Homeমালদা১০ দিন পেরিয়েও জলের তলায় ভুতনির ৭০ গ্রাম, বন্যার্তদের পাশে মালদার ব্যবসায়ী মহল

১০ দিন পেরিয়েও জলের তলায় ভুতনির ৭০ গ্রাম, বন্যার্তদের পাশে মালদার ব্যবসায়ী মহল

নিউজ ডেস্ক; দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে, কিন্তু মালদার ভুতনির বন্যা পরিস্থিতির বিশেষ কোনও উন্নতি হয়নি। এখনও বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। প্রশাসন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুতনির প্রায় ৭০টি গ্রাম
resizeplus_Screenshot 2026-09-14 123954_edited

নিউজ ডেস্ক; দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে, কিন্তু মালদার ভুতনির বন্যা পরিস্থিতির বিশেষ কোনও উন্নতি হয়নি। এখনও বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। প্রশাসন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুতনির প্রায় ৭০টি গ্রাম এখনও জলমগ্ন। কোথাও ঘরের ভিতর জল, কোথাও আবার বাড়ির উঠোন ডুবে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জলবন্দি থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গিয়েছে বহু পরিবারের। ঘরছাড়া হয়ে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে। আবার অনেকে বাড়ি ছেড়ে যেতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছাদেই দিন কাটাচ্ছেন।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে প্রশাসনের তরফে নিয়মিত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দুর্গত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজও চলছে। স্থানীয়দের উদ্ধারে আধাসেনা নামানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। এর মধ্যেই রবিবার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ালেন মালদার ব্যবসায়ী মহলের একাধিক সংগঠন।

রবিবার মালদা কালেক্টরেটে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক হয়। ভুতনির দীর্ঘস্থায়ী বন্যা পরিস্থিতি এবং দুর্গত মানুষের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষ হওয়ার পরই ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে প্রায় ৫০টি ছোট-বড় গাড়িতে করে সেই সামগ্রী ভুতনির বন্যাকবলিত এলাকাগুলির উদ্দেশে পাঠানো হয়।

ত্রাণের তালিকায় রয়েছে আলু, পেঁয়াজ, চাল, চিড়ে, মশারি, পলিথিন-সহ একাধিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী। দীর্ঘদিন ধরে জলমগ্ন থাকার কারণে দুর্গত পরিবারগুলির কাছে শুকনো খাবার, রান্নার উপকরণ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসের প্রয়োজন ক্রমশ বাড়ছে। সেই কথা মাথায় রেখেই ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে বলে ব্যবসায়ী মহলের তরফে জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগে একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠন সামিল হয়েছে। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স, মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, বঙ্কিমচন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতি-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন যৌথ ভাবে ত্রাণ সংগ্রহ ও তা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ব্যবসায়ী মহলের এই সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, ভুতনির হীরানন্দপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বহু পরিবার বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী মহলের সহযোগিতায় এ দিন ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গত মানুষদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্পেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরেও বন্যার্তদের সাহায্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে ভুতনির মতো বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে জলের নীচে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। জল না নামায় অনেক পরিবার নিজেদের বাড়িতেই আটকে রয়েছেন। যাঁদের বাড়িতে থাকা সম্ভব নয়, তাঁদের একটি অংশ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যার জলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা। বাড়ির ভিতর জল ঢুকে যাওয়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গিয়েছে বহু পরিবারের। পানীয় জল, খাবার এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় জলবন্দি থাকার ফলে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে নিয়মিত ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে দুর্গতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জলবাহিত রোগ বা অন্য কোনও অসুস্থতা যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানিয়েছেন, দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে ভুতনির একাধিক এলাকা জলের নীচে রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই বন্যার কারণে গ্রামবাসীদের মধ্যে খাদ্যসঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই ব্যবসায়ী মহলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ী মহলের এই উদ্যোগ শুধু ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী দিনেও দুর্গতদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকেই আপাতত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভুতনির বন্যা পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি আধাসেনা এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জলমগ্ন গ্রামগুলিতে যাতায়াত স্বাভাবিক না থাকায় নৌকা বা অন্যান্য উদ্ধারযানের মাধ্যমে মানুষকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে দুর্গত পরিবারগুলির কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য একাধিক স্তরে কাজ করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের মূল দাবি, দ্রুত জল নামানোর ব্যবস্থা করা হোক এবং যত দিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, তত দিন পর্যাপ্ত খাবার, পানীয় জল, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হোক। বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঘরছাড়া থাকায় তাঁদের পুনর্বাসন নিয়েও চিন্তা বাড়ছে।

একটানা বন্যার কারণে শুধু বর্তমান দুর্ভোগ নয়, আগামী দিনগুলিতে কৃষি ও জীবিকার উপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভুতনির বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা স্থানীয় কৃষি এবং ছোটখাটো ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। জল দীর্ঘদিন জমে থাকলে চাষের জমি, বাড়িঘর এবং অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী মহলের উদ্যোগ কিছুটা হলেও দুর্গত পরিবারগুলির কাছে স্বস্তি পৌঁছে দিতে পারে। তবে ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পরিকল্পনাও প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এখনও প্রায় ৭০টি গ্রাম জলমগ্ন থাকার দাবি সামনে আসায় ভুতনির পরিস্থিতি যে দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার নয়, তা স্পষ্ট। তাই জল না নামা পর্যন্ত প্রশাসন, আধাসেনা এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই বন্যার্তদের সবচেয়ে বড় ভরসা। রবিবারের ব্যবসায়ী মহলের উদ্যোগ সেই সহযোগিতার পরিসর আরও বাড়াল। আগামী দিনগুলিতে পরিস্থিতি কতটা বদলায়, এখন সেদিকেই নজর ভুতনিবাসীর।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved