Homeনদিয়ানাকাশিপাড়াকাকাকে বলা ভাইপোর শেষ কথা ‘জুব্বারের লোক মারল’! নাকাশিপাড়ায় জোড়া খুনে পঞ্চায়েত প্রধান সহ গ্রেফতার ৩

কাকাকে বলা ভাইপোর শেষ কথা ‘জুব্বারের লোক মারল’! নাকাশিপাড়ায় জোড়া খুনে পঞ্চায়েত প্রধান সহ গ্রেফতার ৩

নিউজ ডেস্ক: নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় স্বাধীনতা দিবসের রাতে কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে
f12f3210-ce9f-425f-b7d7-e21bf36285b0

নিউজ ডেস্ক: নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় স্বাধীনতা দিবসের রাতে কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বীভৎস এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জুব্বার শেখের। ঘটনার তদন্তে নেমে পঞ্চায়েত প্রধান ফতেমা বিবি, সাহেব আলি মণ্ডল এবং মিঠুন শেখ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ। ধৃতরা সকলেই এলাকায় শাসকদল তৃণমূলের কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে খবর।

Table of Contents

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার রাত ৯টা নাগাদ স্টেশন থেকে ছেলেকে গাড়িতে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন নাকাশিপাড়া এলাকার অত্যন্ত পরিচিত কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের একাধিক সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। গাড়িটি নাগাদি রেল আন্ডারপাস সংলগ্ন নির্জন এলাকায় পৌঁছতেই একটি কালো স্করপিও গাড়ি এসে হঠাৎ তাঁদের পথ আটকায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা আনিসুর ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে এনে প্রথমে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এরপর নিশ্চিত করতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে উপরিউপরি কোপানো হয় দু’জনকেই। রক্তে ভেসে যায় চারপাশ, গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তাঁরা।

    এদিকে গুলির শব্দ ও চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা এক বিভৎস দৃশ্য দেখতে পান। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে গুরুতর জখম অবস্থায় আবু সুফিয়ান তাঁর কাকা মহম্মদ আলি জিন্নাহকে দেখতে পেয়ে শেষ কথাটি বলে ওঠে। কাকাকে উদ্দেশ্য করে কান্নায় ভেঙে পড়া সুফিয়ান বলে, “আমাকে এবং আব্বুকে জুব্বারের লোকজন মেরে দিল!” ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর ঠিক আগে কাকাকে বলা ভাইপো আবু সুফিয়ানের সেই শেষ কথাকেই মূল ভিত্তি করে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার।

    পরিবারের দেওয়া লিখিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার তদন্তে নেমে নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ দ্রুত একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। সেখান থেকেই পঞ্চায়েত প্রধান ফতেমা বিবি-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জুব্বার শেখের সন্ধানে এখনও এলাকা জুড়ে জোরদার পুলিশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খুনের পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শত্রুতা, নাকি পঞ্চায়েত এলাকা কেন্দ্রিক কোনো ব্যক্তিগত ও আর্থিক রেষারেষি জড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।

    রবিবার সকালে মৃতদেহ দুটি প্রথমে শক্তিনগর হাসপাতালে আনা হলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়, সঠিক বিচার ও প্রমাণের স্বার্থে ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্ত একই স্থানে করতে হবে। সেই দাবির পরেই দেহ দুটি কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নেন জাতীয় কংগ্রেসের নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার কার্যকরী সভাপতি পার্থ মুখার্জি। দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত কালো স্করপিও গাড়িটির সন্ধান চালানো ও ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে সবরকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

    No Comments

    তাজা খবর

    আরও পড়ুন