Homeপশ্চিম মেদিনীপুরখড়্গপুররেলের রিপোর্টেও ধরা পড়ল কঙ্কালসার রূপ, সময়ানুবর্তিতায় দেশের ৬৯ নম্বরে খড়্গপুর ডিভিশন

রেলের রিপোর্টেও ধরা পড়ল কঙ্কালসার রূপ, সময়ানুবর্তিতায় দেশের ৬৯ নম্বরে খড়্গপুর ডিভিশন

নিউজ ডেস্ক: রেলের সময়ানুবর্তিতা ফের প্রশ্নের মুখে। যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে মেদিনীপুর থেকে হাওড়াগামী একটি ট্রেনের সময় ২৫ মিনিট এগিয়ে
পণের দাবিতে (3)

নিউজ ডেস্ক: রেলের সময়ানুবর্তিতা ফের প্রশ্নের মুখে। যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে মেদিনীপুর থেকে হাওড়াগামী একটি ট্রেনের সময় ২৫ মিনিট এগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অফিসযাত্রী এবং পড়ুয়ারা যাতে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন। কিন্তু রেলের ‘উন্নয়নমূলক’ কাজের জেরে সেই লক্ষ্য বিশ বাঁও জলে। সময় এগিয়ে দেওয়ার পরেও সমস্যার তিলমাত্র সমাধান হয়নি। বরং যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ৩৮৮১২ মেদিনীপুর-হাওড়া লোকাল এখন নিয়মিত প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে চলছে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছনো তো দূরের কথা, ট্রেনের সময় মেনে চলাটাই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের এই যাতায়াতে চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে হাজার হাজার নিত্যযাত্রীকে।

উন্নয়নের নামে ভোগান্তি, দায় কার?

আগে মেদিনীপুর স্টেশন থেকে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ছাড়ত মেদিনীপুর-হাওড়া লোকাল। পরে স্কুল এবং অফিসের সময়ের কথা বিবেচনা করে ট্রেনটির ছাড়ার সময় ২৫ মিনিট এগিয়ে সকাল ৯টা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, মেদিনীপুর থেকে পাঁশকুড়া পৌঁছতে ট্রেনটির সময় লাগার কথা প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, বাস্তবে প্রায়ই তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে চলার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে স্কুল, অফিস বা অন্য কাজে পৌঁছতে পারছেন না বহু মানুষ। ফলে রেলের সময়সূচির উপর নির্ভর করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

খড়্গপুর ডিভিশনের বেহাল দশা, ৬৯তম স্থানে

শুধু মেদিনীপুর-হাওড়া লোকাল নয়, খড়্গপুর ডিভিশনের একাধিক ইএমইউ এবং মেমু লোকাল নিয়ে একই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত তিন বছরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে যাত্রীদের দাবি। সময়ানুবর্তিতার নিরিখে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশন বর্তমানে একেবারে পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। ভারতীয় রেলের প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে দেশের ৭০টি রেলওয়ে ডিভিশনের সময়ানুবর্তিতার যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তাতে খড়্গপুর ডিভিশনের অবস্থান ৬৯ নম্বরে। অর্থাৎ শেষের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এই ডিভিশন। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পরেই লোকাল ট্রেনের দেরি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এক-দেড় ঘণ্টা দেরি এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নিত্যদিনের ঘটনা। কোনও কোনও ট্রেন আবার দু’-তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলছে। রেলের এই বেহাল দশা নিত্যযাত্রীদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিষেবা কমার জের, যাত্রীচাপ তুঙ্গে

খড়্গপুর-হাওড়া শাখায় একসময় ১৬৬টি ইএমইউ এবং ছ’টি মেমু চলত। করোনার সময় ২২টি ইএমইউ এবং ছ’টি মেমু পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেগুলির সবক’টি পরিষেবা আর চালু হয়নি। ফলে ট্রেনের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি চালু থাকা ট্রেনগুলিতে যাত্রীচাপও অনেক বেড়ে গিয়েছে। যাত্রীদের একাংশের দাবি, একমাত্র শিরোমণি এক্সপ্রেস ছাড়া অধিকাংশ ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কত ভয়াবহ পরিস্থিতি, তার উদাহরণ হিসেবে যাত্রীরা হাওড়া-ঘাটশিলা মেমুর কথা বলছেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ঘাটশিলা থেকে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ার পর বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের মধ্যে পাঁশকুড়ায় পৌঁছনোর কথা। কিন্তু বাস্তবে এই ট্রেন কখনও কখনও চার ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলছে এবং রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পাঁশকুড়ায় পৌঁছচ্ছে। শুধু লোকাল বা মেমু নয়, সাঁতরাগাছি-ঝাড়গ্রাম, ভদ্রক এক্সপ্রেস এবং জলেশ্বর-হাওড়া ট্রেনের মতো দূরপাল্লার ট্রেনগুলিও প্রায় প্রতিদিনই এক ঘণ্টা দেরিতে চলছে।

রেলের সাফাই বনাম যাত্রীদের ক্ষোভ

রেলের তরফে অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য উন্নয়নমূলক কাজকেই অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। খড়্গপুর ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার নিশান্ত কুমার জানান, উন্নত পরিষেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় রেলের পরিকাঠামোগত কাজ চলছে। যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কাজ করার কারণে কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও ট্রেন বাতিল করতে হচ্ছে, আবার কোথাও ঘুরপথে চালাতে হচ্ছে। তবে যাত্রীদের প্রশ্ন, উন্নয়নের কাজ চললেও প্রতিদিনের যাতায়াতে তাঁদের যে দীর্ঘ সময় নষ্ট হচ্ছে, তার সমাধান কবে হবে? সময়মতো পৌঁছতে না পারায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনই সরকারি কর্মী, ছাত্রছাত্রী এবং নিত্যযাত্রীদেরও ভোগান্তি বাড়ছে। পরিস্থিতির জেরে বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রী ট্রেন ছেড়ে বাসে যাতায়াত শুরু করেছেন। ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সময়ানুবর্তিতা ফেরানোর দাবি উঠেছে খড়্গপুর ডিভিশনে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন