HomeকলকাতাPMO আধিকারিক পরিচয়ে নবান্নে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, দিল্লি থেকে গ্রেফতার আকাঙ্ক্ষা

PMO আধিকারিক পরিচয়ে নবান্নে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, দিল্লি থেকে গ্রেফতার আকাঙ্ক্ষা

resizeplus_eisamay_2026-10-02_tz3z51ir_nabanna

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা PMO-র আধিকারিক পরিচয় দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে ঢুকে পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থী নামে ওই মহিলাকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে হাওড়ায় নিয়ে এসেছে শিবপুর থানার পুলিশ। এ দিন তাঁকে হাওড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করার কথা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির বাসিন্দা আকাঙ্ক্ষা আগে থেকেই সময় নিয়ে নবান্নে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের আধিকারিক। নির্ধারিত সময়ে নবান্নে পৌঁছে রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী এবং দফতরের কয়েক জন আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। সেই কথোপকথনের সময় তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।

এর পরেই মন্ত্রীর নির্দেশে ওই মহিলার পরিচয় যাচাই করতে উদ্যোগী হন দফতরের আধিকারিকেরা। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থী নামে কোনও আধিকারিক সেখানে কর্মরত নেই বলে জানতে পারেন তাঁরা। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পূর্ত দফতরের তরফে শিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নবান্ন থেকে বেরিয়ে আকাঙ্ক্ষা কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে দিল্লির বিমান ধরেছেন। এরপর হাওড়া সিটি পুলিশের একটি তদন্তকারী দল দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, মধ্য দিল্লির আনন্দ পর্বত থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁর সন্ধান মেলে। সেখান থেকে তাঁকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর নবান্নে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তিনি কী ধরনের তথ্য জানতে চেয়েছিলেন এবং এই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিলেন কি না—সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। কোচবিহারের এক ব্যবসায়ী ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল তৈরি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই সূত্রেই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। অভিযোগ, ওই সময় নিজেকে PMO-র আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। নিজের প্রভাবশালী পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজমাধ্যমে কয়েক জন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ছবি পোস্ট করার তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

নবান্নের মতো উচ্চ-নিরাপত্তার প্রশাসনিক ভবনে কী ভাবে একজন ব্যক্তি ভুয়ো পরিচয় দিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, তাঁর নবান্নে প্রবেশের আগে এবং পরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আপাতত আকাঙ্ক্ষাকে হাওড়ায় এনে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved