Last updated: October 5th, 2026 at 01:53 pm

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বস্তির খবর হিন্দুস্থান কেবলসের প্রাক্তন কর্মীদের জন্য। প্রভিডেন্ট ফান্ডের ‘রিজার্ভ অ্যান্ড সারপ্লাস’ বাবদ আটকে থাকা অর্থ কর্মীদের প্রাপ্য বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই রায়ের পর বহুদিন ধরে বকেয়া পাওনার আশায় থাকা হিন্দুস্থান কেবলসের প্রাক্তন কর্মী ও আধিকারিকদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
২১ অগস্ট ২০২৬-এ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত (পাল) হিন্দুস্থান কেবলস এক্স-অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের দায়ের করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। মামলাটি ছিল প্রভিডেন্ট ফান্ডে থাকা ‘রিজার্ভ অ্যান্ড সারপ্লাস’ অর্থের দাবি নিয়ে। আদালত সংশ্লিষ্ট পিএফ কর্তৃপক্ষের আগের নির্দেশ খারিজ করে কর্মীদের প্রাপ্য অর্থ নির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, হিন্দুস্থান কেবলসের রূপনারায়ণপুর ইউনিট-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সংস্থার নিজস্ব প্রভিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্টের সদস্য ছিলেন। ২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর সংস্থাটির পিএফ সংক্রান্ত ছাড় বা রিল্যাক্সেশন প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ট্রাস্টের অর্থ ও সংশ্লিষ্ট নথি পিএফ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এই সময়েই ‘রিজার্ভ অ্যান্ড সারপ্লাস’ হিসাবে একটি উল্লেখযোগ্য অর্থের হিসাব সামনে আসে। আদালতের নথিতে আধিকারিকদের পিএফ ট্রাস্টের ক্ষেত্রে প্রায় ১২ কোটি ৮৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬৩৪ টাকার একটি সারপ্লাসের উল্লেখ রয়েছে। কর্মীদের দাবি ছিল, তাঁদের প্রত্যেকের নামে যে পরিমাণ অর্থ হিসাব করা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী ওই অর্থের অংশ তাঁদের পাওনা।
তবে পিএফ কর্তৃপক্ষের তরফে আগে জানানো হয়েছিল, একবার অর্থ কেন্দ্রীয় বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কাছে স্থানান্তরিত হওয়ার পরে ‘রিজার্ভ অ্যান্ড সারপ্লাস’ আলাদা করে কর্মীদের মধ্যে বণ্টনের বিধান নেই। সেই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয় হিন্দুস্থান কেবলসের প্রাক্তন আধিকারিকদের সংগঠন।
শুনানিতে আদালত দেখতে পায়, পিএফ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া ‘পাস্ট অ্যাকিউমুলেশন স্টেটমেন্ট’-এ কর্মীদের পৃথক প্রাপ্যের হিসাব উল্লেখ ছিল। সেই নথি বিবেচনা করে আদালত জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা রিজার্ভ ও সারপ্লাস অর্থে নিজেদের অংশ পাওয়ার অধিকারী। ফলে আগের নির্দেশগুলি খারিজ করে প্রত্যেক কর্মীর নামে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মীদের প্রাপ্য অর্থ নির্দিষ্ট হিসাবের ভিত্তিতে দুই মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা। একই সঙ্গে বিধিসম্মত হারে সুদ দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পাওনার অপেক্ষায় থাকা প্রাক্তন কর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই আশার সঞ্চার হয়েছে।
হিন্দুস্থান কেবলসের কারখানা বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কর্মীদের একাংশের অবসরকালীন পাওনা ও অন্যান্য আর্থিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের এই রায় তাঁদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এখন আদালতের নির্দেশ কার্যকর করে পিএফ কর্তৃপক্ষ কবে টাকা মেটায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন প্রাক্তন কর্মীরা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments