Homeজেলাশীর্ষনেতা আকাশ ধরা পড়তেই বাঁকুড়ায় আত্মসমর্পণ তিন মাওবাদী নেতানেত্রীর, ফিরতে চান ‘মূলস্রোতে’

শীর্ষনেতা আকাশ ধরা পড়তেই বাঁকুড়ায় আত্মসমর্পণ তিন মাওবাদী নেতানেত্রীর, ফিরতে চান ‘মূলস্রোতে’

resizeplus_eisamay_2026-09-23_17c7y7i2_New-Project-2026-09-23T183252.512

নিউজ ডেস্ক: বাঁকুড়ায় আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী সংগঠনের তিন শীর্ষ নেতা-নেত্রী। বুধবার বাঁকুড়া পুলিশ লাইনের কনফারেন্স হলে রাজ্য পুলিশের এডিজি আনন্দ কুমারের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন জবা মাহাতো, নয়নতারা সাহু এবং রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে শচীন। আত্মসমর্পণের পর তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের জঙ্গলের জীবন ছেড়ে এবার সমাজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তাঁরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জবা মাহাতো এবং নয়নতারা সাহু মাওবাদী সংগঠনের জোনাল কমিটির সদস্যা ছিলেন। অন্য দিকে রামপ্রসাদ মান্ডি বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা রিজিয়নাল কমিটির কমান্ডার হিসেবে কাজ করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনজনই প্রায় ২০০৬ সাল থেকে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আত্মসমর্পণের সময় তিনজনের কাছ থেকে দু’টি ইনসাস রাইফেল, একটি একে-৪৭, ১০টি ম্যাগাজিন এবং ১৫৪ রাউন্ড কার্তুজ জমা নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, জমা দেওয়া অস্ত্রগুলির কয়েকটি অতীতে বিভিন্ন সময়ে পুলিশের কাছ থেকে মাওবাদীদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এই তিনজনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন পুলিশি সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মামলার সংখ্যা ৭৫ থেকে ৮০-র বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক আইন এবং ইউএপিএ-সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা থাকার কথা জানা গিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট মামলাগুলির বিচারিক অবস্থার বিষয়ে পৃথকভাবে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আত্মসমর্পণকারীদের দাবি, একসময় জঙ্গলমহলের মানুষের বঞ্চনার কথা মাথায় রেখেই তাঁরা সশস্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। তাঁদের বক্তব্য, অস্ত্রের মাধ্যমে দাবি আদায়ের পথ থেকে সরে এসে এবার স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরতে চান তাঁরা।

সম্প্রতি মাওবাদী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই আত্মসমর্পণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আকাশকে এ রাজ্যের অন্যতম শীর্ষ মাওবাদী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাঁর গ্রেপ্তারের পর বাঁকুড়ায় তিন শীর্ষ নেতা-নেত্রীর অস্ত্র সমর্পণকে মাওবাদী সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাঁকুড়া রেঞ্জের ডিআইজি অভিষেক মোদী এবং জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্য পুলিশের এডিজি জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকারী তিনজন যাতে সরকারের নির্ধারিত আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন প্যাকেজের সুবিধা পান, তার জন্য স্ক্রিনিং কমিটির কাছে আবেদন করা হবে।

দীর্ঘদিনের সশস্ত্র কার্যকলাপের পর তিন মাওবাদী নেতানেত্রীর এই আত্মসমর্পণের পর তাঁদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, এখন সে দিকেই নজর রয়েছে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved