Homeপশ্চিম বর্ধমানদুর্গাপুরদুর্গাপুরে সাইবার প্রতারণার অভিযোগ, ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ লক্ষ টাকা গায়েব

দুর্গাপুরে সাইবার প্রতারণার অভিযোগ, ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ লক্ষ টাকা গায়েব

নিউজ ডেস্ক; দুর্গাপুরে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিউ টাউনশিপ থানা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী প্রবুদ্ধ ঘোষের অভিযোগ, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাস
resizeplus_Screenshot 2026-09-08 162201_edited (1)

নিউজ ডেস্ক; দুর্গাপুরে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিউ টাউনশিপ থানা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী প্রবুদ্ধ ঘোষের অভিযোগ, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রথমে ফোন এসেছিল বলে দাবি তাঁর। তবে কোনও ওটিপি না দেওয়া সত্ত্বেও কী ভাবে টাকা গায়েব হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের ভয় দেখিয়ে ফোন

প্রবুদ্ধ ঘোষ জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে তাঁর কাছে একাধিক ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, রান্নার গ্যাসের সংযোগ এবং বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই ধরনের হুমকির সঙ্গে সাধারণত ওটিপি চাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তাঁর অভিযোগ, ফোনে তাঁর কাছ থেকেও ওটিপি চাওয়া হয়েছিল।

তবে ওটিপি দিলে প্রতারণার শিকার হতে পারেন, এই আশঙ্কায় তিনি কোনও ওটিপি দেননি বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের ফোন পাওয়ার পরে তিনি সতর্ক ছিলেন। কিন্তু তার পরেও যে ভাবে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে গেল, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

ব্যাঙ্কের পরামর্শের পরেই টাকা গায়েব?

প্রবুদ্ধের অভিযোগ, সোমবার সকালে তিনি ব্যাঙ্কে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। ব্যাঙ্কের তরফে তাঁকে দ্রুত ব্যাঙ্কের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর। সেই পরামর্শ মেনে নম্বর পরিবর্তন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে যায় বলে অভিযোগ।

এই ঘটনার পরই ব্যাঙ্কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই ব্যবসায়ী। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় ব্যাঙ্কের কর্মীরাও জড়িত থাকতে পারেন। যদিও তাঁর এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

প্রবুদ্ধ জানিয়েছেন, তিনি নিউ টাউনশিপ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। কী ভাবে টাকা স্থানান্তরিত হল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং প্রতারণার পদ্ধতিই বা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

হোটেলের ঘরে বসে প্রতারণার অভিযোগ, গ্রেপ্তার চার

অন্য দিকে, দুর্গাপুরেই সাইবার প্রতারণার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোক ওভেন থানার পুলিশ। অভিযোগ, হোটেলের ঘরে বসে দেশের নানা প্রান্তের মানুষকে ফোন করে ওটিপি এবং কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারণা চালাত অভিযুক্তরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সুরেন্দ্র দাস, জিতেন্দ্র কুমার দাস, শচিন দাস এবং গণেশ সর্দার। প্রত্যেকেই ঝাড়খণ্ডের মধুপুরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন সাধুডাঙা এলাকায় একটি হোটেলের ঘর ভাড়া নিয়ে এই চক্র চলত বলে অভিযোগ।

তল্লাশিতে হোটেলের ঘর থেকে বেশ কিছু সিম কার্ড এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই সরঞ্জামগুলি কী ভাবে ব্যবহার করা হত, কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং প্রতারণার মাধ্যমে কত টাকা হাতানো হয়েছে, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।

জামতাড়া-যোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ধৃতদের সঙ্গে জামতাড়া গ্যাংয়ের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে সেই যোগের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি। পুলিশ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণার পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

দুর্গাপুরের এই দুই ঘটনায় এক দিকে যেমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, অন্য দিকে তেমনই একটি চক্রের বিরুদ্ধে ফোন করে ওটিপি ও কার্ডের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে সাইবার প্রতারণা নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে পুলিশ।

সতর্ক থাকার পরামর্শ

সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে অপরিচিত ফোনে ব্যাঙ্কের তথ্য, কার্ডের নম্বর, পিন বা ওটিপি না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের ভয় দেখিয়ে কেউ ফোন করলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করা উচিত। কোনও সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা বা ফোনে বলা মতো ব্যাঙ্কের তথ্য পরিবর্তন করার আগে বিষয়টি যাচাই করাও জরুরি।

তবে প্রবুদ্ধ ঘোষের ক্ষেত্রে ওটিপি না দেওয়ার পরেও কী ভাবে টাকা গায়েব হল, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যাঙ্কের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন, নম্বর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তরের সময়ের তথ্য খতিয়ে দেখলেই ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

No Comments

তাজা খবর

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved