Homeদক্ষিণ ২৪ পরগনাডায়মন্ড হারবারকলকাতায় নমুনা পাঠানোর দিন শেষ? রায়দিঘিতে এআই-নির্ভর ল্যাব, ৩০ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টাতেই মিলবে প্যাথোলজি রিপোর্ট

কলকাতায় নমুনা পাঠানোর দিন শেষ? রায়দিঘিতে এআই-নির্ভর ল্যাব, ৩০ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টাতেই মিলবে প্যাথোলজি রিপোর্ট

নিউজ ডেস্ক : সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবায় এবার প্রযুক্তির নতুন সংযোজন। কলকাতার উপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় স্তরেই দ্রুত
images (10)

নিউজ ডেস্ক : সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবায় এবার প্রযুক্তির নতুন সংযোজন। কলকাতার উপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় স্তরেই দ্রুত প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রায়দিঘিতে। আর এই গোটা ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। উদ্যোক্তাদের দাবি, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে যে পরীক্ষার নমুনা কলকাতায় পাঠিয়ে রিপোর্ট পেতে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা, এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত, সেই রিপোর্ট এবার পাওয়া যাবে মাত্র ৩০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টার মধ্যে।

সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির একটি হল যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে রোগীর নমুনা সংগ্রহ করার পর অনেক সময় সেটি পরীক্ষার জন্য কলকাতা বা অন্য কোনও বড় শহরের ল্যাবরেটরিতে পাঠাতে হয়। নমুনা পাঠানো, যাতায়াত এবং পরীক্ষার পর রিপোর্ট ফেরত আসা—পুরো প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সময় লাগে। জরুরি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সেই অপেক্ষাই কখনও কখনও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

রায়দিঘিতে এআই-নির্ভর এই পরিষেবা চালু হলে সেই জায়গাতেই পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্তরা। তাঁদের বক্তব্য, স্থানীয়ভাবে নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হওয়ায় রোগীদের রিপোর্টের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। দ্রুত রিপোর্ট হাতে এলে চিকিৎসকরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

কী ভাবে কাজ করবে এই ব্যবস্থা? উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রক্রিয়াটি রাখা হয়েছে যথাসম্ভব সহজ। রোগীকে ল্যাবরেটরিতে এসে প্রথমে নাম নথিভুক্ত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নমুনা দিতে হবে। এরপর পরীক্ষার একটি বড় অংশ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি নমুনা বিশ্লেষণ ও রিপোর্ট তৈরির কাজে সাহায্য করবে। ফলে একই সময়ে একাধিক নমুনা পরীক্ষা করার কাজও তুলনামূলক ভাবে দ্রুত করা সম্ভব হবে বলে দাবি।

তবে সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটিকে শুধুমাত্র মেশিনের উপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, এআইয়ের মাধ্যমে রিপোর্ট তৈরি হওয়ার পর তা ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও থাকবে। অর্থাৎ প্রযুক্তি দ্রুততার সঙ্গে প্রাথমিক বিশ্লেষণের কাজ করলেও রিপোর্টের ক্ষেত্রে মানবিক যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হবে। এর ফলে মেশিনের সম্ভাব্য ত্রুটি বা ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে তাঁদের আশা।

প্রত্যন্ত এলাকায় এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করার অন্যতম লক্ষ্য হল সময় বাঁচানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক রোগের ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা এবং দ্রুত রিপোর্ট চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে যে সমস্ত রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরু করার আগে নির্দিষ্ট প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা না থাকলে চিকিৎসা ব্যবস্থাও দ্রুত এগোতে পারে।

এতদিন রায়দিঘি এবং সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার বহু রোগীকে নমুনা পরীক্ষার জন্য বাইরের ল্যাবরেটরির উপর নির্ভর করতে হত। সেই নির্ভরতার সঙ্গে যুক্ত ছিল পরিবহণের সমস্যা। একটি নমুনা সংগ্রহের পর সেটিকে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া, সেখানে পরীক্ষা হওয়া এবং রিপোর্ট ফেরত আসা—প্রতিটি ধাপেই সময়ের প্রয়োজন হত। অনেক সময় এই পুরো প্রক্রিয়ায় ১২-১৪ ঘণ্টা কেটে যেত। কোনও কোনও ক্ষেত্রে রিপোর্ট পেতে আরও বেশি সময় লাগত।

নতুন ব্যবস্থায় সেই সময়ের ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী ৩০ মিনিটের মধ্যেই কোনও কোনও রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব হবে। আবার কিছু পরীক্ষার ক্ষেত্রে চার ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ কোন পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার উপর রিপোর্ট পাওয়ার সময় নির্ভর করবে।

এই প্রযুক্তি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় এআই দিয়ে কী ভাবে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা হবে, তা নিয়ে অনেকের কৌতূহল রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে এখনও অনেকেই সম্পূর্ণ পরিচিত নন। ফলে নতুন এই পরিষেবা বাস্তবে কী ভাবে কাজ করবে, তার ফলাফল কেমন হবে—তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

তবে উদ্যোক্তাদের দাবি, রোগীদের জন্য গোটা প্রক্রিয়াটি জটিল করা হবে না। তাঁদের কাজ মূলত নমুনা দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করা। পরবর্তী ধাপের বেশির ভাগ কাজ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় সম্পন্ন হবে। একসঙ্গে বেশি সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করার সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে বলে তাঁদের দাবি।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও চূড়ান্ত রিপোর্টের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল যাচাই রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টে সামান্য ভুলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এআই-নির্ভর বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে রিপোর্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্তরা।

রায়দিঘির এই উদ্যোগ সফল হলে সুন্দরবনের অন্যান্য প্রত্যন্ত এলাকাতেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ল্যাবরেটরি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ একটি জায়গায় পরীক্ষামূলক ভাবে পরিষেবা চালুর পর তার কার্যকারিতা বিচার করে ধাপে ধাপে আরও এলাকায় এই পরিকাঠামো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

সুন্দরবনের মতো ভৌগোলিক ভাবে জটিল অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও দ্রুত এবং মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে বাস্তবে পরিষেবার মান, রিপোর্টের নির্ভুলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা কেমন থাকে, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

প্রযুক্তি যত দ্রুতই কাজ করুক, চিকিৎসা ক্ষেত্রে রিপোর্টের নির্ভুলতা এবং বিশেষজ্ঞের যাচাইয়ের গুরুত্ব থেকেই যায়। তাই রায়দিঘির এআই-নির্ভর ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে দ্রুত রিপোর্টের পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর ভাবে বজায় রাখা যায়, সেটাই নজরে থাকবে। সফল হলে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরিকাঠামোয় এটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved