Homeজলপাইগুড়িলাটাগুড়িলাটাগুড়ির বিলাসবহুল রিসর্টে আচমকা প্রশাসনের হানা, রান্নাঘর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার! মিলল পোকাও

লাটাগুড়ির বিলাসবহুল রিসর্টে আচমকা প্রশাসনের হানা, রান্নাঘর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার! মিলল পোকাও

নিউজ ডেস্ক; বারাসত, এগরা, শক্তিগড়-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে অভিযানের পর এ বার প্রশাসনের নজরে উত্তরবঙ্গের পর্যটনকেন্দ্র
resizeplus_Screenshot 2026-09-02 132506_edited

নিউজ ডেস্ক; বারাসত, এগরা, শক্তিগড়-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে অভিযানের পর এ বার প্রশাসনের নজরে উত্তরবঙ্গের পর্যটনকেন্দ্র লাটাগুড়ি। মঙ্গলবার বিকেলে জলপাইগুড়ির লাটাগুড়িতে একাধিক বেসরকারি রিসর্টে আচমকা অভিযান চালাল জেলা প্রশাসন। অভিযোগ, কয়েকটি বিলাসবহুল রিসর্টে সরকারি নির্দেশিকা যথাযথ ভাবে মানা হচ্ছে না। এমনকি পর্যটকদের জন্য রান্না করা খাবারে মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া কিংবা নষ্ট খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এ দিন একাধিক রিসর্টের রান্নাঘর এবং অন্যান্য পরিষেবা খতিয়ে দেখেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

মঙ্গলবার বিকেলে মাল মহকুমাশাসক উৎকর্ষ খান্ডালের নেতৃত্বে শুরু হয় এই অভিযান। প্রশাসনের একাধিক দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত দল লাটাগুড়ির বিভিন্ন বেসরকারি রিসর্টে পৌঁছে যায়। আগে থেকে কোনও রকম জানান না দিয়েই এই অভিযান চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। ফলে আচমকা প্রশাসনিক আধিকারিকদের দেখে রিসর্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়ায়।

অভিযানে মূলত রিসর্টের রান্নাঘরগুলির দিকে বিশেষ নজর দেন আধিকারিকেরা। পর্যটকদের জন্য কী ধরনের খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলি কতটা নিরাপদ, খাদ্যসামগ্রীর মেয়াদ রয়েছে কি না, সংরক্ষণের নিয়ম মানা হচ্ছে কি না—একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি রান্নাঘরে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার নিয়েও পরীক্ষা চালানো হয়। বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত সিলিন্ডারই ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও দেখা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রশাসনের অভিযানে কয়েকটি রিসর্টের রান্নাঘর থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি বেশ কিছু নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবারও পাওয়া গিয়েছে। শুধু তাই নয়, উদ্ধার হওয়া কিছু খাদ্যসামগ্রীর নমুনায় পোকা থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এই ধরনের খাবার পর্যটকদের পরিবেশন করা হচ্ছিল কি না।

লাটাগুড়ি উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। গরুমারা জাতীয় উদ্যানকে কেন্দ্র করে সারা বছরই এই এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। বিশেষ করে শীতের মরসুমে বিভিন্ন রাজ্য এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা লাটাগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় আসেন। পর্যটনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছরে এলাকায় গড়ে উঠেছে বহু বেসরকারি হোটেল ও রিসর্ট। তার মধ্যে বেশ কিছু রিসর্ট নিজেদের বিলাসবহুল পর্যটন পরিষেবা দেওয়ার দাবি করে।

প্রশাসনের কাছে অভিযোগ পৌঁছেছিল, লাটাগুড়ির কয়েকটি রিসর্টে সরকারি নির্দেশিকা যথাযথ ভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। খাদ্যসামগ্রীর মান, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। পর্যটকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার সম্ভাবনার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে ছিল বলে সূত্রের খবর।

এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এ দিনের অভিযান বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। শুধু খাবারের গুণমান নয়, রিসর্টগুলিতে কোনও বেআইনি কার্যকলাপ চলছে কি না, প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিষেবা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না—সামগ্রিক ভাবে সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হয়।

অভিযানে মাল মহকুমাশাসক উৎকর্ষ খান্ডাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ক্রান্তির বিডিও রিমিল সোরেন, মাল মহকুমার খাদ্য দফতরের আধিকারিক নওমা লেপচা এবং ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিক তেনজিং ভুটিয়া-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের একসঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানোয় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেই মনে করছে স্থানীয় মহল।

প্রশাসনিক দলের সদস্যেরা রিসর্টের রান্নাঘরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। খাদ্যসামগ্রী কোথায় রাখা হচ্ছে, কী ভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, রান্নায় ব্যবহৃত উপকরণের মেয়াদ পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না—সেগুলিও দেখা হয়। রান্নাঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য প্রস্তুতির সামগ্রিক পরিবেশ নিয়েও নজর দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালীন কয়েকটি খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে সেই নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পরই খাদ্যসামগ্রীর গুণমান এবং সেগুলি মানুষের খাওয়ার উপযোগী ছিল কি না, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

মাল মহকুমাশাসক উৎকর্ষ খান্ডাল জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ চলছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বিভিন্ন রিসর্টে সরকারি নির্দেশিকা কতটা কার্যকর ভাবে মানা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু খাবারের গুণমান নয়, রিসর্টের সামগ্রিক পরিষেবা ও নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, সেটিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে।

মহকুমাশাসক আরও জানিয়েছেন, বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও অনিয়ম বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। ফলে এ দিনের অভিযানের পর আগামী দিনে আরও কয়েকটি রিসর্ট প্রশাসনের নজরে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের একাংশের মতে, পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও পর্যটক রিসর্টে থাকার সময় খাবারের মান নিয়ে সমস্যায় পড়লে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নয়, গোটা পর্যটন এলাকার উপরই তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলেই মনে করছেন তাঁরা।

বিশেষ করে পর্যটন মরসুম শুরুর আগে এই ধরনের অভিযানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। লাটাগুড়িতে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসেন। তাঁদের বড় অংশই রিসর্টের পরিষেবার উপর নির্ভর করেন। ফলে খাবারের গুণমান, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, গ্যাস ব্যবহারের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সরকারি বিধি ঠিক ভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রিসর্ট কর্তৃপক্ষেরই।

এ দিনের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নষ্ট খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ সামনে আসায় সেই দায়িত্ব পালনের বিষয়টিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর পরীক্ষার রিপোর্ট কী আসে এবং কোনও রিসর্টের বিরুদ্ধে প্রশাসন পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে প্রশাসনের এই আচমকা অভিযানে লাটাগুড়ির পর্যটন ব্যবসায়ীদের কাছে স্পষ্ট বার্তা গিয়েছে—পর্যটকদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ও খাদ্য নিরাপত্তার বিধি অমান্য করলে তা আর সহজে এড়িয়ে যাওয়া হবে না।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved