Homeরাজ্যডিভিসির জল ছাড়ায় হুগলি-হাওড়ায় বন্যার আশঙ্কা, ত্রাণ-উদ্ধারে প্রস্তুতি

ডিভিসির জল ছাড়ায় হুগলি-হাওড়ায় বন্যার আশঙ্কা, ত্রাণ-উদ্ধারে প্রস্তুতি

resizeplus_Screenshot 2026-09-04 120358_edited

নিউজ ডেস্ক; ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় হুগলি ও হাওড়ার গ্রামীণ এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্বারকেশ্বর, দামোদর, মুন্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ-সহ বিভিন্ন নদীতে ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপর দিয়ে জল বইছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। নদীতে জলের চাপ আরও বাড়লে বাঁধ ভেঙে প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে। পুলিশ এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকে দুই জেলার পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। নদীর জল উপচে গ্রামের ভিতরে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সম্ভাবনায় চিন্তায় পড়েছেন ধান ও আনাজ চাষিরা। বিশেষ করে যাঁদের ফসল কাটার সময় এসে গিয়েছে, তাঁদের উদ্বেগ আরও বেশি।

ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চাষিরা

উদয়নারায়ণপুরের হরিহরপুর এলাকার বাসিন্দা গণেশ শাসমল বলেন, ‘‘৩৬ হাজার টাকা ঋণ করে প্রায় সাড়ে চার বিঘে জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। ভালোই ধান হয়েছিল। দিন পনেরো পরেই মাঠ থেকে ধান উঠে যেত। তার আগেই যদি বন্যা হয়ে যায়, সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে।’’

গণেশের কথায়, ফসলের উপর নির্ভর করেই বহু কৃষক সংসার চালান। চাষের জন্য ঋণ নেওয়ার পর জমি থেকে ধান ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু বন্যার আশঙ্কায় সেই ফসল ঘরে তোলা নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নদীর জল বাড়লে শুধু ধান নয়, আনাজ চাষেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় প্রায় ২০০ জনের

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যার আশঙ্কা মাথায় রেখে উদয়নারায়ণপুরের বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ জনকে রাখা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, প্রয়োজন হলে আরও মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বন্যার আশঙ্কায় বহু সন্তানসম্ভবা মহিলা উদয়নারায়ণপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে তাঁদের কতজন, কী কারণে ভর্তি হয়েছেন বা হাসপাতালের তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।

বাঁধ পরিদর্শনে প্রশাসনের কর্তারা

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলাশাসক দীপাপ্রিয়া পি, হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা এবং সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা দামোদরের বাঁধ পরিদর্শন করেন। নদীর জলস্তর, বাঁধের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি খতিয়ে দেখা হয় বলে জানা গিয়েছে।

বাঁধের কোথাও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে কি না, বা জলের চাপ সামলাতে কোনও জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন কি না, তা প্রশাসনের নজরে রয়েছে। সম্ভাব্য বন্যার কথা মাথায় রেখে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের প্রস্তুতিও চলছে।

হাসপাতালে অ্যান্টিভেনাম মজুত

বন্যার পরিস্থিতিতে সাপের উপদ্রব বাড়তে পারে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখে হাসপাতালগুলিতে অ্যান্টিভেনাম মজুত রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জলমগ্ন এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা এবং জরুরি চিকিৎসার বিষয়টিও প্রশাসনের প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে।

তবে বন্যা হলে কোন কোন এলাকায় বেশি ক্ষতি হতে পারে, কতগুলি পরিবারকে সরিয়ে নিতে হবে বা কতগুলি ত্রাণ শিবির প্রস্তুত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

হুগলিতেও নদীঘাটে নজরদারি

হুগলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি চলছে। জেলার বিভিন্ন নদীর ফেরিঘাটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নদীপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে অনেকেই সেই নিয়ম মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত নৌকো ও স্পিড বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নদীর জলস্তর বাড়লে বা কোনও এলাকায় জল ঢুকে পড়লে দ্রুত উদ্ধারকাজে নামার জন্য এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুক্রবারের পরিস্থিতির দিকে নজর

দুই জেলার প্রশাসনের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হল, নদীর জলস্তর বাড়লে সম্ভাব্য প্লাবন মোকাবিলা করা। বাঁধের পরিস্থিতি নজরে রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা এবং প্রয়োজন হলে তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া—এই কাজগুলিই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে।

হাওড়ায় ইতিমধ্যেই ত্রাণ শিবিরে মানুষকে রাখা হয়েছে। হুগলিতেও নদীঘাটে পুলিশ মোতায়েন এবং নৌযান প্রস্তুত রাখার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনের তরফে আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।

তবে নদীর জল কতটা বাড়বে, কোন কোন এলাকায় জল ঢুকবে এবং বাঁধের উপর কতটা চাপ পড়বে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। শুক্রবার ভোর থেকে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে বলে সেচ দপ্তর যে আশঙ্কা জানিয়েছে, তার দিকে নজর রাখছেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

চাষিদের উদ্বেগ, প্রশাসনের প্রস্তুতি

বন্যার আশঙ্কায় সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। ধান ও আনাজের মতো ফসলের ক্ষতি হলে তাঁদের আর্থিক সমস্যাও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁরা ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন, তাঁদের কাছে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্য দিকে, প্রশাসনের তরফে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে পরিস্থিতি কতটা খারাপ হবে, তা নির্ভর করছে নদীর জলস্তর এবং বাঁধের অবস্থার উপর। এখন নজর থাকবে, শুক্রবার ভোর থেকে জলস্তর কতটা বাড়ে এবং প্রশাসনকে আর কী কী পদক্ষেপ করতে হয়।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved