Homeদক্ষিণ ২৪ পরগনাসন্দেশখালিসুন্দরবনের আকাশে অচেনা ড্রোন! সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় উড়ান ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

সুন্দরবনের আকাশে অচেনা ড্রোন! সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় উড়ান ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক: নদী পেরিয়ে এবার সুন্দরবনের আকাশে নজর অচেনা উড়ন্ত যন্ত্রের। উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঝেমধ্যেই ড্রোন উড়তে
1ac83ce0-b9d9-4a32-8030-a0c27eabc893

নিউজ ডেস্ক: নদী পেরিয়ে এবার সুন্দরবনের আকাশে নজর অচেনা উড়ন্ত যন্ত্রের। উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঝেমধ্যেই ড্রোন উড়তে দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। হিঙ্গলগঞ্জ, যোগেশগঞ্জ, ন্যাজাট, মিনাখাঁ থেকে শুরু করে সুন্দরবন সংলগ্ন সন্দেশখালির বিভিন্ন এলাকায় আকাশে ড্রোনের উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি স্পর্শকাতর এলাকাগুলির উপর দিয়ে ড্রোন ওড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, যে ড্রোনগুলি বিভিন্ন সময়ে আকাশে দেখা যাচ্ছে, সেগুলির সঙ্গে কোনও সরকারি নজরদারি ব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তাঁরা জানেন না। ফলে প্রশ্ন উঠছে—কারা এই ড্রোনগুলি পরিচালনা করছেন? কী উদ্দেশ্যেই বা সুন্দরবনের সীমান্তবর্তী এলাকার আকাশে সেগুলি ওড়ানো হচ্ছে? ড্রোনে যদি ছবি বা ভিডিয়ো তোলা হয়ে থাকে, তা কোথায় ব্যবহার করা হচ্ছে?

সুন্দরবন ও তার সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এমনিতেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। একদিকে রয়েছে রায়মঙ্গল, কালিন্দী, ইছামতীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীপ্রবাহ, অন্যদিকে রয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নদীপথ, সেতু, সীমান্তের রাস্তা, বাজার, প্রশাসনিক দফতর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিকাঠামো। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এই সব এলাকার উপর দিয়েই ড্রোন উড়তে দেখা যাচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

এখানেই তৈরি হয়েছে মূল উদ্বেগ। কোনও ড্রোন থেকে যদি অনুমতি ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ছবি বা ভিডিয়ো সংগ্রহ করা হয়, তা হলে সেই তথ্যের ব্যবহার কী ভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। বিশেষত সীমান্তবর্তী এলাকার ক্ষেত্রে ছবি বা ভিডিয়ো অন্যত্র ছড়িয়ে পড়লে তা নিরাপত্তার দিক থেকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অনেক সময় আকাশে ড্রোন দেখতে পাওয়ার পর তার ছবি বা ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট এলাকার ছবি কী ভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পরে তা কোন উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে আসছে, সে বিষয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে এই ড্রোনগুলি আদৌ কোনও বেআইনি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, অথবা এর পিছনে কোনও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি। ফলে আপাতত বিষয়টি অভিযোগ ও আশঙ্কার পর্যায়েই রয়েছে।

এর আগেও হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় ড্রোন উড়তে দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে রাতের আকাশে ড্রোনের মতো উড়ন্ত বস্তু দেখা যাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের জল্পনা শুরু হয়। সেটি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে এসেছে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছিল স্থানীয় মহলে। সীমান্তবর্তী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তখন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অনেকে।

ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনিক স্তরেও নড়াচড়া হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আতঙ্কের মাত্রা কিছুটা কমে। কিন্তু বর্তমানে একাধিক এলাকায় ফের ড্রোনের উপস্থিতির অভিযোগ সামনে আসায় পুরনো সেই উদ্বেগই নতুন করে ফিরে এসেছে।

সীমান্ত এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর ক্ষেত্রে অনুমতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা যদি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকার উপর ড্রোন ওড়ান, তা হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসা প্রয়োজন। ড্রোনটির মালিক কে, কোথা থেকে সেটি পরিচালিত হচ্ছে, তার উড়ানের অনুমতি রয়েছে কি না এবং সেটিতে কী ধরনের ছবি বা ভিডিয়ো ধারণ করা হচ্ছে—প্রয়োজনে এই বিষয়গুলিও তদন্ত করে দেখা দরকার বলে মনে করছেন তাঁরা।

সুন্দরবনের মতো দুর্গম এলাকায় নজরদারি চালানো এমনিতেই সহজ নয়। নদী, খাঁড়ি, জঙ্গল এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত—সব মিলিয়ে এই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিজস্ব কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই জায়গায় অচেনা ড্রোনের বারবার উপস্থিতির অভিযোগ প্রশাসনের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পাওয়াই স্বাভাবিক। কারণ ড্রোন যেমন বৈধ নজরদারি, পর্যবেক্ষণ বা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা যায়, তেমনই অনুমতি ছাড়া ব্যবহার হলে তা নিয়ে নিরাপত্তাজনিত প্রশ্নও উঠতে পারে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কাকে কোনও নির্দিষ্ট অপরাধ বা সীমান্ত-চক্রান্তের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ড্রোনগুলি ঠিক কার, কেন উড়ছে এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না—সেই তথ্য তদন্তের পরেই স্পষ্ট হতে পারে। তাই আতঙ্ক না ছড়িয়ে প্রশাসনের তরফে বিষয়টির বাস্তবতা যাচাই করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনও অচেনা ড্রোন দেখতে পেলে নিজে থেকে সেটি ধরার বা অনুসরণ করার চেষ্টা না করে পুলিশ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে যাচাই না-করা ছবি বা ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়লে তার সত্যতা যাচাই করাও জরুরি।

সব মিলিয়ে, রায়মঙ্গল-কালিন্দীর জলপথ থেকে সুন্দরবনের আকাশ—সীমান্তবর্তী এই বিস্তীর্ণ এলাকায় অচেনা ড্রোনের উপস্থিতি এখন নতুন করে নজর কেড়েছে। এটি নিছক সাধারণ উড়ান, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি এবং তদন্তেই সেই ধোঁয়াশা কাটার অপেক্ষা।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved