Homeদার্জিলিংশিলিগুড়িশিলিগুড়িতে নির্মাণ সংস্থার গুদামে ভয়াবহ আগুন

শিলিগুড়িতে নির্মাণ সংস্থার গুদামে ভয়াবহ আগুন

নিউজ ডেস্ক; নির্মাণ সংস্থার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়িতে। মঙ্গলবার ভালোবাসা মোড় এলাকার একটি গুদামে আচমকাই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আগুনের
resizeplus_Screenshot 2026-09-08 173524_edited

নিউজ ডেস্ক; নির্মাণ সংস্থার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল শিলিগুড়িতে। মঙ্গলবার ভালোবাসা মোড় এলাকার একটি গুদামে আচমকাই আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আগুনের তীব্রতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুদামের আশপাশে বসতিপূর্ণ এলাকা থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। প্রথমে দু’টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে নামে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। দীর্ঘক্ষণ ধরে গুদামের ভিতরে আগুন জ্বলতে থাকায় এলাকায় আতঙ্ক আরও বাড়তে থাকে। ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায় স্থানীয়দের। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকেও সক্রিয় হতে হয়।

কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভালোবাসা মোড়ের ওই গুদামে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী মজুত ছিল। মঙ্গলবার আচমকা গুদামের ভিতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। আগুনের লেলিহান শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়া দেখে আশপাশের মানুষজন গুদামের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন।

অনেকেই নিরাপত্তার কারণে নিজেদের বাড়ি ও দোকান থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা ছিল, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে তা পাশের বাড়ি, দোকানপাট এবং অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে গুদামের চারপাশে জনবসতি থাকায় উদ্বেগ বাড়ে।

দমকলের প্রাথমিক দু’টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে নামলেও আগুনের তীব্রতার কারণে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি বুঝে আরও প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গুদামের ভিতরে কোনও অংশে আগুন বা ধোঁয়া রয়ে গিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দমকলকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন।

দমকলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগায় দমকল বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তা নেভাতে যথেষ্ট সময় লেগেছে। এর ফলে আশপাশের বসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডের সময় গুদামের কাছাকাছি থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, আগুনের তীব্রতা দেখে তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত বলেও দাবি করেন তাঁরা।

এক সময় দমকলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, আগুন লাগার পর দ্রুত পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও আগে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হত। যদিও দমকলের তরফে এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

আগুনের কারণ এখনও অজানা

ঠিক কী কারণে ওই গুদামে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে কোনও বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

গুদামের ভিতরে নির্মাণসামগ্রী ছাড়াও আর কী কী জিনিস মজুত ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ। দাহ্য পদার্থ বা সহজে আগুন ধরে যায় এমন কোনও সামগ্রী সেখানে রাখা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

আগুনে গুদামের কতটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কত পরিমাণ সামগ্রী পুড়ে গিয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত—তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। গুদাম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

তদন্তে একাধিক প্রশ্ন

অগ্নিকাণ্ডের পর গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়ম মেনে করা হয়েছিল কি না, গুদামে সামগ্রী মজুতের ক্ষেত্রে কোনও বিধি লঙ্ঘন হয়েছিল কি না—এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও দমকল বিভাগের তদন্তে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, গুদামটি অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলত কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হতে পারে। আপাতত ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা এখনও কাটেনি।

No Comments

তাজা খবর

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved