Homeকলকাতাখালের পাড় দখলের অভিযোগ, বিপাকে পূর্ব কলকাতার জলাভূমির মৎস্যজীবীরা

খালের পাড় দখলের অভিযোগ, বিপাকে পূর্ব কলকাতার জলাভূমির মৎস্যজীবীরা

resizeplus_Untitled Design (56) (1)

নিউজ ডেস্ক: পূর্ব কলকাতা জলাভূমি ঘিরে উঠল জমি দখলের অভিযোগ। খালের পাড়ে মাটি ফেলে, বাঁশের বেড়া ও অন্যান্য কাঠামো তৈরি করে ভেড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় মৎস্যজীবীদের একাংশের। এর জেরে মাছচাষের কাজ থেকে শুরু করে ভেড়ি থেকে মাছ পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই সমস্যার মুখে পড়ছেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব কলকাতার জলাভূমি এলাকার খাল ও জলপথকে ঘিরেই চলছে মাছচাষের একটি বিশেষ ব্যবস্থা। শহরের নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জলাভূমির এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে মাছচাষও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু কয়েকটি এলাকায় খালের পাড়ে জমি ভরাট ও দখলের অভিযোগ ওঠায় সেই ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, কোথাও মাটি ফেলে খালের পাড় উঁচু করা হয়েছে, আবার কোথাও বাঁশের বেড়া বা স্থায়ী কাঠামো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভেড়িতে মাছের খাবার নিয়ে যাওয়া, শ্রমিকদের যাতায়াত কিংবা ভোরবেলা মাছ নিয়ে বাজারের দিকে যাওয়ার গাড়ি চলাচলেও বাধা তৈরি হচ্ছে।

মৎস্যজীবীদের একাংশের আরও অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তবে কারা এই দখলের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা—তা এখনও তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

পূর্ব কলকাতা জলাভূমি পরিবেশগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০২ সালে এই জলাভূমি রামসার সাইটের মর্যাদা পায়। জলাভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা কলকাতার নিকাশি জল প্রাকৃতিকভাবে পরিশোধন এবং মাছচাষের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।

পরিবেশকর্মীদের বক্তব্য, জলাভূমির চরিত্র পরিবর্তন, জলাশয় ভরাট বা বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ সামনে এলে তা দ্রুত প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ জলাভূমির স্বাভাবিক জলধারণ ক্ষমতা ও নিকাশি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বৃহত্তর কলকাতার পরিবেশ এবং জল ব্যবস্থাপনায়।

অন্যদিকে, মৎস্যজীবীদের বক্তব্য—জলাভূমির সুরক্ষা শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, তাঁদের জীবিকা রক্ষার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। ভেড়িতে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে মাছচাষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত মাছ বাজারে পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।

এখন প্রশ্ন, খালের পাড়ে জমি দখলের যে অভিযোগ উঠেছে, তা কতটা সত্য? কোথায় কোথায় জলাভূমির জমির চরিত্র বদল করা হয়েছে এবং তার অনুমোদন রয়েছে কি না—প্রশাসনিক তদন্তেই তার উত্তর মিলবে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন, জমির নথি যাচাই এবং বেআইনি নির্মাণ বা ভরাটের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে মৎস্যজীবীদের চলাচলের পথও দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি উঠছে।

পূর্ব কলকাতা জলাভূমিকে ঘিরে জমি দখলের এই অভিযোগ তাই একই সঙ্গে পরিবেশ, জীবিকা এবং শহরের জল ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved