Homeরাজ্যভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ? রেশন কার্ড যাচাইয়ে গতি বাড়াতে চায় খাদ্য দপ্তর

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ? রেশন কার্ড যাচাইয়ে গতি বাড়াতে চায় খাদ্য দপ্তর

নিউজ ডেস্ক; পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের রেশন কার্ড যাচাই করে বাতিল বা
resizeplus_Screenshot 2026-09-04 110724_edited

নিউজ ডেস্ক; পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের রেশন কার্ড যাচাই করে বাতিল বা নিষ্ক্রিয় করার কাজে আরও গতি আনতে চাইছে রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর। দপ্তরের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় মাত্র ১৮.৫৬ শতাংশ কার্ড বাতিল বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আধিকারিকদের মতে, এই হার সন্তোষজনক নয়। ফলে বাকি কার্ডগুলির স্টেটাস খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

তবে এই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এসেছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেও যাঁরা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে? বিশেষ করে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রেশন কার্ডের সুবিধা বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদের সামাজিক প্রকল্প বা অন্য কোনও সরকারি সুবিধের উপভোক্তা হিসেবে রাখা হবে না। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই রেশন কার্ডের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে দপ্তর সূত্রে খবর। তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া এবং রেশন কার্ডের বৈধতা—এই দুই বিষয়কে এক করে দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বাদ পড়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম

সার প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত এবং মৃত—এই তিনটি কারণে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর পাশাপাশি, ‘অ্যাজুডিকেশন’ পর্বে বাদ যাওয়া প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের আবেদন অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। কমিশনের তরফে আরও বেশ কয়েক লক্ষ ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার আবেদনও ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছে। সব মিলিয়ে বিচারাধীন আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৩৮ লক্ষ বলে জানা গিয়েছে।

প্রথম দিকে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, ট্রাইব্যুনালে যাঁদের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের নাম সামাজিক প্রকল্পের উপভোক্তার তালিকা থেকে আপাতত বাদ দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই অবস্থানের পাশাপাশি তাঁদের রেশন কার্ডের বর্তমান স্টেটাসও জানতে চাইছে খাদ্য দপ্তর। অর্থাৎ, কোনও কার্ড আগে থেকেই বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

আগেই নিষ্ক্রিয় বহু কার্ড

খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, যাচাইয়ের সময় দেখা যাচ্ছে, সার প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া বহু ব্যক্তির রেশন কার্ড আগেই বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর নথি জমা পড়া এবং দীর্ঘদিন রেশন না তোলার মতো কারণের ভিত্তিতে আগেও কার্ড নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া চালু ছিল। সেই পুরনো প্রক্রিয়ার সঙ্গে বর্তমান ভোটার তালিকা সংশোধনের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, ২০২১ সালের পর থেকে এই প্রক্রিয়ায় দেড় কোটিরও বেশি রেশন কার্ড বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হয়েছে। এ বার ভোটার তালিকা থেকে নাম বিয়োজনের ভিত্তিতে নতুন করে আরও এক দফা রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু হয়েছে। ফলে, একই ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা এবং রেশন কার্ডের তালিকায় রয়েছে কি না, সেই তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে দেখাই এখন দপ্তরের অন্যতম লক্ষ্য।

ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কী নির্দেশ?

খাদ্য দপ্তরের জুন মাসের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাঁরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র আওতায় আবেদন করেছেন, অথবা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের রেশন কার্ড আপাতত চালু থাকবে। অর্থাৎ, বিচারাধীন আবেদনের ক্ষেত্রে সরাসরি কার্ড বাতিল না করে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করার পথেই এগোতে চাইছে দপ্তর।

এই নির্দেশিকার ফলে এক দিকে যেমন ভোটার তালিকা সংশোধনের তথ্যের সঙ্গে রেশন কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজ চলবে, অন্য দিকে তেমনই বিচারাধীন আবেদনকারীদের কার্ডের বিষয়ে আপাতত একটি সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকছে। তবে আবেদনগুলির নিষ্পত্তির পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রেশন কার্ডের স্টেটাস কী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।

বৈধ গ্রাহক যাতে বঞ্চিত না হন

রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ‘‘কোনও বৈধ রেশন গ্রাহক যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই অ্যাজুডিকেশনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের কার্ড বিশেষ ভাবে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।’’

রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত মহলের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের কারণে নাম বাদ পড়া এবং রেশন কার্ডের বৈধতা যাচাই—দুই প্রক্রিয়াই অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, কোনও ব্যক্তির কার্ড নিষ্ক্রিয় হলে তাঁর খাদ্যসুরক্ষার উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। তাই কার্ড বাতিল বা নিষ্ক্রিয় করার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্যের যথার্থতা যাচাই করা প্রয়োজন।

এখন খাদ্য দপ্তরের সামনে মূলত দু’টি কাজ। প্রথমত, সার প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ব্যক্তিদের রেশন কার্ডের বর্তমান অবস্থা নির্ধারণ করা। দ্বিতীয়ত, ট্রাইব্যুনালে আবেদন বিচারাধীন থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নির্দেশিকা অনুযায়ী কার্ড চালু রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে কত দ্রুত যাচাইয়ের কাজ শেষ করা যায়, সেটিই এখন দেখার।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved