নিউজ ডেস্ক : ISL-এর নতুন মরশুম শুরু হওয়ার আগেই বড় ধাক্কা কলকাতার ডায়মন্ড হারবার এফসির জন্য। ২০২৬-২৭ মরশুমে দেশের শীর্ষস্তরের ফুটবল লিগে খেলার সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামা হচ্ছে না তাদের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিতে না পারায় লিগ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে ক্লাবটিকে। এর ফলে ১৪টি দল নিয়ে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার ১৩টি দলকে নিয়েই আয়োজন হতে চলেছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ।
তবে এখানেই শেষ নয়। ডায়মন্ড হারবারকে নিয়ে অবনমন সংক্রান্ত যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তারও উত্তর দিয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলির প্রশ্নের জবাবে ফেডারেশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লিগে না খেললেও ডায়মন্ড হারবারকে লিগ টেবলের একেবারে নীচে রাখা হবে। ফলে মরশুম শেষে অবনমনের হিসাবেও তাদেরই নাম থাকবে সবার আগে। অর্থাৎ, আগামী মরশুমে ISL নয়, ফের দ্বিতীয় ডিভিশনের ভারতীয় ফুটবল লিগে খেলতে হবে কলকাতার এই ক্লাবকে।
ডায়মন্ড হারবার এফসির ISL-এ জায়গা পাওয়ার পিছনে ছিল গত মরশুমের দুর্দান্ত সাফল্য। দ্বিতীয় ডিভিশনের Indian Football League-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। সেই সাফল্যের সুবাদেই দেশের শীর্ষ লিগে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হয়। কলকাতার ফুটবল মানচিত্রে অপেক্ষাকৃত নতুন এই ক্লাবের সামনে খুলে গিয়েছিল ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে নিজেদের প্রমাণ করার দরজা।
কিন্তু মাঠের সাফল্যের পর প্রশাসনিক এবং আর্থিক সমস্যাই হয়ে দাঁড়াল বড় বাধা। ISL-এ অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১.১ কোটি টাকা ফি জমা দেওয়ার কথা ছিল ক্লাবটির। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে সেই অর্থ নির্ধারিত সময়ে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে প্রোমোশন নিশ্চিত হওয়ার পরেও ISL-এর আসরে নিজেদের জায়গা নিতে পারল না ডায়মন্ড হারবার।
এর জেরেই ২০২৬-২৭ মরশুমে সম্ভাব্য ১৪ দলের তালিকা থেকে একটি দল কমে গেল। শেষ পর্যন্ত ১৩টি দল নিয়েই এগোতে হচ্ছে আয়োজকদের।
ডায়মন্ড হারবার ISL-এ অংশগ্রহণ না করায় স্বাভাবিক ভাবেই অবনমনের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। সাধারণত লিগে অংশ নেওয়া দলগুলির পয়েন্টের ভিত্তিতেই টেবলের অবস্থান নির্ধারিত হয়। কিন্তু যে দল মাঠেই নামছে না, তাদের ক্ষেত্রে পয়েন্ট, গোলপার্থক্য কিংবা ম্যাচের ফলাফল কী ভাবে হিসাব করা হবে—সেই বিষয়েই AIFF-এর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলি।
বিশেষ করে ১৩ দলের লিগে অবনমনের ক্ষেত্রে ডায়মন্ড হারবারের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। ক্লাবটি মাঠে না নামলেও কি তাদের অবনমনযোগ্য দল হিসেবে ধরা হবে? নাকি দলসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে অবনমনের নিয়মেও কোনও পরিবর্তন আসবে? এই প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছে ফেডারেশন।
অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলিকে পাঠানো ই-মেলের মাধ্যমে AIFF-এর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যনারায়ণ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। ফেডারেশনের বক্তব্য, একটি দল নির্ধারিত অংশগ্রহণ ফি দিতে না পারায় লিগে দলের সংখ্যা কমেছে ঠিকই, কিন্তু তার জন্য মরশুম শেষে অবনমনের নিয়ম বদলাবে না।
AIFF-এর যুক্তি, ডায়মন্ড হারবার প্রোমোশন অর্জন করেছিল ঠিকই, কিন্তু ISL-এ খেলার জন্য যে আর্থিক দায়বদ্ধতা ছিল, তা পূরণ করতে পারেনি। ফলে তারা এই মরশুমে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দল হিসেবে মাঠে নামার অধিকারও পাচ্ছে না। সেই কারণে কোনও ম্যাচ না খেলেও পয়েন্ট টেবলের নিরিখে তাদের অবস্থান নির্ধারিত হবে।
অর্থাৎ, মরশুম শেষে ডায়মন্ড হারবার এফসিকেই লিগ টেবলের শেষ স্থানে রাখা হবে। অন্য দলগুলি নিজেদের মধ্যে ম্যাচ খেলে যে পয়েন্ট সংগ্রহ করবে, সেই হিসাবেই তাদের অবস্থান নির্ধারিত হবে। কিন্তু ডায়মন্ড হারবারের ক্ষেত্রে কোনও পয়েন্ট যোগ হবে না।
ফলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের অবনমনও কার্যত নিশ্চিত। পরবর্তী মরশুমে ISL-এ খেলার সুযোগ থাকবে না ক্লাবটির। ফের দ্বিতীয় ডিভিশনের IFL-এ ফিরে যেতে হবে তাদের।
AIFF-এর এই সিদ্ধান্তের পর আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। ডায়মন্ড হারবারকে যদি লিগ টেবলের অংশ হিসেবে ধরা হয়, তা হলে মরশুমের সূচিতে কি তাদের নাম থাকবে? অর্থাৎ, ১৩টি দল মাঠে খেললেও পয়েন্ট টেবলে ১৪তম হিসেবে ডায়মন্ড হারবারকে রাখা হবে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি AIFF। ফলে সূচি কী ভাবে তৈরি হবে, ডায়মন্ড হারবারকে কী ভাবে দেখানো হবে এবং পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে ক্লাবটির অবস্থান কী হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
সব জল্পনার মাঝেই নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা ২০২৬-২৭ ISL মরশুমের। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলবে দেশের শীর্ষস্তরের এই ফুটবল প্রতিযোগিতা। মরশুম গড়াবে মে মাস পর্যন্ত।
এ বারও লিগপর্বের শেষে পয়েন্ট টেবলের শীর্ষে থাকা দলকে লিগ-শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি থাকবে ISL ট্রফি জয়ের আলাদা লড়াই। প্লে-অফ ব্যবস্থাও ফিরছে। সেখানে মোট ছয়টি দল অংশ নিয়ে ট্রফির জন্য লড়াই করবে।
অর্থাৎ, মাঠে ১৩ দলের লড়াই হলেও ডায়মন্ড হারবারের জন্য ২০২৬-২৭ মরশুম কার্যত শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল। দ্বিতীয় ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন হয়ে যে ক্লাব শীর্ষস্তরের দরজায় পৌঁছেছিল, আর্থিক দায়বদ্ধতা পূরণ করতে না পারার কারণে তাকেই আবার নীচের স্তরে ফিরে যেতে হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, আগামী মরশুমে IFL-এ ফিরে গিয়ে ডায়মন্ড হারবার কী ভাবে নিজেদের পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments