ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরই মৃত্যু! রামপুরহাটে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগনিউজ ডেস্ক : পেটের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিল ১১ বছরের এক স্কুল পড়ুয়া। কিন্তু চিকিৎসকের চেম্বারে দু’টি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রামপুরহাট শহরে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। চিকিৎসকের গাফিলতি এবং ভুল ইঞ্জেকশনের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে দেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্যেরা।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েক দিন আগেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ওই স্কুল পড়ুয়াকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। এরপর প্রায় তিন দিন আগে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। কিন্তু পরে ফের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার দিন পেটের ব্যথার সমস্যা নিয়ে ওই শিশুকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি চেম্বারের ল্যাবে তাকে দু’টি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ইঞ্জেকশন দেওয়ার আগে শিশুটির শারীরিক অবস্থা যতটা ছিল, তার পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে। আচমকাই তার শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ বাড়তে থাকে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এর পর শিশুটিকে ফের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মাত্র ১১ বছরের শিশুর এ ভাবে মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই শোকের ছায়া নামে পরিবারে। একই সঙ্গে চিকিৎসার সময় কোনও ভুল হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলতে শুরু করেন তাঁরা।
পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, চিকিৎসকের চেম্বারে ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরই শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে। তাঁদের দাবি, ভুল ইঞ্জেকশন কিংবা চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই এই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। যদিও শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি।
এই ধরনের ঘটনায় চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, ব্যবহৃত ওষুধ বা ইঞ্জেকশনের তথ্য এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হলে তবেই স্পষ্ট হবে ঠিক কী কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের বয়ান অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর শিশুটিকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কয়েক দিন পরেই ফের পেটের ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।
এই অবস্থায় স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের চেম্বারে দু’টি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই পরিস্থিতি বদলে যায়। শিশুটির অসুস্থতা দ্রুত বাড়তে থাকায় তাঁরা আর দেরি না করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
ঘটনাটি ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন, শিশুটির মৃত্যুর পিছনে আদৌ কোনও চিকিৎসাগত ভুল বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল কি না। শুধুমাত্র ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলেই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যায় না। তাই গোটা বিষয়টি চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা। চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ তুলে তাঁরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, তাঁদের শিশুকে পেটের ব্যথার জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে চিকিৎসার পর তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হওয়ায় তাঁরা চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি চিকিৎসকের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা নথিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, শিশুটির আগে থেকেই জ্বরের কারণে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তার শারীরিক অবস্থার পূর্ব ইতিহাস, কী কী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, চেম্বারে কোন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল এবং তার পর কত সময়ের মধ্যে অবস্থার অবনতি ঘটে—এই সমস্ত তথ্যই তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
১১ বছরের একটি শিশুর মৃত্যু ঘিরে রামপুরহাটে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগের পাশাপাশি মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের অভিযোগ সত্য কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
চিকিৎসকের চেম্বারে দেওয়া ইঞ্জেকশনের নাম, ডোজ এবং প্রয়োজনীয়তা, শিশুটির আগের চিকিৎসার ইতিহাস এবং হাসপাতালে পৌঁছনোর সময় তার শারীরিক পরিস্থিতি—সব কিছু খতিয়ে দেখার দাবি উঠতে পারে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি পরীক্ষা করেও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করা হতে পারে।
অন্য দিকে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে যদি তদন্ত শুরু হয়, তা হলে তদন্তকারী সংস্থার কাছে চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ও তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রকৃত কারণ সামনে না আসা পর্যন্ত ঘটনাটিকে নিশ্চিত ভাবে ‘ভুল ইঞ্জেকশনে মৃত্যু’ বলা যাচ্ছে না। আপাতত এটিই পরিবারের অভিযোগ।
মাত্র ১১ বছরের স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। একটি সাধারণ শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর কী ভাবে পরিস্থিতি এতটা গুরুতর হয়ে উঠল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন পরিবারের সদস্যেরা।
রামপুরহাটের এই ঘটনা ফের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে রোগী এবং চিকিৎসকের মধ্যে আস্থার প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তে যদি কোনও গাফিলতির প্রমাণ মেলে, তা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসবে। আর যদি অন্য কোনও চিকিৎসাগত কারণে মৃত্যু হয়ে থাকে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে তাই শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের বক্তব্য এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি—তিনটি দিকই সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ফলেই জানা যাবে, ১১ বছরের ওই পড়ুয়ার মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী কারণ ছিল।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments