Homeরাজ্যরাখি বন্ধনের মঞ্চে ‘ঘরের শত্রু’দের নিশানা শুভেন্দুর, যাদবপুরের ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও তোপ

রাখি বন্ধনের মঞ্চে ‘ঘরের শত্রু’দের নিশানা শুভেন্দুর, যাদবপুরের ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও তোপ

নিউজ ডেস্ক; দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সীমান্তের ওপারে থাকা শত্রুদের মোকাবিলায় ভারতীয় সেনা যথেষ্ট সক্ষম। কিন্তু দেশের ভিতরে থেকেই যাঁরা ভারতকে
resizeplus_images (1)

নিউজ ডেস্ক; দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সীমান্তের ওপারে থাকা শত্রুদের মোকাবিলায় ভারতীয় সেনা যথেষ্ট সক্ষম। কিন্তু দেশের ভিতরে থেকেই যাঁরা ভারতকে ভাগ করার ষড়যন্ত্র করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ভবানীপুরে রাখি বন্ধন উৎসবের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, দেশের অভ্যন্তরে থাকা ‘বিভাজনের শক্তি’কে চিহ্নিত করে সরিয়ে দিতে হবে।

রাখি বন্ধনের মতো সম্প্রীতির উৎসবের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে জাতীয় সংহতি ও দেশের অখণ্ডতার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, দেশের বাইরের শত্রুদের মোকাবিলা করার দায়িত্ব ভারতীয় সেনার। কিন্তু দেশের ভিতরে বসে যাঁরা ভারতকে ভাগ করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। এ প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কারের মতো এদের সাফ করে দিন।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করতেই এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন তিনি। যদিও শাসক শিবিরের ব্যাখ্যা, দেশের অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না—এই বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাখি বন্ধন মূলত ভাই-বোনের পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং সুরক্ষার প্রতীক। সেই উৎসবের মঞ্চে দাঁড়িয়েই জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে ছিল দেশের প্রতি আনুগত্য এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে অবস্থানের বার্তা। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা যদি দেশের ভিতর থেকেই হয়, তা হলে তার বিরুদ্ধেও সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।

এ দিন তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গও। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষাঙ্গনে এমন স্লোগানের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত ছিল, স্বাধীন দেশের কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বসে দেশের অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা বিচ্ছিন্নতার স্লোগান দেওয়ার প্রবণতা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ছাত্র-রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে সেখানে পড়ুয়াদের আন্দোলন, রাজনৈতিক অবস্থান এবং নানা স্লোগান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। এ বার রাখি বন্ধনের মঞ্চ থেকে সেই বিতর্কেই নতুন করে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দুর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—দেশের নিরাপত্তা শুধু সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের ভিতরে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতকে দুর্বল করার মতো কোনও প্রচেষ্টা যদি অভ্যন্তরীণ স্তর থেকে আসে, তা হলে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাখি বন্ধনের মতো একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্য এবং দেশের অখণ্ডতার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত একটি রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন। বিশেষ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আজাদি’ স্লোগান প্রসঙ্গ টেনে তিনি তরুণ প্রজন্মের একাংশের রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন।

তবে ‘আজাদি’ স্লোগানের অর্থ ও প্রেক্ষিত নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে তা সামাজিক বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, আবার কোনও ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতাবাদী অর্থে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ফলে যাদবপুরের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের স্লোগান ঘিরে বিতর্ক দ্রুত বৃহত্তর রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।

শুক্রবারের অনুষ্ঠানেও সেই বিতর্কেরই প্রতিফলন দেখা গেল। এক দিকে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা, অন্য দিকে দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যাঁরা অবস্থান নেন বলে অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ—দুই বিষয়কেই একই বক্তব্যের মধ্যে নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর ‘বাড়ির আবর্জনা’ মন্তব্যটি অবশ্য রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, দেশের ভিতরে থাকা বিরোধী মত বা বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান হিসেবে এই মন্তব্যকে দেখছে তাঁর সমর্থকরা। অন্য দিকে, বিরোধীদের দাবি, এই ধরনের ভাষা রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে আরও তীব্র করে।

সব মিলিয়ে, রাখি বন্ধনের উৎসবের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে জাতীয়তাবাদ, দেশের অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ ‘বিভাজনের শক্তি’র বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আজাদি’ স্লোগানকে সামনে এনে শিক্ষাঙ্গনে জাতীয়তাবাদ বনাম প্রতিবাদের পুরনো বিতর্ককেও ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এলেন তিনি।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved