Last updated: September 3rd, 2026 at 09:46 pm

নিউজ ডেস্ক; একটানা বৃষ্টি আর দীর্ঘদিন রাস্তা মেরামত না হওয়ার জেরে হাওড়া শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় যাতায়াত এখন রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির জল জমে সেই গর্তগুলি চোখে দেখা যাচ্ছে না। ফলে গাড়ি চালানোর সময় আচমকাই চাকা গর্তে ঢুকে যাচ্ছে। কোথাও বাইক আরোহী ভারসাম্য হারাচ্ছেন, কোথাও ছোট গাড়ির চাকা আটকে তৈরি হচ্ছে যানজট। রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
হাওড়া ব্রিজের সামনের রাস্তা, যা শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত, সেখানেও একাধিক জায়গায় গভীর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্যাক্সি, টোটো, ছোট চারচাকা গাড়ি, বাইক এবং সাইকেল এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু রাস্তার গর্তের কারণে যানবাহনের গতি কমাতে বাধ্য হচ্ছেন চালকেরা। বিশেষ করে বৃষ্টির সময়ে গর্তে জল জমে যাওয়ায় কোন জায়গায় রাস্তা ভাঙা রয়েছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে।
চালকদের অভিযোগ, হাওড়া ব্রিজের মুখে গাড়ির গতি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে গোটা যান চলাচলে। হাওড়া স্টেশনে ঢোকার মুখে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। বৃষ্টি নামলেই সেই যানজট আরও তীব্র হচ্ছে। যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ছে। অফিসযাত্রী, দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রী এবং স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের অনেকেই সময়ের আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়েও যানজটে আটকে পড়ছেন।
শুধু হাওড়া ব্রিজের সামনের রাস্তা নয়, সালকিয়া, বেলগাছিয়া, কোনা, শিবপুর, মালিপাঁচঘড়া-সহ শহরের একাধিক এলাকাতেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও আবার রাস্তা কাটার পরে সেই অংশ সময়মতো মেরামত না করায় বৃষ্টির জল ঢুকে গর্ত আরও গভীর হয়েছে। দিনের বেলায় কোনও রকমে চালকেরা পরিস্থিতি সামলে নিলেও রাতের অন্ধকারে বিপদ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে বাইক ও সাইকেল আরোহীদের জন্য এই গর্তগুলি বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গর্তে চাকা আটকে হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাচ্ছেন অনেকে। পিছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কাও থাকছে। ছোট চারচাকা গাড়ির ক্ষেত্রেও গর্তে চাকা ঢুকে গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় গাড়ি রাস্তার মাঝখানেই দাঁড়িয়ে পড়ায় যানজট আরও বাড়ছে।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওড়া শহরের বহু এলাকায় জল জমে রয়েছে। বেশ কিছু বাড়ি, দোকান এবং কারখানার ভিতরেও নোংরা জল ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ। জলমগ্ন রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন সমস্যায় পড়ছেন, তেমনই ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরাও। কারখানায় জল ঢোকার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দোকানে জল ঢুকে নষ্ট হচ্ছে পণ্যসামগ্রী। বহু পরিবারকে ঘরের ভিতর জমে থাকা জল সরিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখার চেষ্টা করতে হচ্ছে।
জল জমা রাস্তায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন টোটোচালকেরা। তাঁদের বক্তব্য, যাত্রী নিয়ে গর্তের উপর দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এক টোটোচালকের কথায়, রাস্তার গর্ত এতটাই গভীর যে তার উপর দিয়ে গেলে গাড়ি উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা ধীরে গাড়ি চালাচ্ছেন। কিন্তু গতি কমালে যাত্রাপথে সময় বেড়ে যাচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় গর্ত এড়াতে গিয়ে রাস্তার অন্য অংশে যানজট তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধারণত বর্ষা শুরুর আগে রাস্তার গর্ত মেরামত করা হয়। কিন্তু এ বার বহু এলাকায় সেই কাজ হয়নি। ফলে বর্ষার প্রথম দিকের বৃষ্টিতেই পিচ উঠে গিয়ে রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়েছে। তার পরে টানা বৃষ্টিতে গর্তে জল জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তা খোঁড়ার পরে মেরামতির কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানেও জল জমে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানিয়েছেন, শহরের রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। তাঁর দাবি, হাওড়া শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ রাস্তা মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে বাস, স্কুলগাড়ি-সহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্ষার কারণে এই মুহূর্তে বড় আকারে রাস্তা মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। আপাতত প্যাচ-ওয়ার্ক করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বর্ষা শেষ হলেই পূর্ণাঙ্গ মেরামতির কাজ শুরু হবে বলে তাঁর দাবি। সেই কাজের জন্য এস্টিমেট তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, বর্ষা শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত সাধারণ মানুষ কী ভাবে এই বিপজ্জনক রাস্তায় চলাচল করবেন? তাঁদের দাবি, অন্তত বড় গর্তগুলিতে দ্রুত অস্থায়ী মেরামতি, সতর্কতামূলক বোর্ড এবং পর্যাপ্ত আলো বসানো হোক। বিশেষ করে হাওড়া ব্রিজের মুখ, স্টেশন সংলগ্ন এলাকা এবং রাতের দিকে দুর্ঘটনাপ্রবণ রাস্তাগুলিতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ রাস্তার গর্ত শুধু যানজটের সমস্যা নয়, তা এখন মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments