Last updated: September 1st, 2026 at 01:14 pm

নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ের কোলে প্রকৃতির এক মারাত্মক ও তাণ্ডবলীলা। নেপালের ভোটকোশী নদীতে আচমকা হিমবাহ বিস্ফোরণের (Glacial Outburst Flood) ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রলয়ঙ্করি হড়পা বান। নদীর প্রবল জলস্রোত ও কাদামাটির তোড়ে চোখের নিমেষে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে একের পর এক পাহাড়ি গ্রাম। সরকারি হিসাব অনুযায়ী লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, এবং অন্তত আড়াই হাজারেরও বেশি মানুুষ এখনও নিখোঁজ। এই ধ্বংসলীলার মাঝেই মৃত্যুপুরীর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরে এলেন পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার উত্তরপাড়ার বাসিন্দা, ৬৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা অঞ্জনা সান্যাল।
ভাগ্যের জোর এবং বাসচালকের উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই জীবন রক্ষা পেয়েছে কলকাতার ১৭ জন পূর্ণার্থীর একটি দলের। পুণ্য অর্জনের আশায় কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। গত ২৬ আগস্ট কলকাতার এক ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে কাঠমান্ডু পৌঁছানোর পর চীনের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের দিকে এগোচ্ছিল তাঁদের বাসটি। কিন্তু পথেই ঘটে সেই রোমহর্ষক ঘটনা।
পাহাড়ি রাস্তায় সামান্য বিরতি নিয়ে পূর্ণার্থীরা যখন চা পান করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে বাসচালকের কাছে ভোটকোশী নদীর ভয়াবহ হড়পা বানের খবর আসে। সামান্যতম বিলম্ব না করে বিচক্ষণ চালক দ্রুত বাস ঘুরিয়ে কাঠমান্ডুর দিকে রওনা দেন।
ভয়াবহ সেই স্মৃতি স্মরণ করে অঞ্জনা সান্যাল জানান, “আমরা যখন রওনা হয়েছিলাম, আবহাওয়া একেবারে পরিষ্কার ছিল। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পরেই দূরে ধোঁয়ার বিশালাকার কুণ্ডলী এবং মেঘের মতো নদীর জল নেমে আসতে দেখি। মুহূর্তের মধ্যে বুঝতে পারি ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আমরা। বাস চালক যদি তৎক্ষণাৎ বাস না ঘোরাতেন, তবে আমরা পাহাড়ি ট্রাফিক জ্যামে আটকে যেতাম এবং আর কখনোই জীবিত ফিরতে পারতাম না।”
তবে এই অলৌকিক প্রাণের রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সতর্কতা ও নেপাল-চীন প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রবীণ পূর্ণার্থী। তাঁর দাবি, চীন সীমান্ত থেকে হিমবাহ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়ার পর নেপাল প্রশাসনের কাছে সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য অন্তত দেড় ঘণ্টা সময় ছিল। চীনের পক্ষ থেকে যদি সময়মতো আগাম বার্তা দেওয়া হতো, তবে হয়তো এত বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি রোখা সম্ভব হতো।
কৈলাস দর্শনের দোরগোড়ায় পৌঁছেও মহাদেবের দর্শন না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও, ঈশ্বরের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অঞ্জনাদেবী। বয়স ৭০ ছুঁইছুঁই হওয়ায় আগামী বছর স্থলপথে কৈলাস যাত্রার ছাড়পত্র না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জীবনের এত বড় দুর্যোগ অতিক্রম করার পর তাঁর মনোবল ভাঙেনি; ছেলে আশ্বাস দেওয়ায় আগামী দিনে হেলিকপ্টারে চেপে আকাশপথেই কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের অদম্য ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments