Homeবিদেশ৭৬৯ কোটির অস্ত্র কেলেঙ্কারি! ভারতীয় সংস্থার যোগে ইস্তফা এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

৭৬৯ কোটির অস্ত্র কেলেঙ্কারি! ভারতীয় সংস্থার যোগে ইস্তফা এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের জন্য গোলাবারুদ কেনার প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরোর প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বড় বিতর্কে জড়াল এস্তোনিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থে
resizeplus_ChatGPT Image Sep 4, 2026, 11_42_06 AM

নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের জন্য গোলাবারুদ কেনার প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরোর প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বড় বিতর্কে জড়াল এস্তোনিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থে হওয়া এই চুক্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জেরে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা করলেন এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হ্যান্নো পেভকুর। ভারতীয় মালিকানাধীন একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি, বিপুল অগ্রিম অর্থপ্রদান, গোলাবারুদ সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি লড়াই— সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য আর্টিলারি শেল বা কামানের গোলা কেনার পরিকল্পনা থেকে। ২০২৪ সালে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ সংস্থা RKIK ইতালিতে নথিভুক্ত Datasel S.R.L.-এর সঙ্গে চুক্তি করে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই সংস্থার মালিকানা ভারতীয় Neco Defence Munitions-এর সঙ্গে যুক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের European Peace Facility-এর অর্থ ব্যবহার করে এই প্রকল্পে দফায় দফায় প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরো অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ আনুমানিক ৭৬৮-৭৬৯ কোটি টাকা।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সরবরাহকারী সংস্থার পূর্ব অভিজ্ঞতা। এস্তোনিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ERR-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, চুক্তির সময় Datasel এবং তার ভারতীয় মালিকানাধীন সংস্থার আর্টিলারি শেল সরবরাহের পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তদন্তে উঠে আসে, বিপুল অগ্রিম অর্থ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সরবরাহ নিয়ে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়।

শুধু সরবরাহে বিলম্ব নয়, কিছু রিপোর্টে গোলাবারুদের গুণমান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এস্তোনিয়ার পক্ষ থেকে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বিষয়টি আদালত ও আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়াতেও পৌঁছেছে। এই ঘটনার সঙ্গে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হিসাবরক্ষণ ও ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই এস্তোনিয়ার ন্যাশনাল অডিট অফিস প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর সমালোচনা করে। সেই প্রেক্ষিতেই বুধবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান হ্যান্নো পেভকুর। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে সরাসরি কোনও ভূমিকা না থাকলেও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের রাজনৈতিক দায়িত্ব তিনি এড়িয়ে যেতে চান না। ২০২২ সাল থেকে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

তবে এখানেই গল্পের শেষ নয়। চুক্তির কেন্দ্রে থাকা Datasel-এর দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সংস্থাটির বক্তব্য, এস্তোনিয়া চুক্তি বাতিল করার আগেই তারা চুক্তিবদ্ধ গোলাবারুদের একটি বড় অংশ সরবরাহ করেছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৫৯ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছিল এবং চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল হওয়ায় সংস্থাটিই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেই কারণেই এস্তোনিয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, এক দিকে এস্তোনিয়ার অভিযোগ— অগ্রিম বিপুল অর্থ দেওয়ার পরেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গোলাবারুদ সরবরাহ হয়নি এবং সরবরাহ হওয়া সামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অন্য দিকে Datasel-এর দাবি— তারা চুক্তির অধিকাংশ দায়িত্ব পালন করেছিল, কিন্তু এস্তোনিয়ার সিদ্ধান্তেই চুক্তি ভেঙে যায়। ফলে বিষয়টি এখনও সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয়নি এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

এই ঘটনায় ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের নাম আন্তর্জাতিক বিতর্কে উঠে আসায় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ সংস্থার পাল্টা দাবি রয়েছে এবং মামলাটি এখনও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

এখন নজর থাকবে, এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত এই বিতর্কে পরবর্তী তদন্তে কী উঠে আসে এবং আদালত বা আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের দাবিকে কতটা গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থে হওয়া এই ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা চুক্তির দায় কার উপর গিয়ে পড়ে, সেই প্রশ্নও এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved