Homeপূর্ব মেদিনীপুরহলদিয়াসুতাহাটা সিডিকুকড়াহাটিতে ২০০ কোটির জাহাজ কারখানা, কর্মসংস্থানের নতুন আশায় মতিরামপুর

কুকড়াহাটিতে ২০০ কোটির জাহাজ কারখানা, কর্মসংস্থানের নতুন আশায় মতিরামপুর

নিউজ ডেস্ক; হুগলি নদীর তীরে পূর্ব মেদিনীপুরের কুকড়াহাটি এলাকার মতিরামপুরে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতির নতুন কারখানার পথচলা শুরু হল। সোমবার প্রকল্পের শিলান্যাস করেন হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপকুমার বিজলী। ‘সি মেলোডি শিপ
resizeplus_Screenshot 2026-09-08 172656_edited

নিউজ ডেস্ক; হুগলি নদীর তীরে পূর্ব মেদিনীপুরের কুকড়াহাটি এলাকার মতিরামপুরে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতির নতুন কারখানার পথচলা শুরু হল। সোমবার প্রকল্পের শিলান্যাস করেন হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপকুমার বিজলী। ‘সি মেলোডি শিপ ইয়ার্ড’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এই প্রকল্প গড়ে তুলতে চলেছে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ একর জায়গা জুড়ে তৈরি হবে কারখানা। সেখানে থাকবে ড্রাই ডক। সব কিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী ছ’মাসের মধ্যে মতিরামপুরে জাহাজ তৈরির কাজ শুরু হতে পারে।

নতুন এই প্রকল্প ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের আশা তৈরি হয়েছে। কারণ, জাহাজ তৈরি ও মেরামতির মতো শিল্পকে কেন্দ্র করে শুধু মূল কারখানাতেই নয়, আশপাশের এলাকাতেও নানা ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কারিগরি কর্মী, পরিবহণকর্মী, সরবরাহকারী, ছোট ব্যবসায়ী—বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা বলছেন উদ্যোক্তারা।

১২ একর জমিতে ড্রাই ডক, বছরে চার থেকে ছ’টি জাহাজ তৈরির লক্ষ্য

সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মতিরামপুরের এই প্রকল্পে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি মেরামতির ব্যবস্থাও থাকবে। ড্রাই ডক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বছরে চার থেকে ছ’টি জাহাজ নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে পরিকাঠামো তৈরির কাজ শেষ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা জরুরি।

সংস্থার ম্যানেজার পিন্টু হালদার বলেন, “এখন পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ছয় মাস পরে মতিরামপুর কারখানায় জাহাজ তৈরি শুরু হবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আপাতত প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ চলছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

“কারখানাকে ঘিরে আরও ছোট শিল্প গড়ে উঠবে”

প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপকুমার বিজলী বলেন, “কুকড়াহাটিতে জাহাজ নির্মাণ এবং মেরামতির কারখানা গড়ে উঠতে চলেছে। এটা আমাদের কাছে খুশির খবর। এই কারখানাকে ঘিরে আরও বেশ কিছু ছোটখাটো শিল্প গড়ে উঠবে। দোকানপাট বসবে। সব মিলিয়ে মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।”

বিধায়কের বক্তব্যে স্থানীয় অর্থনীতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিকটি উঠে এসেছে। একটি বড় শিল্পপ্রকল্প চালু হলে তার সঙ্গে যুক্ত পরিষেবা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন ব্যবসার পরিসরও বাড়তে পারে। ফলে কুকড়াহাটি ও আশপাশের এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে কারখানার কাজ কত দ্রুত এগোয়, উৎপাদন কবে শুরু হয় এবং কত সংখ্যক স্থানীয় মানুষ কাজের সুযোগ পান, তার উপর।

এক বছর আগে উদ্যোগ, এ বার শিলান্যাস

জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে এই প্রকল্প গড়ার উদ্যোগ নেয় শিল্প সংস্থাটি। সেই সময়ে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় ছিল। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুমন ভট্টাচার্য বলেন, “তৎকালীন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা রকম চাপের কারণে আমরা এগোতে পারিনি। পূর্ব ভারতে এটি একটি ড্রিম প্রজেক্ট। প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে এখানে।”

তাঁর বক্তব্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে আগের সময়ের কিছু সমস্যার কথা উঠে এসেছে। যদিও সেই অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। এ বার প্রকল্পের শিলান্যাস হওয়ায় সংস্থার পরিকল্পনা বাস্তবে এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

শিল্পের সঙ্গে বদলাতে পারে এলাকার অর্থনীতি

কুকড়াহাটি ও মতিরামপুরের মতো নদীতীরবর্তী এলাকায় জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতির কারখানা গড়ে ওঠার ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। জাহাজ তৈরির কাজে বিভিন্ন ধরনের দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি যন্ত্রাংশ, নির্মাণসামগ্রী, পরিবহণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিষেবারও চাহিদা তৈরি হতে পারে।

এই ধরনের প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা গেলে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে। তবে সে বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা জানানো হয়নি। আপাতত মূল লক্ষ্য পরিকাঠামো তৈরি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু করা।

ছ’মাসের লক্ষ্যে নজর

‘সি মেলোডি শিপ ইয়ার্ড’-এর প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ১২ একর জায়গায় ড্রাই ডক-সহ কারখানা তৈরি হবে। বছরে চার থেকে ছ’টি জাহাজ নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। আর ছ’মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সংস্থার ম্যানেজার।

ফলে এখন নজর পরিকাঠামো তৈরির কাজের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ শেষ হলে মতিরামপুরে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। আর সেই সঙ্গে কুকড়াহাটিতে কর্মসংস্থান ও ছোট ব্যবসার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয় মানুষ ও উদ্যোক্তারা।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved