Homeহুগলিশ্রীরামপুরগৃহস্থের বাড়তি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে নতুন উদ্যোগ, হুগলিতে চালু ১০ কেজির ‘এক্সট্রা লাইট’ সিলিন্ডার

গৃহস্থের বাড়তি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে নতুন উদ্যোগ, হুগলিতে চালু ১০ কেজির ‘এক্সট্রা লাইট’ সিলিন্ডার

নিউজ ডেস্ক; ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস পরিষেবায় নতুন সংযোজন করল ইন্ডেন। কলকাতা ও হাওড়ার পর এ বার
resizeplus_Screenshot 2026-08-30 154509_edited

নিউজ ডেস্ক; ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস পরিষেবায় নতুন সংযোজন করল ইন্ডেন। কলকাতা ও হাওড়ার পর এ বার হুগলিতেও চালু হল ১০ কেজির ‘এক্সট্রা লাইট’ সিলিন্ডার। শনিবার শ্রীরামপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পরিষেবার সূচনা করা হয়। ছোট ও তুলনামূলক হালকা এই সিলিন্ডার ব্যবহারে বহন করা সহজ হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি গ্যাসের প্রয়োজন মেটানো যাবে বলেই দাবি সংস্থার।

শনিবার শ্রীরামপুরের গ্যাস অ্যান্ড নভেলটিসের অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক গ্রাহকের হাতে প্রথম ১০ কেজির এক্সট্রা লাইট সিলিন্ডার তুলে দেন ইন্ডেনের আধিকারিকেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডেনের ডিভিশনাল হেড অভিষেক গৌতম, হুগলি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার ধনঞ্জয় গড়াই এবং শ্রীরামপুর, পাণ্ডুয়া, বলাগড়, উত্তরপাড়া ও কোন্নগর এলাকার ডিস্ট্রিবিউটরেরা।

ইন্ডেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের বাড়তি চাহিদা এবং রান্নার গ্যাস পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যেই এই নতুন ধরনের সিলিন্ডার বাজারে আনা হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের বাড়িতে ইতিমধ্যেই একটি বা একাধিক রান্নার গ্যাসের সংযোগ রয়েছে, তাঁরাও প্রয়োজন অনুযায়ী এই ১০ কেজির সিলিন্ডার নিতে পারবেন বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

নতুন সিলিন্ডারটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর ওজন এবং নির্মাণসামগ্রী। প্রচলিত লোহার সিলিন্ডারের তুলনায় এটি কম্পোজিট ফাইবার দিয়ে তৈরি। ফলে তুলনামূলক ভাবে হালকা হওয়ায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলে দাবি ইন্ডেন কর্তৃপক্ষের। বাড়ির ভিতরে সিলিন্ডার সরানো কিংবা প্রয়োজনে বাইরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি সুবিধাজনক হবে বলে মনে করছে সংস্থা।

এ দিন পরিষেবা চালুর অনুষ্ঠানে ইন্ডেনের ডিভিশনাল হেড অভিষেক গৌতম জানান, বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে রান্নার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন সিলিন্ডার নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটিও সহজ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংস্থার দাবি, ১০ কেজির এই এক্সট্রা লাইট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে আলাদা করে নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে সিকিউরিটি ডিপোজ়িটের বিষয়টিও থাকছে না বলে জানানো হয়েছে। ফলে বাড়তি গ্যাসের প্রয়োজন হলেও নতুন করে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে না বলেই দাবি কর্তৃপক্ষের।

বর্তমানে বহু পরিবারে রান্নার গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, বাড়িতে একাধিক রান্নার ব্যবস্থা কিংবা বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান—বিভিন্ন কারণে মূল গ্যাস সংযোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত সিলিন্ডারের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। সেই জায়গাতেই ১০ কেজির এক্সট্রা লাইট সিলিন্ডারকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে ইন্ডেন।

নতুন পরিষেবার আর একটি দিক নিয়ে বিশেষ ভাবে জোর দিয়েছেন সংস্থার আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, কম্পোজিট ফাইবার দিয়ে তৈরি হওয়ায় এই সিলিন্ডার প্রচলিত লোহার সিলিন্ডারের তুলনায় নিরাপদ। বিভিন্ন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে লোহার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে যে ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকে, নতুন সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি নেই বলেও সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। যদিও রান্নার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুরক্ষা বিধি মেনে চলা জরুরি, সে বিষয়ে কোনও সংশয় নেই।

নতুন সিলিন্ডারটি শুধু নিয়মিত রান্নার কাজে নয়, বিশেষ প্রয়োজনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও ব্যবহার করা যাবে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। ফলে বাড়িতে অতিথি সমাগম, ছোটখাটো অনুষ্ঠান কিংবা রান্নার পরিমাণ সাময়িক ভাবে বেড়ে গেলে অতিরিক্ত গ্যাসের ব্যবস্থা করতে এই সিলিন্ডার কাজে আসতে পারে।

এই মুহূর্তে আকর্ষণীয় ছাড়ের মাধ্যমে ১৪০০ টাকায় ১০ কেজির এক্সট্রা লাইট সিলিন্ডার পাওয়া যাবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে দাম বা অফারের ক্ষেত্রে পরিবর্তন হতে পারে কি না, তা সংস্থার বাজারনীতি এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

এ দিনের অনুষ্ঠানে প্রথম গ্রাহক হিসেবে এই নতুন সিলিন্ডার গ্রহণ করেন শ্রীরামপুরের বাসিন্দা বাপি ঘোষ। তাঁর পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি রান্নার গ্যাসের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। সেই প্রয়োজন থেকেই নতুন সিলিন্ডার নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর।

বাপি ঘোষের বক্তব্য, বাড়িতে লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রান্নার জন্য অতিরিক্ত গ্যাসের প্রয়োজন হচ্ছিল। নতুন সিলিন্ডারটি তুলনামূলক ভাবে হালকা হওয়ায় বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর কোনও অসুবিধা হয়নি। ফলে প্রয়োজনের সময় বাড়তি গ্যাসের ব্যবস্থা হিসেবে এই পরিষেবা তাঁর কাছে সুবিধাজনক বলেই মনে হয়েছে।

হুগলিতে পরিষেবা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকেরাও এই নতুন সিলিন্ডার সম্পর্কে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন বলে ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের দাবি। বিশেষ করে প্রবীণ মানুষ কিংবা যাঁদের পক্ষে ভারী লোহার সিলিন্ডার সরানো কঠিন, তাঁদের জন্য হালকা কম্পোজিট সিলিন্ডার কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

কলকাতা ও হাওড়ায় পরিষেবা চালুর পর হুগলিতে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণকে তাই গ্যাস পরিষেবার ক্ষেত্রে আরও একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে রান্নার গ্যাস শুধু রান্নাঘরের প্রয়োজন মেটানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে মূল সংযোগের পাশাপাশি বাড়তি সিলিন্ডারের প্রয়োজনও তৈরি হচ্ছে।

ইন্ডেন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সেই বাড়তি চাহিদাকে মাথায় রেখেই ১০ কেজির এক্সট্রা লাইট সিলিন্ডার বাজারে আনা হয়েছে। এক দিকে কম ওজন, অন্য দিকে কম্পোজিট ফাইবারের নির্মাণ—এই দুই বৈশিষ্ট্যকে সামনে রেখে গ্রাহকদের কাছে পরিষেবাটিকে তুলে ধরা হচ্ছে। তার সঙ্গে নথিপত্র ও সিকিউরিটি ডিপোজ়িটের ঝামেলা না থাকার দাবিও গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে নতুন পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের আগ্রহ কতটা বাড়ে, তা নির্ভর করবে এর সহজলভ্যতা, দাম এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের সুবিধার উপর। আপাতত ১৪০০ টাকার আকর্ষণীয় দামে এই সিলিন্ডার দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। হুগলিতে আনুষ্ঠানিক সূচনার পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিষেবাটি কতটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

সব মিলিয়ে, বাড়তি রান্নার গ্যাসের প্রয়োজন মেটাতে হুগলির গৃহস্থদের জন্য ১০ কেজির এক্সট্রা লাইট সিলিন্ডার নতুন একটি বিকল্প তৈরি করল। হালকা ও সহজে বহনযোগ্য এই সিলিন্ডার ভবিষ্যতে বাড়তি গ্যাসের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে কতটা জনপ্রিয় হয়, তার দিকে নজর থাকবে গ্রাহক ও গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর—দু’পক্ষেরই।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved