Last updated: October 5th, 2026 at 01:45 pm

নিউজ ডেস্ক: তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাত্তূর থেকে পাকিস্তানি গুপ্তচরের কাছে ভারতীয় নৌবাহিনীর সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে এক বাঙালি নৌসেনাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বয়স ৩১ বছর। অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই) সেল তাঁকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে যোগাযোগের পর ধীরে ধীরে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপরই নৌবাহিনী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওই মহিলার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রদীপ ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর পোস্টিং ছিল বিশাখাপত্তনমের ইস্টার্ন নেভাল কম্যান্ডে। সম্প্রতি ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সে যোগ দিতে তিনি তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাত্তূরের রেড ফিল্ডস এলাকায় নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র আইএনএস অগ্রণী-তে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে প্রদীপের পরিচয় হয়। কথাবার্তা ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর ওই মহিলাই পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ‘অ্যাসেট’ হিসেবে কাজ করছিলেন বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। অভিযোগ, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রদীপের কাছ থেকে নৌবাহিনীর বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
বিশেষ করে বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটির কৌশলগত অবস্থান, নৌবহরের গতিবিধি এবং অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য বাইরে গিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে ঠিক কী কী তথ্য পাচার করা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ ছবি এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণেই প্রদীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্যের পরিমাণ এবং সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে।
কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সূত্রের দাবি, প্রদীপের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালানোর সময় বেশ কিছু সন্দেহজনক বিষয় নজরে আসে। তাঁর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট খতিয়ে দেখার পর তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়ে। এরপর কয়েক দিন নজরদারি চালিয়ে শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাঁকে বিজয়ওয়াড়ায় কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, তথ্য পাচারের বিনিময়ে প্রদীপ কোনও আর্থিক সুবিধা পেয়েছিলেন কি না। পাশাপাশি এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এর আগে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশানা করে হানি ট্র্যাপের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে কোয়েম্বাত্তূরের এই গ্রেফতারির পর ফের প্রশ্ন উঠছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কীভাবে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে। প্রদীপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং কতটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে গিয়েছে, তদন্ত শেষ হলেই সেই ছবিটি আরও স্পষ্ট হবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments