Homeকলকাতাক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসের সাইনবোর্ড খুলে নেওয়া ঘিরে ধুন্ধুমার, হাইকোর্টে রক্ষাকবচ পেল না তৃণমূল

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসের সাইনবোর্ড খুলে নেওয়া ঘিরে ধুন্ধুমার, হাইকোর্টে রক্ষাকবচ পেল না তৃণমূল

নিউজ ডেস্ক ; ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বাইরে থাকা ‘অল ইন্ডিয়া
kolkata high court

নিউজ ডেস্ক ; ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বাইরে থাকা ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা সাইনবোর্ড খুলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে ওই সাইনবোর্ড সরানোর সময় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুরসভার আধিকারিকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই উত্তেজনা ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত সাইনবোর্ড সরানোকে ঘিরে। ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিসটি তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা সেখানে গিয়ে অফিসের বাইরে থাকা ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা সাইনবোর্ড খুলে নেওয়ার কাজ শুরু করেন। পুরসভার এই পদক্ষেপ ঘিরেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। অফিস চত্বরে উপস্থিত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুরসভার আধিকারিকদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়।

ক্রমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতির অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশকেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয়। পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে এবং রাতে তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মীর নাম উঠে আসে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনের নামও এফআইআরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে রাতে। পুলিশের মামলা দায়েরের পরই আইনি সুরক্ষার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। রাতারাতি আদালতে আবেদন জানিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় রক্ষাকবচ চাওয়া হয়। তৃণমূলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে রক্ষাকবচের আবেদন জানান। পরে বিষয়টি বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চে পাঠানো হয়।

শুক্রবার সকালে মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দ্রুত আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হলেও শুনানিতে তাৎক্ষণিক রক্ষাকবচ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, শুধুমাত্র আশঙ্কার ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। অর্থাৎ ভবিষ্যতে গ্রেপ্তার বা পুলিশের পদক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে—এই যুক্তি মাত্রের ভিত্তিতে আদালত কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিতে পারে না। ফলে এই পর্যায়ে তৃণমূলকে কোনও অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয়নি হাইকোর্ট।

তবে মামলাটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে কলকাতা পুরসভার কয়েকজন আধিকারিককে ব্যক্তিগত ভাবে মামলার পক্ষ করা হয়েছিল। আদালত তাঁদের ব্যক্তিগত ভাবে পক্ষভুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মামলার পক্ষ তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট পুর আধিকারিকদের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ পুরসভার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দায়ের প্রশ্নটি এই মামলার বর্তমান পর্যায়ে আলাদা ভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

এদিকে মামলার শুনানিতে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকের পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দাবি করা হয়েছে। বাড়ির মালিকের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলের সম্পত্তির উপরে বেআইনি ভাবে ওই হোর্ডিং বা সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে সম্পত্তির মালিক কলকাতা পুরসভার কাছেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে আদালতে দাবি করা হয়। তাঁর বক্তব্য, ওই অভিযোগের পরেও বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হয়নি। অথচ পরে সাইনবোর্ড সরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে মামলা হয়েছে, সেখানে সম্পত্তির মালিককেই মামলার পক্ষ করা হয়নি।

এই বক্তব্যের ফলে মামলাটির পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। কারণ, সাইনবোর্ডটি আদৌ বৈধ ভাবে লাগানো হয়েছিল কি না, সেটি লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকের সম্মতি বা আইনি অধিকার কতটা ছিল—এই প্রশ্নগুলিও এখন আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে।

হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই পরবর্তী শুনানির জন্য একটি প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক পক্ষকে তাঁদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য নথিবদ্ধ করে আদালতের কাছে পেশ করতে হবে। এরপর সেই নথির ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী অবস্থান নির্ধারিত হবে।

কলকাতা পুরসভাকেও বিশেষ ভাবে হোর্ডিং বা সাইনবোর্ডটি যে জায়গায় লাগানো হয়েছিল, সেই জায়গা বা সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য আদালতকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে সম্পত্তির মালিকের বৈধতা সম্পর্কেও আদালতের কাছে বিস্তারিত তথ্য পেশ করতে বলা হয়েছে। ফলে সাইনবোর্ডটি সরানোর পিছনে পুরসভার পদক্ষেপ কতটা আইনসম্মত ছিল এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে ওই সাইনবোর্ড রাখার অধিকার কার ছিল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর পরবর্তী শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব পক্ষ হলফনামা জমা দেওয়ার পর প্রয়োজন হলে তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটির পরবর্তী শুনানি করবে আদালত। ফলে বৃহস্পতিবারের উত্তপ্ত ঘটনার পর শুক্রবার হাইকোর্টে তৃণমূলের তাৎক্ষণিক রক্ষাকবচের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও মামলাটি এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং পরবর্তী পর্যায়ে নথি ও হলফনামার ভিত্তিতে বিষয়টির আইনি দিক খতিয়ে দেখবে আদালত।

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং আইনি—দুই ক্ষেত্রেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। একদিকে সাইনবোর্ড সরানোকে ঘিরে পুরসভা ও তৃণমূলের সংঘাত, অন্যদিকে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এফআইআর এবং গ্রেপ্তার—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। তার পরেই হাইকোর্টে তৃণমূলের রক্ষাকবচের আবেদন এবং আদালতের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘটনাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

এখন নজর থাকবে পরবর্তী শুনানির দিকে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের হলফনামায় কী তথ্য উঠে আসে, সাইনবোর্ড লাগানোর বৈধতা নিয়ে কী নথি আদালতে জমা পড়ে এবং কলকাতা পুরসভা সম্পত্তির মালিকানা ও হোর্ডিং সংক্রান্ত কী ব্যাখ্যা দেয়—সেই তথ্যের উপরই মামলার পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved