
নিউজ ডেস্ক : জন্মাষ্টমী মানেই ঘরে ঘরে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা, উপবাস, পুজো আর নানা রকম ভোগের আয়োজন। কৃষ্ণভক্তদের কাছে এই দিনটি শুধু পুজোর উৎসব নয়, গোপালের পছন্দের খাবার দিয়ে তাঁকে ভোগ নিবেদনেরও বিশেষ দিন। কোথাও মাখন-মিছরি, কোথাও ক্ষীর, আবার কোথাও ধনিয়া পাঞ্জিরি কিংবা মোহনভোগ দিয়ে কৃষ্ণকে সন্তুষ্ট করার রীতি রয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যরাতে কৃষ্ণের জন্মক্ষণে পুজো করার পর ভোগ নিবেদনের রীতি বহু পরিবারে প্রচলিত। তাই এ বার জন্মাষ্টমীর পুজোয় বাজার থেকে মিষ্টি কিনে আনার বদলে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন গোপালের পছন্দের কয়েকটি সহজ পদ। খুব বেশি ঝামেলাও নেই। উপকরণও সাধারণত বাড়িতেই পাওয়া যায়।
জেনে নিন জন্মাষ্টমীর ভোগের জন্য পাঁচটি জনপ্রিয় পদ কী ভাবে তৈরি করবেন।
কৃষ্ণের সঙ্গে মাখনের সম্পর্কের কথা ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে আসছি। তাই জন্মাষ্টমীর ভোগের তালিকায় মাখন-মিছরি থাকবেই। এই ভোগ তৈরি করতে সময়ও লাগে না।
যা লাগবে:
কী ভাবে বানাবেন:
প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে ভালো মানের সাদা মাখন নিন। তার মধ্যে প্রয়োজনমতো মিছরি মিশিয়ে দিন। চাইলে মিছরিকে হালকা ভেঙে নিয়ে মাখনের সঙ্গে মেশাতে পারেন। এরপর ভোগের পাত্রে সাজিয়ে তার উপর একটি পরিষ্কার তুলসী পাতা দিতে পারেন।
জন্মাষ্টমীর পুজোয় এই মাখন-মিছরি ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়। পুজো শেষে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে ভাগ করে নিতে পারেন।
জন্মাষ্টমীর ভোগে ক্ষীরও অত্যন্ত জনপ্রিয়। দুধ, চাল এবং মিষ্টির উপকরণ দিয়ে তৈরি এই পদটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই উৎসবের ভোগের জন্য উপযুক্ত।
যা লাগবে:
কী ভাবে বানাবেন:
প্রথমে দুধ ভালো করে ফুটিয়ে নিন। ধোয়া চাল দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করতে থাকুন। চাল নরম হয়ে দুধ ঘন হতে শুরু করলে চিনি এবং প্রয়োজনমতো কনডেন্সড মিল্ক মেশান। এরপর এলাচের গুঁড়ো দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন।
ক্ষীর ঘন হয়ে এলে গ্যাস বন্ধ করে দিন। উপরে কুচোনো আমন্ড, কাজু এবং পেস্তা ছড়িয়ে সাজিয়ে নিন। ঠান্ডা বা হালকা গরম অবস্থায় ভোগ হিসেবে নিবেদন করতে পারেন।
জন্মাষ্টমীর বিশেষ ভোগের কথা উঠলে ধনিয়া পাঞ্জিরির নাম আলাদা করে উল্লেখ করতেই হয়। উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষ্ণপুজোয় এই পদ তৈরির প্রচলন রয়েছে। ধনিয়ার গুঁড়ো, ঘি, মিছরি এবং নানা রকম বাদাম দিয়ে খুব সহজেই এটি তৈরি করা যায়।
যা লাগবে:
কী ভাবে বানাবেন:
কড়াইয়ে সামান্য ঘি গরম করে ধনিয়ার গুঁড়ো দিয়ে হালকা আঁচে ভেজে নিন। ধনিয়ার গন্ধ বেরোতে শুরু করলে গ্যাস বন্ধ করে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। এবার ভাজা কাজু, আমন্ড ও কিশমিশ মিশিয়ে দিন। শেষে গুঁড়ো করা মিছরি দিয়ে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
ব্যস, তৈরি ধনিয়া পাঞ্জিরি। ভোগের পাত্রে সুন্দর করে সাজিয়ে কৃষ্ণকে নিবেদন করতে পারেন।
সুজি দিয়ে তৈরি মোহনভোগ অনেকটা সুজির হালুয়ার মতো হলেও এর স্বাদ ও সুগন্ধে রয়েছে উৎসবের আলাদা আমেজ। ঘি, দুধ, এলাচ, জাফরান এবং শুকনো ফল দিয়ে তৈরি এই পদ জন্মাষ্টমীর ভোগের জন্য বেশ জনপ্রিয়।
যা লাগবে:
কী ভাবে বানাবেন:
প্রথমে একটি পাত্রে দুধ, জল, চিনি, এলাচের গুঁড়ো এবং সামান্য জাফরান দিয়ে গরম করুন। চিনি সম্পূর্ণ গলে গেলে নামিয়ে রাখুন।
অন্য একটি কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে সুজি দিয়ে ধীরে ধীরে ভাজতে থাকুন। সুজির রং সামান্য বদলে গিয়ে সুন্দর গন্ধ বেরোলে আঁচ কমিয়ে দিন। এবার অল্প অল্প করে দুধের মিশ্রণ ঢালুন এবং একই সঙ্গে নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে গ্যাস বন্ধ করে কয়েক মিনিট ঢেকে রাখুন।
এর পর আলাদা করে সামান্য ঘিতে কাজু ও কিশমিশ ভেজে নিন। মোহনভোগের উপর সেগুলি ছড়িয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে জন্মাষ্টমীর বিশেষ ভোগ।
পুজোর সঙ্গে পঞ্চামৃতের সম্পর্ক বহু পুরনো। অনেক পরিবারে একে চরণামৃতও বলা হয়। পুজোর পর ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে এটি বিতরণ করা হয়। দুধ, দই, ঘি, মধু এবং গুড় দিয়ে খুব সহজেই পঞ্চামৃত তৈরি করা যায়।
যা লাগবে:
কী ভাবে বানাবেন:
একটি পরিষ্কার পাত্রে দুধ ও দই নিন। তার সঙ্গে অল্প ঘি, মধু এবং গুড় যোগ করুন। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিলেই তৈরি পঞ্চামৃত।
পুজোর রীতি অনুযায়ী এই পঞ্চামৃত কৃষ্ণের চরণস্নানের কাজে ব্যবহার করা হয় এবং পরে প্রসাদ হিসেবেও বিতরণ করা হয়। তবে কোন উপায়ে বা কী পরিমাণে নিবেদন করবেন, তা পরিবারের প্রচলিত পুজোর রীতি অনুযায়ী করা ভালো।
জন্মাষ্টমীর ভোগে পদ যতই থাকুক না কেন, তার মূল বিষয় হল ভক্তি ও নিষ্ঠা। তাই অনেক রকম রান্না করার প্রয়োজন নেই। মাখন-মিছরি, ক্ষীর, ধনিয়া পাঞ্জিরি, মোহনভোগ কিংবা পঞ্চামৃত—এর মধ্যে নিজের সুবিধামতো কয়েকটি পদ বাড়িতে তৈরি করেই গোপালের উদ্দেশে নিবেদন করতে পারেন।
উৎসবের দিনে বাড়িতে তৈরি ভোগের গন্ধে যেমন পরিবেশ আরও আনন্দমুখর হয়ে ওঠে, তেমনই পরিবারের সকলের সঙ্গে সেই প্রসাদ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেও থাকে জন্মাষ্টমীর আলাদা আনন্দ।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments