Homeজেলাআসানসোলে ইসিএলের জমিতে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ প্রাক্তন পুর প্রতিনিধির বিরুদ্ধে

আসানসোলে ইসিএলের জমিতে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ প্রাক্তন পুর প্রতিনিধির বিরুদ্ধে

eisamay_2026-10-02_hxg25t08_petrol-pump

নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে ইসিএলের জমি দখল করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আসানসোল পুরনিগমের ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধেমোমেন এলাকায় এই অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন তৃণমূল পুর প্রতিনিধি সঞ্জয় নোনিয়ার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উত্তোলক সংস্থা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা ইসিএলের দাবি, তাদের জমিতে একটি পেট্রল পাম্প এবং পরিবহণ ব্যবসার কার্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতে মামলা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে বিতর্কিত জমির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে যায় ইসিএলের একটি দল। সেখানে জমির মাপজোক করা হয়। মাপজোকের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানান। তাঁদের দাবি, যে জমিতে ইসিএল কর্তৃপক্ষ মাপজোক করছে, সেটি সঞ্জয় নোনিয়ার জমি। এই নিয়ে ঘটনাস্থলে বিক্ষোভও হয়। তবে পুলিশ ও সিআইএসএফ বাহিনী মোতায়েন থাকায় মাপজোকের কাজে বড় কোনও বাধা তৈরি হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

ইসিএলের অভিযোগ, সংস্থার জমিতে অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্যিক পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। পেট্রল পাম্পের পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবসার অফিসও সেখানে রয়েছে বলে দাবি করেছে কয়লা সংস্থাটি। জমির মালিকানা এবং সেখানে নির্মাণের বৈধতা নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তবে ইসিএলের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সঞ্জয় নোনিয়ার আইনজীবী অবিনাশ মিশ্র। তাঁর দাবি, যে জমি নিয়ে বিবাদ তৈরি হয়েছে, তার মালিক সঞ্জয় নোনিয়াই। ইসিএল কর্তৃপক্ষ জমি মাপজোকের কাজে বাধা দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, আদালত থেকে ‘স্টে-অর্ডার’ নেওয়া রয়েছে। ফলে ইসিএল একতরফাভাবে কোনও নির্মাণ ভেঙে দিতে পারবে না। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই ইসিএলের তরফে মাপজোক করা হয়েছে। তবে মাপজোকের ফলাফল নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সংস্থাটি। ফলে জমিটি আদৌ ইসিএলের মালিকানাধীন কি না, কিংবা সেখানে নির্মাণ ও ব্যবসা চালানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জমি দখলের অভিযোগ, অন্যদিকে জমির মালিকানা নিয়ে প্রাক্তন পুর প্রতিনিধির পক্ষের দাবি—দুইয়ের জেরে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে।

এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং জমির মাপজোক সংক্রান্ত রিপোর্টের দিকে। আদালতের নির্দেশ এবং সরকারি নথিপত্রের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত জমির মালিকানা ও সেখানে ব্যবসা চালানোর বৈধতা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট হবে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved