Last updated: August 27th, 2026 at 05:29 pm

নিউজ ডেস্ক;রাতের অন্ধকারে আচমকাই বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ল পুলিশ। তল্লাশি অভিযান শুরু হতে আর সময় নেই। পরিস্থিতি বুঝে টাকা-পয়সা সরিয়ে ফেলার সুযোগও মেলেনি। শেষমেশ পুলিশের হাত থেকে নগদ টাকা ও সোনার গয়না বাঁচাতে বাড়ির ছাদ থেকে সেগুলি ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল। এমনই নাটকীয় ঘটনায় বুধবার রাতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় হুগলির উত্তরপাড়ায়।
ঘটনাটি উত্তরপাড়ার ৩ নম্বর কাঁসারি পুকুর রোডের। সেখানে সঞ্জয় মজুমদার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। স্থানীয় সূত্রে তাঁর পরিচিতি ‘সাট্টা ডন বাপি’ নামে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি সাট্টার কারবার চালানোর অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
বুধবার রাতে সঞ্জয়ের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায় চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল। অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও সঙ্গে রাখা হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির ভিতরে শুরু হয়ে যায় তৎপরতা। অভিযোগ, তল্লাশি ঠেকাতে প্রথমে বাড়ির পোষ্য ডোবারম্যান কুকুরটিকে পুলিশকর্মীদের দিকে লেলিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও অভিযান আটকানো যায়নি।
পুলিশ বাড়িতে ঢুকে পড়ার পর নগদ টাকা এবং সোনার গয়না দ্রুত সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু সময় অত্যন্ত কম থাকায় সেগুলি ঘরের ভিতরে অন্যত্র লুকিয়ে রাখার সুযোগ মেলেনি। তখনই নাকি ছাদ থেকে টাকা ও গয়না ছুড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, বাড়ির ছাদ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা এবং সোনার গয়না ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
তল্লাশি শেষে বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা নগদ এবং প্রায় দেড় কেজি সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং সোনা কোথা থেকে এল, তার উৎস কী—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানের সময় বাড়ির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সঞ্জয় মজুমদারের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং বেআইনি সাট্টা কারবারের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে তল্লাশি অভিযানের মূল অভিযুক্ত সঞ্জয়ের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। অভিযানের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন কি না, থাকলে কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
চন্দননগর পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বেআইনি সাট্টার কারবার চালানোর অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানে নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার হয়েছে এবং দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সন্ধানেও তদন্ত চলছে।
এদিকে একই রাতে কোন্নগরেও পুলিশের অভিযানে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কুখ্যাত দুষ্কৃতী হুব্বা শ্যামলের ভাই এবং তাঁর এক সহযোগী। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমি কারবারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে একই রাতে উত্তরপাড়া ও কোন্নগর এলাকায় পুলিশের পরপর অভিযানে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
উত্তরপাড়ার ঘটনায় উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনার গয়নার সঙ্গে সাট্টা কারবারের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি সঞ্জয় মজুমদারের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের খতিয়ানও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments