Homeপশ্চিম বর্ধমানআসানসোলশিশু ‘কেনাবেচা’র অভিযোগ, আসানসোলে গ্রেফতার ৩

শিশু ‘কেনাবেচা’র অভিযোগ, আসানসোলে গ্রেফতার ৩

নিউজ ডেস্ক: মাত্র দু’মাসের শিশুকে এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আসানসোলে। পুলিশের দাবি, উত্তর ধাদকা
ChatGPT Image Aug 21, 2026, 04_17_19 PM

নিউজ ডেস্ক: মাত্র দু’মাসের শিশুকে এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আসানসোলে। পুলিশের দাবি, উত্তর ধাদকা এলাকার এক দম্পতির কাছ থেকে ২ মাস ১৩ দিনের এক শিশুপুত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই দম্পতি-সহ এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে বীরভূমের সিউড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে টাকা দিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য এসেছে। তবে শিশুটির প্রকৃত পরিচয়, তার জৈবিক বাবা-মা কারা এবং পুরো ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের নজরে এসেছে একটি সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী চক্র। তদন্তকারীদের অনুমান, শিশুটিকে দম্পতির হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির যোগাযোগ থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে আড়কাঠি হিসাবে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি যে বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে শিশুটিকে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ, তার ভূমিকা নিয়েও খোঁজখবর শুরু হয়েছে।

অভিযোগের সূত্রপাত কী ভাবে?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইমেল মারফত পাওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ পাওয়ার পর আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অনুসন্ধানের সূত্র ধরে উত্তর ধাদকার লাল বাঙ্গলা এলাকায় পৌঁছন তদন্তকারীরা। সেখানেই বিনোদকুমার গুপ্ত এবং তাঁর স্ত্রী ববিতা গুপ্তের হেফাজত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ধৃত বিনোদের বয়স ৪৭ বছর এবং ববিতার বয়স ৩৭ বছর। তাঁরা ওই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, বিনোদ রাজ্য সরকারের রেশন ডিলার। শিশুটিকে কী ভাবে তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু হয়।

এই ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর নাম অশোক ভওয়ালকা। ধাদকা রোডের বাসিন্দা অশোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শিশুটিকে দম্পতির কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী বা আড়কাঠি হিসাবে কাজ করেছিলেন। তবে তাঁর ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রথমে নিজেদের সন্তান বলেছিলেন দম্পতি

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একেবারে গোড়ায় ওই দম্পতি শিশুটিকে তাঁদের নিজেদের জৈবিক সন্তান বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের বক্তব্য এবং শিশুটির বিষয়ে পাওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ এবং অনুসন্ধানের পরই এক লক্ষ টাকার লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সিউড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে নগদ এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে এই দাবি এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। শিশুটিকে আদৌ কার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল, সেই ব্যক্তি বা পরিবারের পরিচয় কী, এবং অর্থের বিনিময়ে শিশুটিকে হস্তান্তরের ঘটনায় কারা যুক্ত ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছে পুলিশ।

নজরে সিউড়ির নার্সিংহোম

এই ঘটনায় তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে সিউড়ির ওই বেসরকারি নার্সিংহোম। শিশুটির জন্মের সঙ্গে নার্সিংহোমটির কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, সেখানে শিশুটিকে কী ভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং পরে কী ভাবে তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হল—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। কোনও শিশুকে আইনসঙ্গত দত্তক প্রক্রিয়ার বাইরে অর্থের বিনিময়ে অন্য কারও কাছে তুলে দেওয়া হয়ে থাকলে, তার সঙ্গে একাধিক আইনি প্রশ্ন জড়িয়ে পড়ে। সেই কারণেই শিশুটির নথিপত্রও পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ আরও খতিয়ে দেখছে, শিশুটির জন্ম সংক্রান্ত কোনও নথি তৈরি বা ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। বিশেষ করে জন্ম শংসাপত্রে শিশুটির বাবা-মা হিসাবে কার নাম রয়েছে, সেই তথ্য সত্য কি না এবং নথি তৈরির ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

শিশুটির নিরাপত্তায় প্রশাসনের নজর

উদ্ধারের পর শিশুটিকে কোনও অভিযুক্তের হেফাজতে রাখা হয়নি। নির্ধারিত আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে তাকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা, পরিচর্যা এবং পরবর্তী সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তদন্তকারীদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শিশুটির প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা। তার জৈবিক বাবা-মা কারা, কোথা থেকে শিশুটিকে আনা হয়েছিল, কী ভাবে দম্পতির কাছে পৌঁছল এবং এই প্রক্রিয়ায় আর কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন জড়িত ছিল কি না—প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

একই সঙ্গে এক লক্ষ টাকার কথিত লেনদেনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা নগদে দেওয়া হয়েছিল কি না, কার হাতে পৌঁছেছিল এবং সেই অর্থের সঙ্গে আর কোনও ব্যক্তির যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

আরও কারা জড়িত, খোঁজ পুলিশের

শুধু ধৃত তিন জনকে ঘিরেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না পুলিশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় আরও কয়েক জন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থাকতে পারে। তাঁদের পরিচয় এবং শিশুটির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের সূত্র খোঁজা হচ্ছে।

আসানসোলের ডিসিপি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, শিশুটি কী ভাবে, কার কাছ থেকে এবং কোন পরিস্থিতিতে ওই দম্পতির কাছে পৌঁছেছিল, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ছবি পাওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ, এখনই ঘটনার সমস্ত দিক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ।

ধৃত তিন জনকে আদালতে পেশ করে তাঁদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করার কথা জানিয়েছে তদন্তকারী দল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শিশুটির উৎস এবং কথিত লেনদেনের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।

এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে উদ্ধার হওয়া শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং প্রকৃত পরিচয়। পাশাপাশি, যদি সত্যিই আইনসঙ্গত দত্তক প্রক্রিয়ার বাইরে অর্থের বিনিময়ে শিশুকে হস্তান্তরের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তার সঙ্গে যুক্ত পুরো চক্রের সন্ধান পাওয়াও পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য। আপাতত তিন জন গ্রেফতার হলেও তদন্ত কোন দিকে গড়ায়, সিউড়ির নার্সিংহোমের ভূমিকা কী ভাবে সামনে আসে এবং আরও কারও নাম প্রকাশ্যে আসে কি না, সে দিকেই নজর রয়েছে।
এক নজরে

এক নজরে

তদন্ত: শিশুটির পরিচয়, জৈবিক বাবা-মা, নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য অন্য অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্ত চলছে

স্থান: আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান

উদ্ধার: ২ মাস ১৩ দিনের এক শিশুপুত্র

গ্রেফতার: বিনোদকুমার গুপ্ত, ববিতা গুপ্ত এবং অশোক ভওয়ালকা

অভিযোগ: এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে নেওয়া হয়েছিল

তদন্তে নজরে: সিউড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোম

পুলিশের সন্দেহ: একাধিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থাকতে পারে

আইনি প্রশ্ন: শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া মানা হয়েছিল কি না

বর্তমান অবস্থা: শিশুটিকে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved