Homeদেশ২০৩০-এর আগে বদলে যাবে ভারতের শিল্প, বড় রিপোর্ট Jefferies-এর

২০৩০-এর আগে বদলে যাবে ভারতের শিল্প, বড় রিপোর্ট Jefferies-এর

নিউজ ডেস্ক: ভারতের অর্থনীতিতে দ্রুত বদল আসছে। মহাকাশ থেকে সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সেন্টার থেকে সৌরশক্তি—একাধিক নতুন শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ছে। এই পরিবর্তনকে ‘ভারতের নতুন শিল্পবিপ্লব’ (India’s New
resizeplus_ChatGPT Image Sep 10, 2026, 03_39_08 PM

নিউজ ডেস্ক: ভারতের অর্থনীতিতে দ্রুত বদল আসছে। মহাকাশ থেকে সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা সেন্টার থেকে সৌরশক্তি—একাধিক নতুন শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ছে। এই পরিবর্তনকে ‘ভারতের নতুন শিল্পবিপ্লব’ (India’s New Industrial Revolution) হিসেবে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক Jefferies। ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তাদের একটি রিপোর্টে ভারতের শিল্প ও প্রযুক্তি পরিকাঠামোর আগামী দিনের সম্ভাবনার বিস্তারিত ছবি তুলে ধরা হয়েছে।

রিপোর্টটির মূল বক্তব্য, ভারতের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল পরিষেবা, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারের ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা মিলেই নতুন শিল্পক্ষেত্রগুলির ভিত শক্ত করছে। শুধু প্রচলিত উৎপাদন নয়, আগামী কয়েক বছরে মহাকাশ, চিপ উৎপাদন, ডেটা সেন্টার, ইলেকট্রনিক্স, সৌরশক্তি এবং অ্যারোস্পেসের মতো ক্ষেত্রও ভারতের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে Jefferies।

মহাকাশে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশ

একসময় মহাকাশ গবেষণা মূলত সরকারি সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে বেসরকারি সংস্থার জন্য এই ক্ষেত্র খুলে দেওয়ার পর ছবিটা দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে একাধিক ভারতীয় স্টার্টআপ। স্কাইরুট কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে এগিয়েছে। পিক্সেল তৈরি করছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ। অগ্নিকুল কাজ করছে 3D-প্রিন্টেড রকেট ইঞ্জিন নিয়ে। অন্যদিকে দিগন্তর মহাকাশে নজরদারি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি তৈরিতে নজর দিচ্ছে।

অর্থাৎ মহাকাশ শিল্পে ভারতের ভূমিকা শুধু উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মধ্যে আটকে না থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি শিল্প-পরিবেশের দিকে এগোচ্ছে।

সেমিকন্ডাক্টরে বদলের শুরু

বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে ভারত। Jefferies-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই খাতে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হচ্ছে। দেশে চিপ তৈরির কারখানা এবং একাধিক OSAT প্রকল্পের কাজও এগোচ্ছে।

আগামী দিনে আরও প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের অনুমোদন ও প্রণোদনা এই শিল্পকে গতি দিতে পারে। এর ফলে শুধু চিপ উৎপাদন নয়, ডিজাইন, প্যাকেজিং এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতেও ভারতের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই ক্ষেত্রের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। দক্ষ কর্মীর অভাব, জটিল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এখনও বড় বাধা।

ডেটা সেন্টারে বড় উত্থান

ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতে দ্রুত বাড়ছে ডেটা সেন্টারের চাহিদা। গত পাঁচ বছরে দেশের ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে ২ গিগাওয়াট (GW) হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্লাউড পরিষেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল লেনদেন এবং দেশে তথ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। Jefferies-এর অনুমান, আগামী পাঁচ বছরে ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা আরও পাঁচ গুণ বেড়ে প্রায় ১০ GW হতে পারে।

শুধু ডেটা সেন্টার নির্মাণ নয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কুলিং সিস্টেম, নেটওয়ার্ক এবং নির্মাণ পরিকাঠামোতেও বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। রিপোর্টে এই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।

মোবাইল জোড়া নয়, এবার যন্ত্রাংশও তৈরি হবে দেশে

ভারতের ইলেকট্রনিক্স শিল্পও বড় পরিবর্তনের মুখে। এতদিন দেশে মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য অ্যাসেম্বলিংয়ের উপর বেশি জোর থাকলেও এখন লক্ষ্য, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের বড় অংশই দেশীয়ভাবে তৈরি করা।

ECMS এবং MPMS-এর মতো সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে। Jefferies-এর হিসাব অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশের মোট মূল্যের প্রায় ৫০ শতাংশ ভারতে তৈরি হতে পারে। বর্তমানে এই হার ২০ শতাংশের নিচে।

এর ফলে PCB বা সার্কিট বোর্ড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

সৌরশক্তিতেও ভারতের বড় লক্ষ্য

সৌরশক্তির ক্ষেত্রেও ভারত দ্রুত নিজের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। রিপোর্টে ভারতকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সৌর PV নির্মাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশে প্রায় ৩৫ GW সৌর সেল উৎপাদন ক্ষমতা চালু রয়েছে এবং আরও প্রায় ১০০ GW ক্ষমতা তৈরির কাজ এগোচ্ছে।

ALMM, দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ এবং PLI-এর মতো সরকারি নীতির ফলে সৌরশিল্পে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ছে। ভবিষ্যতে সেল, ওয়েফার এবং ইনগট উৎপাদনেও ভারতের সক্ষমতা বাড়তে পারে।

অ্যারোস্পেস শিল্পেও বড় সম্ভাবনা

বিশ্বে বিমানের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ এবং দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মী ভারতের অ্যারোস্পেস শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।

Boeing ও Airbus ইতিমধ্যেই ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ ও পরিষেবা নিচ্ছে। Aequs, Azad, BHFC, DYTC, RW, Motherson এবং Sansera-র মতো সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বিমান নির্মাণ শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

২০৩০-এর আগে কোথায় পৌঁছতে পারে ভারত?

Jefferies-এর রিপোর্টের ছবিটা মোটের উপর স্পষ্ট—ভারতের পরবর্তী শিল্প বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হতে পারে উচ্চ প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং দেশীয় উৎপাদন। মহাকাশ অর্থনীতির আকার বাড়ানো, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ১০ GW ডেটা সেন্টার ক্ষমতা, ইলেকট্রনিক্সের স্থানীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং সৌরশিল্পে আরও বেশি আত্মনির্ভরতা—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক বছরে ভারতের শিল্প কাঠামো বদলে যেতে পারে।

তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগের গতি, দক্ষ কর্মী তৈরি, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের উপর। Jefferies-এর রিপোর্ট সেই সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে—ভারতের শিল্প অর্থনীতি এবার শুধু বড় হওয়ার নয়, আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে ওঠার পথে।

No Comments

তাজা খবর

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved