Homeমালদাফের আকাশপথে মালদা! ‘উড়ান’-এর আওতায় বিমানবন্দর চালুর তৎপরতা, পরিকাঠামো খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক

ফের আকাশপথে মালদা! ‘উড়ান’-এর আওতায় বিমানবন্দর চালুর তৎপরতা, পরিকাঠামো খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক

নিউজ ডেস্ক; দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে থাকা মালদা বিমানবন্দর ফের চালুর উদ্যোগ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের
resizeplus_Screenshot 2026-09-02 174411_edited

নিউজ ডেস্ক; দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে থাকা মালদা বিমানবন্দর ফের চালুর উদ্যোগ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় মালদা থেকে বিমান পরিষেবা চালু করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে বুধবার সকালে বিমানবন্দরের পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। বিমানবন্দর চত্বরেই পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং পরিষেবা চালুর সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন বিধায়ক।

বুধবার বিমানবন্দর পরিদর্শনের আগে থেকেই প্রশাসনিক মহলে এই নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছিল। বিধায়ক জানিয়েছেন, বিমান পরিষেবা দ্রুত চালু করার বিষয়ে পরিবহণ দফতরের বৈঠকেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে বিমানবন্দরের বর্তমান পরিকাঠামো বাস্তবে কতটা প্রস্তুত, কোথায় কী ধরনের কাজ প্রয়োজন এবং পরিষেবা শুরু করতে গেলে প্রশাসনিক ভাবে আর কী কী পদক্ষেপ করতে হবে, তা সরেজমিনে দেখে নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অম্লান ভাদুড়ি বলেন, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কেন্দ্রের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় মালদা বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা চালু করাই লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর দ্রুত চালু করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবারের পরিদর্শনে জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলাশাসক-সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর চালু করতে গেলে পরিকাঠামোগত ভাবে কী কী প্রয়োজন, বর্তমান ব্যবস্থার কোথায় পরিবর্তন বা উন্নয়ন দরকার, সেই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ দিনের পরিদর্শনের রিপোর্ট ও পর্যবেক্ষণ পরিবহণ দফতরের বৈঠকে তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অম্লান ভাদুড়ির কথায়, বিমানবন্দরটি যত দ্রুত সম্ভব চালু করার জন্য একাধিক স্তরে কাজ এগোচ্ছে। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, খুব শীঘ্রই মালদা বিমানবন্দরকে ফের বিমান পরিষেবার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

মালদা বিমানবন্দর নিয়ে অবশ্য নতুন করে আলোচনা এই প্রথম নয়। জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ এই জেলায় নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালু করা হোক। কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মালদায় প্রতিদিন বহু মানুষ আসেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশাসনিক কাজ কিংবা পর্যটনের প্রয়োজনে জেলার সঙ্গে কলকাতা ও অন্যান্য শহরের যোগাযোগের প্রয়োজন রয়েছে। রেল ও সড়কপথের পাশাপাশি নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালু হলে সেই যোগাযোগ আরও দ্রুত এবং সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মালদা বিমানবন্দরের সঙ্গে পুরনো ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। আশির দশকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা সাংসদ গনি খান চৌধুরীর উদ্যোগে মালদায় বিমান পরিষেবা শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরিষেবা চালুর কিছু দিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবন্দরটি কার্যত নিয়মিত যাত্রী পরিষেবার বাইরে। মাঝে মধ্যে হেলিকপ্টার বা বিশেষ ধরনের উড়ান অবতরণ করলেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য নিয়মিত বিমান পরিষেবা আর চালু হয়নি।

ফলে এত বছর পর বিমানবন্দর ফের সক্রিয় করার উদ্যোগে স্বাভাবিক ভাবেই আশাবাদী মালদাবাসী। স্থানীয়দের বক্তব্য, বর্তমানে বিমানযাত্রা অনেকটাই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এসেছে। ব্যবসায়ী, সরকারি আধিকারিক, চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী রোগী ও তাঁদের পরিবার, পড়ুয়া কিংবা বিভিন্ন পেশার মানুষ—অনেকেরই দ্রুত যাতায়াতের প্রয়োজন হয়। মালদা থেকে কলকাতা বা দেশের অন্য শহরে যেতে বর্তমানে মূলত রেল ও সড়কপথের উপর নির্ভর করতে হয়। বিমান পরিষেবা চালু হলে সময় অনেকটাই বাঁচবে বলে তাঁদের আশা।

বিশেষ করে কলকাতার সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ তৈরি হলে মালদার মানুষের সুবিধা বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী মহলের একাংশ। একই সঙ্গে জেলার পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। মালদায় ঐতিহাসিক গৌড়, পাণ্ডুয়া-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা সহজে জেলায় পৌঁছতে পারলে স্থানীয় পর্যটন শিল্প, হোটেল ব্যবসা, পরিবহণ এবং ছোট ব্যবসার উপর তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে বিমানবন্দর চালুর ক্ষেত্রে শুধু রানওয়ে বা মূল বিমানবন্দর ভবন প্রস্তুত থাকলেই হবে না। যাত্রী নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় বিমানবন্দর পরিকাঠামো, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাত্রী ওঠানামার সুবিধা, বিমান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো-সহ একাধিক বিষয় নিশ্চিত করতে হয়। বুধবারের পরিদর্শনে সেই সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রের ‘উড়ান’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান যোগাযোগ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিমানযাত্রাকে আরও সহজলভ্য করা। সেই প্রকল্পের আওতায় মালদা বিমানবন্দরকে পুনরায় পরিষেবায় আনার উদ্যোগ সফল হলে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মালদা বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। যদিও বিমান পরিষেবা ঠিক কবে থেকে শুরু হবে, কোন সংস্থা বিমান চালাবে, প্রথম পর্যায়ে কোন কোন রুটে উড়ান চলবে—এসব বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বুধবারের পরিদর্শনের পর প্রশাসনিক বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই নজর মালদাবাসীর।

বিমানবন্দর চালু হলে শুধু যাত্রী পরিষেবাই নয়, জেলার অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হলে বাইরে থেকে বিনিয়োগকারী বা ব্যবসায়ীদের মালদায় আসার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে। চিকিৎসা বা জরুরি পরিষেবার প্রয়োজনে কলকাতা বা অন্য শহরে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিকল্প যোগাযোগ তৈরি হবে।

তবে অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয়দের প্রত্যাশার পাশাপাশি কিছুটা সংশয়ও রয়েছে। আশির দশকে পরিষেবা শুরু হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখনও অনেকের মনে রয়েছে। তাই এ বার পরিষেবা শুরু হলে তা যেন নিয়মিত এবং দীর্ঘমেয়াদি হয়, সেই দাবি উঠছে। শুধু উদ্বোধন করে কয়েক দিনের মধ্যে পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে কোনও লাভ হবে না বলেও মত স্থানীয়দের।

প্রশাসনের তরফে অবশ্য দ্রুত পরিষেবা চালুর বিষয়ে আশাবাদী বার্তাই দেওয়া হয়েছে। বুধবারের পরিদর্শনের পর পরিবহণ দফতরের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনার কথা জানিয়েছেন বিধায়ক। ফলে মালদা বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবা থেকে বঞ্চিত মালদা কি এ বার ফের আকাশপথে দেশের সঙ্গে যুক্ত হবে? বুধবারের প্রশাসনিক তৎপরতা সেই সম্ভাবনাই উস্কে দিয়েছে। এখন অপেক্ষা, পরিদর্শন ও বৈঠকের পর কত দ্রুত বাস্তব কাজ শুরু হয় এবং কবে সত্যিই মালদার মাটি থেকে নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান আকাশে উড়তে দেখা যায়।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved