Last updated: September 24th, 2026 at 01:57 pm

নিউজ ডেস্ক; গঙ্গার ভাঙন নিয়ে ফের বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাজ্যে। মালদার মানিকচক ও ভুতনি এলাকায় নদীভাঙনের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এর প্রভাব পড়তে পারে ফরাক্কা ব্যারাজ এবং কলকাতা বন্দরের উপরও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চেয়েছে রাজ্য।
রাজ্যের সেচ দফতরের তরফে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নবান্নের বক্তব্য, এত বড় পরিসরে নদীভাঙন মোকাবিলা কোনও একটি রাজ্যের পক্ষে একা সম্ভব নয়। গঙ্গা অববাহিকার সঙ্গে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ড—এই তিন রাজ্যের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সেচ দফতরের আধিকারিকদের মতে, বিহার-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের রাজমহল পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় গঙ্গার বুকে বড় চর তৈরি হওয়া নদীর গতিপথ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হতে পারে। তার প্রভাব পড়ছে মালদা ও মুর্শিদাবাদের নদী তীরবর্তী এলাকাতেও।
সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে মানিকচক ও ভুতনি এলাকায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, গঙ্গা ও ফুলহার নদীর মধ্যে দূরত্ব কমছে। দুই নদীর গতিপথের পরিবর্তন ভবিষ্যতে বড় ধরনের জলপ্রবাহের পরিবর্তন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের একাংশের।
এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ফরাক্কা ব্যারাজের ভবিষ্যৎও। ফরাক্কা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জল নিয়ন্ত্রণ কাঠামো। এর সঙ্গে গঙ্গার জলপ্রবাহ এবং কলকাতা বন্দরের নাব্যতার বিষয়টিও সম্পর্কিত। সম্প্রতি ফরাক্কা ব্যারাজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার ঘটনাও সামনে এসেছিল।
রাজ্যের বক্তব্য, নদীভাঙন রুখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু সাময়িকভাবে বাঁধ মেরামত বা পাড় রক্ষা নয়, গোটা গঙ্গা অববাহিকার জলপ্রবাহ, নদীর গতিপথ এবং পলি জমার বিষয়টি একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অর্থসাহায্য, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের উপর জোর দিচ্ছে নবান্ন। আগামী দিনে নদীর গতিপথের পরিবর্তন কী ভাবে সামাল দেওয়া যায়, সেটাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় প্রশ্ন।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments