেষ্টা শুরু করেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢুকে অভিষেককে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হস্টেলে পৌঁছয় কাঁকসা থানার পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে। পরে অভিষেকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুলিশ।
অভিষেকের মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কী কারণে তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনও জানা যায়নি। তাঁর সহপাঠীরাও এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। আচমকা এমন ঘটনা ঘটায় তাঁরা কার্যত হতবাক। অভিষেকের ব্যক্তিগত কোনও সমস্যা ছিল কি না, কিংবা অন্য কোনও কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সময় হস্টেলের পরিস্থিতি এবং অভিষেকের গতিবিধি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। ঘরের ভিতরের পরিস্থিতি, পড়ুয়ার মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হতে পারে। পাশাপাশি অভিষেকের সহপাঠী ও পরিচিতদের সঙ্গেও কথা বলতে পারে পুলিশ। মৃত্যুর আগে তিনি কারও সঙ্গে কোনও কথা বলেছিলেন কি না, তাঁর আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা গিয়েছিল কি না— সে সবও জানার চেষ্টা চলছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, অভিষেকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে তাঁর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিহারের সীতামারি থেকে দুর্গাপুরে পড়তে এসে হস্টেলে এমন পরিণতি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বিগ্ন ও শোকাহত পরিবারের সদস্যেরা।
মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি সুব্রত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, অভিষেকের সামনে ফার্স্ট ইয়ারের পরীক্ষা ছিল। আর মাত্র দু’দিন পরেই সেই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার আগে অভিষেক কিছুটা চিন্তায় ছিলেন বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছেন। তবে শুধুমাত্র পরীক্ষার চাপই এই মৃত্যুর কারণ কি না, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য তাঁদের কাছে নেই।
সুব্রত ভট্টাচার্যের বক্তব্য, পরীক্ষা নিয়ে অভিষেকের কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও তাঁর এমন সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
একজন তরুণ মেডিক্যাল পড়ুয়ার এমন মৃত্যুতে কলেজ চত্বরেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সদ্য চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন অভিষেক। পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন পরিবেশে হস্টেল জীবনেও মানিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু আচমকা তাঁর মৃত্যুতে সহপাঠীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
তবে এই ঘটনায় আত্মহত্যার কারণ নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য তদন্তের ফলাফল মিলিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। কোনও রকম অস্বাভাবিকতা বা অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।
শুক্রবার দুপুরের এই ঘটনায় দুর্গাপুরের রাজবাঁধ এলাকার বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে দীর্ঘ সময় ধরে চাঞ্চল্য ছিল। হস্টেলের যে ঘরে অভিষেক থাকতেন, সেখানে পুলিশি তদন্তের পর অন্যান্য পড়ুয়াদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। একই সঙ্গে প্রিয় সহপাঠীকে হারিয়ে তাঁরা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
মাত্র ২১ বছর বয়সে অভিষেকের এই রহস্যমৃত্যু তাই একাধিক প্রশ্ন রেখে গেল। পরীক্ষার চাপ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ ছিল বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানালেও, সেটিই মৃত্যুর কারণ ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে। পরিবারের কাছেও এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কী কারণে এমন পরিণতি হল তরুণ অভিষেকের।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments