
নিউজ ডেস্ক; নদিয়ার শান্তিপুরে ফের ভয়াবহ গঙ্গা ভাঙন। বুধবার রাতের বৃষ্টির মধ্যেই আচমকা নদীর পাড় ধসে পড়তে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একের পর এক বাড়ি, ভিটে এবং চাষের জমি চলে যায় গঙ্গার গ্রাসে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই শ্রীরামপুর গ্রামের ৮ থেকে ১৫টি পরিবারের বাড়িঘর ও জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। আতঙ্কে রাতেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন বহু মানুষ।
ঘটনাটি শান্তিপুর বিধানসভার গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর গ্রামের। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাত পৌনে ৮টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে আচমকাই ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। প্রবল স্রোতে নদীর পাড় ভাঙতে থাকায় বাসিন্দাদের হাতে ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বার করার সময়ও ছিল না। আসবাবপত্র, ধান, বইপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং চাষের ফসল—অনেক কিছুই নদীর জলে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, প্রথমে পাড়ের দিকে ধস নামতে দেখা যায়। তারপর আচমকাই বড় বড় গাছ হেলে পড়তে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কোনও কোনও পরিবার শেষ মুহূর্তে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাণে বাঁচলেও তাঁদের সংসারের অধিকাংশ সামগ্রী রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকেও ঝুঁকি নিয়ে ঘর থেকে বের করে আনা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই বাড়িটিও নদীগর্ভে চলে যায়।
ভাঙনে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলির অভিযোগ, প্রতি বছরই বর্ষাকালে এই এলাকায় গঙ্গার ভাঙন দেখা দেয়। সাময়িকভাবে বালির বস্তা ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও তাতে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, দ্রুত নদীর পাড়ে শক্তপোক্ত স্থায়ী বাঁধ তৈরি করতে হবে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তারের খাঁচার মধ্যে পাথর দিয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা হোক, যাতে ফের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নদীর গ্রাসে না যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন শান্তিপুরের বিডিও-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ত্রিপল ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি গৃহহীনদের অস্থায়ীভাবে নিরাপদ জায়গায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। পুনর্বাসন এবং ভাঙন রোধের স্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে সেচ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
শুধু বাড়িঘর নয়, বহু পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, পড়াশোনার সামগ্রী এবং জীবিকার সঙ্গে যুক্ত জিনিসপত্রও নদীতে চলে গিয়েছে। ফলে ভাঙন থেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সামনে নতুন করে সংসার গড়ার বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, সামগ্রিকভাবে গঙ্গার ভাঙন নিয়ে রাজ্যের একাধিক এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। মালদহের মানিকচক ও ভূতনিতেও সাম্প্রতিক সময়ে গঙ্গার ভাঙন নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা ও উদ্বেগের খবর সামনে এসেছে।
শ্রীরামপুরে রাতের সেই ভয়াবহ ভাঙনের পর এখন গ্রামবাসীদের একটাই দাবি—সাময়িক ত্রাণ নয়, চাই স্থায়ী সমাধান। নদী আর যাতে তাঁদের ভিটেমাটি কেড়ে নিতে না পারে, সেই ব্যবস্থা দ্রুত করার অপেক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments