Homeজেলাপুলিশের চাকরি দেওয়ার নামে ৬ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেফতার যুবকের বাড়ি থেকে নগদ উদ্ধারের দাবি

পুলিশের চাকরি দেওয়ার নামে ৬ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেফতার যুবকের বাড়ি থেকে নগদ উদ্ধারের দাবি

resizeplus_WhatsApp Image 2026-09-23 at 6.36.14 PM

নিউজ ডেস্ক: পুলিশের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক মহিলার কাছ থেকে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল নদিয়ার রানাঘাটে। বেঙ্গল পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর পরিচয় দিয়ে ওই মহিলাকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনায় মিন্টু বিশ্বাস নামে এক যুবককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ প্রায় ২ লক্ষ টাকা এবং একটি ব্যাঙ্কের পাসবই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

জানা গিয়েছে, রানাঘাট থানার অন্তর্গত চন্দ্রপুর এলাকার এক মহিলা পুলিশের চাকরির জন্য টাকা দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ মিন্টু বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নাম করে ওই মহিলার কাছ থেকে মোট প্রায় ৬ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন অভিযুক্ত। এর মধ্যে প্রায় ৪ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে এবং বাকি টাকা নগদে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি। অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

অভিযুক্তকে হেফাজতে পাওয়ার পর রানাঘাট থানার পুলিশ এবং শান্তিপুর থানার পুলিশ যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলগড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনপাড়া এলাকায় অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেই প্রায় ২ লক্ষ টাকা নগদ এবং একটি ব্যাঙ্কের পাসবই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

ঘটনায় রাজনৈতিক যোগ নিয়েও এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। মিন্টু বিশ্বাসের কাকা দীপক বিশ্বাস শান্তিপুর বিধানসভার বিজেপির কনভেনর বলে জানা গিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ভাইপোর সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। তবে গত প্রায় এক মাস ধরে মিন্টু তাঁদের বাড়িতে থাকছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

দীপক বিশ্বাসের বক্তব্য, তাঁর ভাইপো কারও কাছ থেকে চাকরির নামে টাকা নিয়ে থাকলে সেটি অনৈতিক কাজ। একইসঙ্গে চাকরি পাওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার বিষয়টিকেও তিনি সমর্থন করেননি। তাঁর দাবি, পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত করুক এবং সত্য সামনে আসুক।

তবে পুলিশ যে নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে, সেই অর্থ তাঁর নিজের বলে দাবি করেছেন দীপক বিশ্বাস। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ২ লক্ষ টাকা তিনি গোল্ড লোনের মাধ্যমে পেয়েছিলেন। প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে ওই টাকার হিসাব তিনি পুলিশকে দেবেন বলেও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, কেন ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে মিন্টু বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট কোনও উত্তর দেননি বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের গতিবিধি নিয়ে আগেও নানা অভিযোগ শোনা গিয়েছিল। তবে সেই অভিযোগগুলির সত্যতা পুলিশি তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে। পুরো ঘটনায় মিন্টু একাই জড়িত, নাকি এর পিছনে আরও কোনও ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতারি এবং বাড়ি থেকে নগদ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় আরও কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved