Homeউত্তর ২৪ পরগনাদক্ষিণেশ্বরস্বস্তি নিত্যযাত্রীদের, স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর খুলল দক্ষিণেশ্বর-বালি সংযোগকারী সেতু; ভারী গাড়িতে নিষেধাজ্ঞা

স্বস্তি নিত্যযাত্রীদের, স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর খুলল দক্ষিণেশ্বর-বালি সংযোগকারী সেতু; ভারী গাড়িতে নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক; দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে স্বস্তির খবর দক্ষিণেশ্বর-বালি রুটের নিত্যযাত্রীদের জন্য। স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জাতীয় সড়কের সঙ্গে বালি ব্রিজের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ফের যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া
resizeplus_Screenshot 2026-09-14 124332_edited

নিউজ ডেস্ক; দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে স্বস্তির খবর দক্ষিণেশ্বর-বালি রুটের নিত্যযাত্রীদের জন্য। স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জাতীয় সড়কের সঙ্গে বালি ব্রিজের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ফের যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। রবিবার রাত থেকেই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে সেতু খুললেও আপাতত বেশ কিছু কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

সব ধরনের যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করতে পারবে না। জানানো হয়েছে, ৩.৫ টনের বেশি ওজনের কোনও যানবাহন আপাতত এই সংযোগকারী সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না। যাত্রিবাহী বাস চলাচলের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফলে বাস এবং ভারী ট্রাক বা অন্যান্য বড় যানবাহনকে বিকল্প পথ হিসেবে নিবেদিতা সেতু ব্যবহার করতে হবে।

আপাতত দক্ষিণেশ্বর থেকে বালির দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ছোট গাড়ি এবং হালকা যানবাহন এই সেতু দিয়ে চলাচল করতে পারবে। দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকায় এই রুটে যাতায়াতকারী মানুষকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। বিশেষত অফিস টাইমে যানজট এবং ঘুরপথে যাতায়াতের কারণে সময় বেশি লাগছিল। সেতুটি ফের খুলে যাওয়ায় সেই সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে বলে আশা করছেন নিত্যযাত্রীরা।

পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে ওই সেতুর স্বাস্থ্যপরীক্ষা শুরু হয়েছিল। সেতুটি বর্তমানে কতটা নিরাপদ এবং তার বহনক্ষমতা বা লোড ক্যাপাসিটি কতটা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই বিভিন্ন ধরনের কারিগরি পরীক্ষা করা হয়। সেতুর কাঠামো, চাপ বহনের ক্ষমতা এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কোনও অংশে সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলিও পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় ছিল।

এই কাজের জন্য শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হয়। শুধু সেতু নয়, সংলগ্ন রাস্তাতেও যানবাহনের চলাচলে প্রভাব পড়ে। ব্যস্ত এই রুটে আচমকা নিয়ন্ত্রণ শুরু হওয়ায় নিত্যযাত্রীদের একটি বড় অংশকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। ফলে একাধিক এলাকায় যানজটের চাপও বাড়ে।

তবে স্বাস্থ্যপরীক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার পর রবিবার রাতে সেতুটি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সেতুর সুরক্ষা ও কাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে যানবাহনের ওজনের সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ৩.৫ টনের বেশি ওজনের কোনও যানবাহন সেতুতে উঠতে পারবে না। বড় বাসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকছে।

কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত ছোট গাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং অন্যান্য হালকা যানবাহন ব্যবহারকারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। দক্ষিণেশ্বর থেকে বালির দিকে যাওয়ার জন্য ঘুরপথে যেতে হবে না তাঁদের। বিশেষত অফিস যাত্রী এবং প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করা স্থানীয় বাসিন্দাদের সময় বাঁচবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বাসযাত্রীদের ক্ষেত্রে বিকল্প পথেই যাতায়াত করতে হবে। যাত্রীবাহী বাস এবং অন্যান্য ভারী যানবাহনকে নিবেদিতা সেতু হয়ে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারী যান চলাচলের চাপ ওই রুটেই থাকবে।

উল্লেখ্য, জাতীয় সড়ক এবং বালি ব্রিজের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই সেতুটি অত্যন্ত পুরনো। সেতুটির বয়স ৫০ বছরেরও বেশি বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত হওয়ায় এর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি হয়ে উঠেছিল। সম্প্রতি সেতুর উপরের রাস্তার সংস্কারের কাজও করা হয়।

সেতুর উপর দিয়ে ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল আটকাতে আগেই হাইট বার বসানো হয়েছিল। যাত্রিবাহী বাস, বড় ট্রাক এবং উচ্চতার কারণে বেশি ওজন বহনকারী গাড়ির প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরও সেই সতর্কতার ধারা বজায় থাকল।

শহরাঞ্চলের পুরনো সেতুগুলির ক্ষেত্রে বহনক্ষমতা পরীক্ষা এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনের বিপুল যানবাহনের চাপ এবং সেতুর বয়স—দুই বিষয় মাথায় রেখে সময় সময় কারিগরি স্বাস্থ্যপরীক্ষা প্রয়োজন। এই সেতুর ক্ষেত্রেও সেই কারণেই লোড ক্যাপাসিটি পরীক্ষা করা হয়েছে বলে পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

সেতুটি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত থাকার সময়ে দক্ষিণেশ্বর-বালি রুটের যান চলাচলে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কমার আশা রয়েছে এ বার। যদিও ভারী যান ও বাসের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় পুরো পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক হয়নি। তবুও ছোট ও হালকা যানবাহনের জন্য সেতু খুলে দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি হিসেবেই দেখছেন পথচলতি মানুষ।

বিশেষত সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে এই সংযোগকারী সেতু খুলে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। এত দিন বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেককেই অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়েছে। এখন ছোট গাড়ি ও হালকা যানবাহন সরাসরি সেতুটি ব্যবহার করতে পারায় যানবাহনের চাপ কিছুটা ভাগ হয়ে যাবে।

তবে সেতুর নিরাপত্তার স্বার্থে জারি করা ওজন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোর ভাবে মানার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ ৫০ বছরের বেশি পুরনো এই সেতুর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে ভবিষ্যতে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই যান চলাচল শুরু হলেও ভারী গাড়ির প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান সতর্কতা।

স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর সেতু খুলে যাওয়ায় নিত্যযাত্রীদের স্বস্তি ফিরলেও বাস ও ভারী যানবাহনের জন্য বিকল্প রুট ব্যবহারের নির্দেশ বহাল থাকছে। আগামী দিনে সেতুর অবস্থা, যানবাহনের চাপ এবং কারিগরি পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিধিনিষেধে কোনও পরিবর্তন আনা হবে কি না, সে দিকেও নজর থাকবে।

আপাতত রবিবার রাত থেকে ফের চালু হওয়া এই সংযোগকারী সেতু ছোট ও হালকা যানবাহনের জন্য দক্ষিণেশ্বর থেকে বালির যাতায়াতকে সহজ করল। দীর্ঘদিনের যানজট ও ঘুরপথের ভোগান্তি কতটা কমে, এ বার সেদিকেই তাকিয়ে নিত্যযাত্রীরা।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved