
নিউজ ডেস্ক: মালদহের ভূতনি দ্বীপে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে আরও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ভূতনির জন্য অতিরিক্ত ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি জল নামা, উদ্ধারকাজ, জল নিষ্কাশন এবং বন্যা-পরবর্তী রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিনে গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি এবং একাধিক এলাকায় জল ঢুকে পড়ার কারণে মালদহের মানিকচক ব্লকের ভূতনি দ্বীপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। বেশ কিছু গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ কার্যত জলবন্দি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই ত্রাণশিবির চালু করেছে প্রশাসন। রাজ্য সরকারের তরফে গোটা পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাজ্যের চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ভূতনি পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, সিভিল ডিফেন্সের আধিকারিক, উত্তরবঙ্গের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিক এবং মালদহের জেলাশাসক। তাঁরা সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং কোথায় কতটা জল জমেছে, কোন কোন এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং জল দ্রুত বের করার ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন।
পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রিপোর্টে ভূতনির পরিস্থিতিকে যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে জল নামতে সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে আপৎকালীন ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জল নিষ্কাশন ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
এর পরেই ভূতনির মানুষের জন্য অতিরিক্ত ৫ কোটি টাকা ত্রাণ তহবিলে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা হয়েছে।
পরিস্থিতির উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেচ দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকদের নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। কোথাও নতুন করে জল ঢুকছে কি না, নদীর জলস্তর কী অবস্থায় রয়েছে এবং কোন এলাকা থেকে দ্রুত জল সরানো সম্ভব—এই বিষয়গুলির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশের আশা, শুক্রবার থেকে ভূতনিতে জলস্তর কিছুটা কমতে পারে। তবে জল কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। কারণ বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ সময় জলমগ্ন থাকলে রাস্তা, কৃষিজমি এবং বসতবাড়ির পাশাপাশি পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এই কারণেই শুধু উদ্ধারকাজ নয়, বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও আগাম পরিকল্পনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জল নেমে যাওয়ার পরে যাতে দূষিত জল থেকে সংক্রমণ বা বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভূতনির পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে রাজ্যের প্রতিনিধি দলের আধিকারিকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, রতুয়ার তুলনায় ভূতনির পরিস্থিতি বেশি জটিল। বহু বছর ধরে এমন মাত্রার বন্যার মুখোমুখি হয়নি এই এলাকার মানুষ। ফলে স্থানীয় পরিকাঠামোর উপরেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ইতিমধ্যেই উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরেও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। দুর্গত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, ত্রাণশিবিরে পরিষেবা নিশ্চিত করা এবং জরুরি প্রয়োজনে নৌকা ব্যবহার—সব দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জমে থাকা জল দ্রুত নামানো। কোথা দিয়ে জল বের করা সম্ভব, কোথায় নতুন করে বাঁধ বা জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং কোন এলাকায় আগে কাজ করতে হবে—এই সব বিষয় নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।
অর্থাৎ, ভূতনির বন্যা পরিস্থিতিতে আপাতত ত্রাণ, উদ্ধার এবং জল নিষ্কাশন—এই তিন ক্ষেত্রেই জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী কয়েক দিন নদীর জলস্তর ও বৃষ্টিপাতের গতিপ্রকৃতির উপরই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
নোট: ৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দের নির্দিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি/আদেশটি আমি যে অনলাইন সূত্রে পেয়েছি, সেখানে আলাদাভাবে যাচাই করতে পারিনি। তাই প্রকাশের আগে সরকারি নথি বা প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই অঙ্কটি একবার মিলিয়ে নেওয়া ভালো। ভূতনির বন্যা পরিস্থিতি যে গুরুতর, তা সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments