Homeহুগলিচুঁচুড়া‘কোন তৃণমূল ফিরবে, এ না বি না সি?’ মমতার মন্তব্যে লকেটের কটাক্ষ, চুঁচুড়া থেকে নিশানা বিজেপি নেত্রীর

‘কোন তৃণমূল ফিরবে, এ না বি না সি?’ মমতার মন্তব্যে লকেটের কটাক্ষ, চুঁচুড়া থেকে নিশানা বিজেপি নেত্রীর

নিউজ ডেস্ক: ‘তৃণমূল আবার ফিরবে’—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা দিতে
resizeplus_Untitled design (3) (1)

নিউজ ডেস্ক: ‘তৃণমূল আবার ফিরবে’—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের শুরু হয়েছে চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা দিতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, ‘‘কোন তৃণমূল ফিরবে? এ, বি, সি—কোনটা?’’ তাঁর দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে তৃণমূল সরকার সাধারণ মানুষের সমস্যাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে পরিবর্তন এসেছে এবং ‘উন্নয়নের রাজনীতি’ গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

চুঁচুড়ায় বিজেপির ‘দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান’-এ যোগ দিতে গিয়েছিলেন লকেট। দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নিজের মতামত জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ এবং আগামী দিনের রাজনীতি নিয়ে বিজেপির অবস্থান।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রসঙ্গও ওঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নে। সেই বিষয়ে লকেটের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই স্বাভাবিক। তাঁর দাবি, কোনও রাজনৈতিক দল যদি হাই কোর্টের নির্দেশ না মেনে কাজ করে, সে ক্ষেত্রে এফআইআর হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথাও সামনে আনেন বিজেপি নেত্রী। লকেটের বক্তব্য, ১৫ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকার কারণে প্রশাসনিক নিয়মকানুন সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবগত থাকার কথা। অতীতে তাঁর সরকারও অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মসূচি হলে ব্যবস্থা নিত বলে দাবি করেন তিনি।

লকেটের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, তা দেখে আইন প্রয়োগের পদ্ধতি বদলানো উচিত নয় বলেও কার্যত বার্তা দেন তিনি। মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর প্রসঙ্গেই এই যুক্তি সামনে আনেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক।

এর পরেই আসে ‘তৃণমূল আবার ফিরবে’ প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে লকেটের পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘কোন তৃণমূল ফিরবে?’’ তাঁর কথায়, তৃণমূলের মধ্যে এখন একাধিক ভাগ বা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী যে তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের কথা বলছেন, সেই দলটির পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শাসন নিয়েও আক্রমণাত্মক হন লকেট। তাঁর অভিযোগ, প্রায় দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকার সময় সাধারণ মানুষকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। জনসাধারণের সমস্যা, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়নের মতো বিষয়গুলিতে শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে শুধু বিরোধিতা করেই থামেননি বিজেপি নেত্রী। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর দল কী ধরনের রাজনীতি করতে চাইছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন লকেট। তাঁর দাবি, এখন রাজ্যে ‘বিকাশ’ বা উন্নয়নের রাজনীতিকে সামনে রাখা হচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতিই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য বলে দাবি করেন তিনি।

চুঁচুড়ার দলীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এই বার্তাই কর্মীদের কাছেও পৌঁছে দেন লকেট। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

লকেটের বক্তব্যে উঠে আসে বিজেপির ক্ষমতায় আসার দাবিও। তাঁর কথায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এবং এখন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হল মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। কী ভাবে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়, কী ভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়—এই বিষয়গুলিই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে লকেটের এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। কারণ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এক দিকে তৃণমূল নেতৃত্ব নিজেদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছে, অন্য দিকে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, রাজ্যের মানুষ উন্নয়নকেন্দ্রিক নতুন রাজনীতিকে বেছে নিয়েছেন।

‘তৃণমূল আবার ফিরবে’ মন্তব্যটি তাই নিছক রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর পাল্টা হিসেবে বিজেপির নেতারা যে ভাবে তৃণমূলের সংগঠন, শাসনকাল এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাতে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।

লকেটের ‘এ, বি, সি’ মন্তব্যও সেই রাজনৈতিক আক্রমণেরই অংশ। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের অভিযোগ তুলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন দল আগের অবস্থানে নেই। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের পাল্টা কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেটাই এখন দেখার।

অন্য দিকে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আদালতের নির্দেশ মানা নিয়ে লকেটের মন্তব্যও রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উস্কে দিতে পারে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি এবং আইনশৃঙ্খলা—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যে একাধিক রাজনৈতিক টানাপড়েন দেখা যাচ্ছে।

চুঁচুড়ার মঞ্চ থেকে লকেটের বক্তব্যে তাই একই সঙ্গে ছিল তৃণমূল-বিরোধী রাজনৈতিক আক্রমণ এবং বিজেপির উন্নয়নমূলক রাজনীতির প্রচার। মুখ্যমন্ত্রীর ‘তৃণমূল আবার ফিরবে’ মন্তব্যের জবাবে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন—‘কোন তৃণমূল?’—আগামী দিনে রাজনৈতিক প্রচারে কতটা জায়গা করে নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

শেষ পর্যন্ত রাজ্যের ভোটের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের রায়ই নির্ধারণ করবে কোন রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ কতটা শক্তিশালী। আপাতত অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা আক্রমণ ঘিরে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved