Homeঅন্যান্যলাইফস্টাইলওবেরয়ে ১০ দিনের বিল ৫.৭৪ লাখ, টাকা না দিয়েই চেকআউট! দিল্লির পর্যটকের বিরুদ্ধে এফআইআর

ওবেরয়ে ১০ দিনের বিল ৫.৭৪ লাখ, টাকা না দিয়েই চেকআউট! দিল্লির পর্যটকের বিরুদ্ধে এফআইআর

নিউজ ডেস্ক; পরিবারকে নিয়ে বিলাসবহুল হোটেলে টানা ১০ দিন থাকা। লাঞ্চ, ডিনার থেকে শুরু করে হোটেলের একাধিক পরিষেবা নেওয়া—সবই চলেছে
Screenshot 2026-08-27 153812

নিউজ ডেস্ক; পরিবারকে নিয়ে বিলাসবহুল হোটেলে টানা ১০ দিন থাকা। লাঞ্চ, ডিনার থেকে শুরু করে হোটেলের একাধিক পরিষেবা নেওয়া—সবই চলেছে নিয়মমাফিক। কিন্তু চেকআউটের সময় যখন হাতে ধরানো হল ৫ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকার বিল, তখনই তৈরি হল বিপত্তি। দিল্লির এক পর্যটকের দাবি, ওই বিপুল বিল তাঁকে দিতে হবে না। কারণ, হোটেলের ঘর বুক করে দেওয়া ট্র্যাভেল এজেন্টই নাকি বিল মিটিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিল। অন্যদিকে, ট্র্যাভেল এজেন্টও টাকা দিতে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হল হোটেল কর্তৃপক্ষ। ওই পর্যটকের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর।

ঘটনাটি রাজস্থানের উদয়পুরের বিলাসবহুল হোটেল ‘ওবেরয় উদয়ভিলাস’-এর। বলিউডের জনপ্রিয় ছবি ‘ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’-র শুটিংয়ের জন্যও যে হোটেলটি পরিচিত। সেখানেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন দিল্লির বাসিন্দা অনুরাগ যাদব। প্রায় ১০ দিন হোটেলে থাকার পর বিল মেটানো নিয়ে তৈরি হয়েছে এই জটিলতা।

পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ অগস্ট স্ত্রী ও দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ওবেরয় উদয়ভিলাসে চেক ইন করেন অনুরাগ। পরিবারের সঙ্গে ২৩ অগস্ট পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন তিনি। এই সময়ে হোটেলের রুমের পাশাপাশি খাবার এবং অন্যান্য লাক্সারি পরিষেবাও নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে তাঁর নামে তৈরি হয় ৫ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকার বিল।

বিপত্তি শুরু হয় ২৪ অগস্ট চেকআউটের সময়। হোটেল কর্তৃপক্ষ বিল মেটানোর জন্য অনুরাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ঘরটি যেহেতু একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বুক করা হয়েছিল, তাই বিলের টাকা ওই এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেই মেটাতে হবে। এরপর বিল পরিশোধ না করেই পরিবারের সঙ্গে হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ১২ অগস্ট একটি ট্র্যাভেল এজেন্সি ইমেলের মাধ্যমে অনুরাগ যাদবের নামে ওবেরয় উদয়ভিলাসে ঘর বুক করেছিল। কিন্তু বুকিংয়ের সময় হোটেলের সঙ্গে ওই ট্র্যাভেল এজেন্সির এমন কোনও চুক্তি হয়নি, যার ভিত্তিতে পরে বিল মেটানোর দায় এজেন্টের উপর বর্তায়। এমনকি কোনও বিশেষ ডিসকাউন্ট বা পেমেন্ট সংক্রান্ত আলাদা ব্যবস্থার কথাও হোটেলের সঙ্গে এজেন্সির হয়নি বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

তাহলে প্রশ্ন উঠছে, অনুরাগ কি সত্যিই ভেবেছিলেন ট্র্যাভেল এজেন্টই হোটেলের পুরো বিল মিটিয়ে দেবে? নাকি বুকিংয়ের সময় এজেন্টের তরফে তাঁকে অন্য কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল? আবার এজেন্টের তরফে এমন কোনও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, যার কারণে পর্যটক বিপাকে পড়েছেন—সেটিও এখন তদন্তের বিষয়।

ঘটনার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ অম্বামাতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অনুরাগ যাদবের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার পিছনে ট্র্যাভেল এজেন্সির ভূমিকা কী ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অম্বামাতা থানার এসআই অজয় রাজ সিং শেখাওয়াত জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। অনুরাগের পরিবারের বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ট্র্যাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বুকিংয়ের সময় কী ধরনের শর্তে ঘরটি নেওয়া হয়েছিল, কোনও বিশেষ অফার বা ডিসকাউন্টের প্রতিশ্রুতি ছিল কি না এবং বিল মেটানোর বিষয়ে পর্যটক ও এজেন্টের মধ্যে কী কথা হয়েছিল—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বিলাসবহুল হোটেলে তুলনামূলক কম খরচে থাকার জন্য ট্র্যাভেল এজেন্সি এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নানা অফার ব্যবহার করেন পর্যটকরা। অনেক সময় সেই অফারের সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তও থাকে। কোথাও আগে থেকে পুরো টাকা দিতে হয়, কোথাও আবার খাবার বা অন্যান্য পরিষেবার টাকা আলাদা করে দিতে হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে বুকিংয়ের টাকা এবং হোটেলে থাকার সময়ের অতিরিক্ত খরচের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।

উদয়পুরের এই ঘটনাতেও এমন কোনও শর্তের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিশেষ করে ৫.৭৪ লক্ষ টাকার বিলের মধ্যে কোন খাতে কত টাকা ধার্য করা হয়েছে, ট্র্যাভেল এজেন্সি ঠিক কী বুক করেছিল এবং অনুরাগকে কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল—এসব নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া থাকায় হোটেল কর্তৃপক্ষও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ট্র্যাভেল এজেন্সি যদি সত্যিই বিল মেটানোর কোনও প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, তাহলে তার প্রমাণ কী, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবার যদি এমন কোনও চুক্তিই না থাকে, তাহলে অনুরাগ কেন হোটেল ছাড়ার সময় এজেন্টের কথা বলেছিলেন, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

ঘটনাটি সামনে আসার পর পর্যটকদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে, কোনও বিলাসবহুল হোটেলে বুকিং করার আগে ট্র্যাভেল এজেন্সির অফারের শর্তগুলি কতটা ভালোভাবে যাচাই করা হচ্ছে। কম দামে লাক্সারি থাকার সুযোগের পিছনে কোনও অতিরিক্ত চার্জ বা আলাদা পেমেন্টের নিয়ম রয়েছে কি না, তা আগে থেকে স্পষ্ট না হলে পরে বড় অঙ্কের বিল নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, ৫ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকার এই বিল নিয়ে আসল দায় কার—পর্যটকের, ট্র্যাভেল এজেন্টের, নাকি বুকিংয়ের শর্তের কোনও ভুল বোঝাবুঝির। আপাতত অনুরাগ যাদবের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর এবং ট্র্যাভেল এজেন্সির ভূমিকা ঘিরেই তদন্ত এগোচ্ছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved