Homeদক্ষিণ ২৪ পরগনামথুরাপুরেস্কুলে যাওয়ার পথ নেই, বর্ষায় ভেলাই ভরসা! মথুরাপুরে খুদেদের দুর্ভোগ

স্কুলে যাওয়ার পথ নেই, বর্ষায় ভেলাই ভরসা! মথুরাপুরে খুদেদের দুর্ভোগ

Screenshot 2026-08-27 161157

নিউজ ডেস্ক; স্কুল রয়েছে, পড়ুয়াও রয়েছে। রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাও। কিন্তু স্কুলে পৌঁছনোর মতো রাস্তা নেই। বর্ষা এলেই স্কুলের সামনের মাঠ জলে ডুবে যায়। কোথাও হাঁটুজল পেরিয়ে, কোথাও আবার ভেলায় চেপে স্কুলে পৌঁছতে হচ্ছে খুদেদের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের তেঁতুলবেড়িয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন ছবিই সামনে এসেছে। স্কুলের পরিকাঠামো নিয়েও রয়েছে একাধিক অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা জানানো হলেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি অভিভাবক ও শিক্ষকদের।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামোর হাল নিয়ে সরব হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। তাদের বিভিন্ন অভিযানে সরকারি স্কুলগুলির নানা সমস্যার ছবি সামনে আসছে। সেই তালিকায় এ বার উঠে এল বাংলার ছবিও। বিশেষ করে বর্ষা শুরু হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক স্কুলে পড়ুয়াদের দুর্ভোগ নতুন করে সামনে এসেছে।

মথুরাপুরের তেঁতুলবেড়িয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা শতাধিক। পাঁচ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁদের পড়াশোনা করান। তেঁতুলবেড়িয়া-সহ আশপাশের তিন-চারটি এলাকা থেকে শিশুরা এই স্কুলে আসে। কিন্তু স্কুল ভবনের সামনে থাকা নিচু মাঠই তাঁদের যাতায়াতের প্রধান পথ। আলাদা করে কোনও উঁচু রাস্তা না থাকায় বর্ষাকালে সেই পথই কার্যত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

এক পশলা বৃষ্টি হলেই মাঠে জল জমতে শুরু করে। বর্ষার সময় সেই জল আরও বাড়ে। সম্প্রতি কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। স্কুলের সামনে বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে গিয়েছে। স্কুলে ঢোকা এবং বেরনোর পথও কার্যত জলমগ্ন। ফলে ছোট ছোট পড়ুয়াদের স্কুলে নিয়ে যেতে অভিভাবকদের চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

কখনও হাঁটুসমান জল পেরিয়ে স্কুলে পৌঁছতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। আবার ছোটদের নিরাপদে পার করানোর জন্য বড় পড়ুয়ারাই ভেলা টেনে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। অনেক সময় শিশুরা জলে পড়ে গেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শুধু বর্ষাকালেই নয়, বছরের দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলের সামনে জল জমে থাকে। ফলে নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত ব্যাহত হয়। জল জমে থাকার কারণে অনেক পড়ুয়া স্কুলে আসতেই চায় না। এতে ধীরে ধীরে স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যাও কমছে বলে দাবি তাঁদের।

সমস্যা শুধু যাতায়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। স্কুল ভবনের অবস্থাও যথেষ্ট খারাপ। ভবনের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতির কারণে স্কুলের একটি কক্ষেই পড়াশোনা চালাতে হচ্ছে। ফলে পড়ুয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা—দু’পক্ষেরই সমস্যা হচ্ছে। তার উপর স্কুলের পানীয় জলের নলকূপটিও খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ।

স্কুলের এমন অবস্থায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শিশুদের প্রতিদিন এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে স্কুলে পাঠানো সম্ভব নয়। জল জমে থাকা এলাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। অভিভাবক মীনা হালদারের কথায়, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের এবং বিষয়টি সকলেরই জানা। কিন্তু তারপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে গিয়ে তাই আতঙ্কে থাকতে হয়।

স্কুলের শিক্ষিকা পাপিয়া মিত্র এবং মীনাক্ষী মণ্ডলও পরিস্থিতি বদলের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আবেদন জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপি নেতা তারকনাথ হালদারও স্কুলটির পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, তিনি নিজেও এই স্কুলের প্রাক্তন পড়ুয়া। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটির প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের মূল দাবি, স্কুলের সামনে দ্রুত একটি উঁচু রাস্তা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি জল যাতে জমে না থাকে, তার জন্য কার্যকর নিকাশি ব্যবস্থাও তৈরি করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, রাস্তা ও জলনিকাশির স্থায়ী ব্যবস্থা না হলে প্রতি বর্ষাতেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে।

তেঁতুলবেড়িয়ার পাশাপাশি একই ধরনের দুর্ভোগের ছবি দেখা গিয়েছে ডায়মন্ড হারবারের মোহনপুর হাইস্কুলের সামনেও। নিম্নচাপের প্রভাবে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে স্কুলের প্রবেশপথে প্রায় এক হাঁটু জল জমেছে। ফলে পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবক—সকলকেই জল পেরিয়ে স্কুলে ঢুকতে হচ্ছে।

মোহনপুর হাইস্কুলের পাশেই রয়েছে দু’টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন বহু পড়ুয়া একটি গেট দিয়েই যাতায়াত করে। ফলে প্রবেশপথে জল জমে যাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। ছোট শিশুদের নিয়েও অভিভাবকদের জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

আইসিডিএস কেন্দ্রের শিক্ষিকা সুজাতা প্রামাণিক জানিয়েছেন, এই জল জমার সমস্যা দীর্ঘদিনের। স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই দুই স্কুলের ছবি ফের সামনে এনে দিয়েছে বর্ষায় সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টি। একটি স্কুলে পৌঁছতেই যদি শিশুদের ভেলায় চড়তে হয় কিংবা হাঁটুসমান জল পেরোতে হয়, তাহলে শিক্ষার পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক ভাবে জল সরিয়ে দেওয়ার বদলে স্কুলগুলির সামনে স্থায়ী উঁচু রাস্তা, কার্যকর নিকাশি ব্যবস্থা এবং নিরাপদ প্রবেশপথ তৈরি করা হোক। তবেই বর্ষার সময় স্কুলে যাতায়াত নিয়ে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আতঙ্ক কিছুটা কমবে।

No Comments

    আরও পড়ুন

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved