Homeপশ্চিম মেদিনীপুরভোটের পর সংগঠন চাঙ্গা করতে মরিয়া কংগ্রেস, পশ্চিম মেদিনীপুরে সভাপতি চিরঞ্জীব, ঝাড়গ্রামে প্রসেনজিৎ

ভোটের পর সংগঠন চাঙ্গা করতে মরিয়া কংগ্রেস, পশ্চিম মেদিনীপুরে সভাপতি চিরঞ্জীব, ঝাড়গ্রামে প্রসেনজিৎ

নিউজ ডেস্ক; বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর এ বার সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর কাজে জোর দিয়েছে কংগ্রেস। জেলার সাংগঠনিক ভিত মজবুত করার লক্ষ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে জেলা সভাপতি পদে বদল
resizeplus_Screenshot 2026-09-14 134722_edited

নিউজ ডেস্ক; বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর এ বার সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর কাজে জোর দিয়েছে কংগ্রেস। জেলার সাংগঠনিক ভিত মজবুত করার লক্ষ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে জেলা সভাপতি পদে বদল আনা হল। পশ্চিম মেদিনীপুরে জেলা কংগ্রেসের নতুন সভাপতি হলেন চিরঞ্জীব ভৌমিক। অন্য দিকে, ঝাড়গ্রামে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রসেনজিৎ দে-কে। দুই জেলাতেই নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে দলের সংগঠন কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।

দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম মেদিনীপুরে সাংগঠনিক ভাবে কিছুটা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে কংগ্রেস। এক সময় জেলার বিভিন্ন এলাকায় দলের শক্তিশালী সংগঠন থাকলেও পরবর্তী সময়ে বহু নেতা-কর্মী দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি কমেছে বলে দলের একাংশের দাবি। নতুন জেলা সভাপতি চিরঞ্জীব ভৌমিকও সেই অতীতের কথা স্বীকার করছেন। তাঁর আশা, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে পুরনো কর্মীদের একাংশকে ফের দলের ছাতার তলায় আনা সম্ভব হবে।

চিরঞ্জীবের কথায়, কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মের পর থেকেই দলের সাংগঠনিক শক্তিতে টান পড়েছিল। তবে বর্তমানে জেলায় তৃণমূল ‘কোণঠাসা’—এমনটাই তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন। সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়া পুরনো কর্মীরা ফের দলে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় স্তরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিজেপি-বিরোধী আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার কথাও জানিয়েছেন নতুন জেলা সভাপতি।

চিরঞ্জীবের রাজনৈতিক পরিচয় অবশ্য একেবারে নতুন নয়। পেশায় আইনজীবী এই কংগ্রেস নেতা বর্তমানে মেদিনীপুর শহরে থাকলেও তাঁর পারিবারিক শিকড় সবংয়ে। তাঁর বাবা জয়ন্ত ভৌমিক কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দাদু হরিপদ ভৌমিক ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। পরবর্তী সময়ে তিনিও কংগ্রেসের রাজনীতিতে যোগ দেন। ফলে পারিবারিক ভাবেই রাজনীতির সঙ্গে চিরঞ্জীবের পরিচয় তৈরি হয়েছিল।

দলের যুব সংগঠন দিয়েই সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান। ২০০৩ সালে সবং ব্লক যুব কংগ্রেসের সভাপতি হন চিরঞ্জীব। তার তিন বছর পরে, ২০০৬ সালে জেলা যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১১ সালে জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক হন তিনি। পরবর্তী সময়ে জেলা কংগ্রেসের সহ-কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতাই এ বার জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলাতে তাঁকে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন দলের কর্মীদের একাংশ।

এ বারের জেলা সভাপতি বাছাইয়ের প্রক্রিয়াতেও ছিল কিছুটা ভিন্নতা। দলীয় সূত্রের খবর, সভাপতি পদে আগ্রহীদের এআইসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যের কাছে আবেদন জমা দিতে হয়েছিল। সেই আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখার পরে চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হয়। ফলে সভাপতি নির্বাচন ঘিরে দলের অন্দরে পক্ষপাতিত্ব বা পছন্দের প্রার্থীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তেমন ভাবে ওঠেনি বলে কংগ্রেসের একাংশের দাবি।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর চিরঞ্জীবের সামনে অবশ্য একাধিক চ্যালেঞ্জ। বুথ স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করা, নিষ্ক্রিয় কর্মীদের ফের মাঠে নামানো এবং পুরনো কর্মীদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের সমন্বয় তৈরি করাই তাঁর অন্যতম কাজ বলে মনে করা হচ্ছে। চিরঞ্জীব জানিয়েছেন, দলের নির্দেশ মেনে জেলা কমিটি থেকে শুরু করে ব্লক কমিটি পর্যন্ত নতুন করে সংগঠন সাজানো হবে।

শুধু সংগঠন মজবুত করাই নয়, আগামী পুরসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী নতুন জেলা সভাপতি। তাঁর দাবি, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে কংগ্রেস কয়েকটি আসনে নিশ্চিত ভাবেই সাফল্য পাবে। যদিও বাস্তবে সেই দাবি কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে সংগঠনকে বুথ স্তরে কতটা সক্রিয় করা যায় তার উপরই।

পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি ঝাড়গ্রামেও জেলা নেতৃত্বে পরিবর্তন করেছে কংগ্রেস। সেখানে নতুন জেলা সভাপতি করা হয়েছে প্রসেনজিৎ দে-কে। ২০২০ সাল থেকে তিনি ঝাড়গ্রাম জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। শনিবার দলের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় গোলাপি সরেনকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় প্রসেনজিৎকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রার্থীও ছিলেন প্রসেনজিৎ। দীর্ঘদিন ধরে জেলার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। ফলে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে সাংগঠনিক কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাতে চাইছেন তিনি।

নতুন জেলা সভাপতির বক্তব্যেও উঠে এসেছে বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করার লক্ষ্য। প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পালন করতে চান। তাঁর লক্ষ্য, এমন ভাবে বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করা, যাতে ভবিষ্যতে যে কোনও নির্বাচনে কংগ্রেস একক ভাবে লড়াই করার মতো অবস্থায় পৌঁছতে পারে।

রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ঝাড়গ্রামের নতুন জেলা সভাপতি। তাঁর দাবি, মানুষ বর্তমানে স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন চাইছেন। সেই ধরনের সরকার দেওয়ার ক্ষমতা কংগ্রেসেরই রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দুই জেলায় সভাপতি বদলের মধ্য দিয়ে কংগ্রেস যে সংগঠন পুনর্গঠনের দিকে নজর দিচ্ছে, তা স্পষ্ট। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন করলেই যে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বুথ স্তরে কর্মীদের সক্রিয় করা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং ভোটের সময় সংগঠনকে কার্যকর ভাবে কাজে লাগানো—এই তিনটি ক্ষেত্রেই নতুন জেলা সভাপতিদের পরীক্ষা দিতে হবে।

বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের মতো রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই জেলায় কংগ্রেস কতটা জায়গা পুনরুদ্ধার করতে পারে, তার উপরই নতুন নেতৃত্বের সাফল্য অনেকটা নির্ভর করবে। পুরনো কর্মীদের ঘরে ফেরানোর যে আশা চিরঞ্জীব দেখাচ্ছেন এবং বুথ থেকে সংগঠন শক্তিশালী করার যে লক্ষ্য প্রসেনজিৎ নিয়েছেন, তা বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved