
নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনজীবন ও নেতৃত্বের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে মাসব্যাপী একাধিক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রস্তাবিত ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। এই সময়কালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সমাজসেবা, সচেতনতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করার মতো নানা কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচিগুলির মূল ভাবনায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির জনসেবার দীর্ঘ পথচলা এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে মানুষের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়া। বুথ স্তর থেকে শুরু করে স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির শেষ দিন, অর্থাৎ ১৭ অক্টোবর, বড় আকারের ‘জনসেবক মহাকুম্ভ’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই বিশেষ অভিযানের অন্যতম কর্মসূচি হতে চলেছে ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’। বুথে বুথে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু রাজনৈতিক কর্মী বা সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে কর্মসূচিকে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষকেও এর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে বলে আয়োজকদের পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে।
এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্কুলে পড়ুয়াদের নিয়ে আয়োজন করা হবে অঙ্কন ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। ভবিষ্যতের ভারতকে নিয়ে শিশু-কিশোরদের ভাবনা কী, তা সামনে আনাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রদত্ত কর্মসূচির বিবরণে এই অংশের জন্য ‘২৫ কোটি শিশুর স্বপ্নের ভারত’ ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে পরে দেওয়া তালিকায় একই কর্মসূচির ক্ষেত্রে ‘৫ কোটি শিশুর স্বপ্নের ভারত’ উল্লেখ রয়েছে। ফলে শিশুর সংখ্যার বিষয়ে আয়োজকদের চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশের পরই সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হবে। আপাতত মূল লক্ষ্য হিসেবে শিশুদের ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে ভাবনা ও সৃজনশীলতাকে সামনে আনার বিষয়টিই স্পষ্ট।
শুধু বক্তৃতা বা প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকছে না। গ্রাম এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় ‘নমো সেবা গাথা’ নামে পথনাটক বা নুক্কড় নাটক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় মানুষের সামনে সহজ ভাষায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে পথনাটক বরাবরই কার্যকর মাধ্যম। সেই মাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর জনসেবা, বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ ভারতের ভাবনা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকেও এই মাসব্যাপী কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে মা এবং শিশুদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অঙ্গন কা উৎসব’ বা ‘অঙ্গন উৎসব’।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে মা ও শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে সচেতনতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ‘কাহানি বদলাও কি’। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে যাঁদের জীবনে পরিবর্তন এসেছে, তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, তাঁদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং সেই পরিষেবা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে কী প্রভাব ফেলেছে—এই ধরনের গল্পের মাধ্যমে সরকারি উদ্যোগের প্রভাব তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাসব্যাপী কর্মসূচিতে একাধিক যাত্রারও পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’ এবং ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’।
বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য ‘বডনগর থেকে বারাণসী—জল, জন ও সেবা সংকল্প যাত্রা’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ও জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই স্থানকে সংযোগ করে এই যাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে কর্মসূচির তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।
যাত্রাপথে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে বার্তা দেওয়া এবং সেবামূলক কাজের সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নাগরিকদের সরাসরি সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত করার জন্য রাখা হয়েছে ‘সেবা মেরা যোগদান’ কর্মসূচি। এর লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা।
এর পাশাপাশি থাকছে ‘সেবা সেতু অভিযান’। স্থানীয় স্তরে মানুষের সঙ্গে পরিষেবা ও সমাজসেবার যোগসূত্র আরও শক্তিশালী করার ভাবনা থেকেই এই ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মসূচির অংশ হিসেবে থাকছে ‘রঙ্গোলি রাষ্ট্র’। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রঙ্গোলির মাধ্যমে ভারতের বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যতের ভাবনাকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে সামনে আনতে আয়োজন করা হবে ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’। নতুন ভাবনা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা কী হতে পারে, সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই কর্মসূচিতে।
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি হবে ১৭ অক্টোবর। সেই দিন বড় আকারে ‘জনসেবক মহাকুম্ভ’ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ, এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট-বড় নানা কর্মসূচির পর শেষ দিনে একটি বৃহৎ সমাবেশের মাধ্যমে গোটা অভিযানের সমাপ্তি টানার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এ একদিকে যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনজীবনের ২৫ বছরের পর্বকে তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে, তেমনই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলের পড়ুয়া থেকে অঙ্গনওয়াড়ির মা-শিশু, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী থেকে সাধারণ নাগরিক—বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার ভাবনা রয়েছে।
তবে এই সমস্ত কর্মসূচির চূড়ান্ত সূচি, স্থান, অংশগ্রহণের পরিধি এবং অন্যান্য সাংগঠনিক বিবরণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঘোষণার উপর নির্ভর করবে। আপাতত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রস্তাবিত এই কর্মসূচিকে ঘিরেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments