Homeকলকাতানিউ টাউনে বস্তাবন্দি যুবকের দেহ উদ্ধার, সিসিটিভিতে দেহ ফেলার ছবি

নিউ টাউনে বস্তাবন্দি যুবকের দেহ উদ্ধার, সিসিটিভিতে দেহ ফেলার ছবি

নিউ টাউনের স্বামীজিনগর এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় এক যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে রাস্তার ধারে একটি বস্তা পড়ে
ChatGPT Image Aug 23, 2026, 10_37_08 AM

নিউ টাউনের স্বামীজিনগর এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় এক যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে রাস্তার ধারে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। কাছে গিয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, বস্তার ভিতরে রয়েছে এক যুবকের দেহ। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইকো পার্ক থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সৌরভ বিশ্বাস। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তবে সৌরভ কোথায় থাকতেন, তাঁর পরিবারের সদস্য কারা, কিংবা তিনি কী করতেন—এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনও পুলিশের হাতে আসেনি। মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে, যুবকের মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর। তাঁর শরীরে একাধিক ট্যাটুও রয়েছে। সেই ট্যাটু এবং অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাহায্যে মৃতের পরিচয় সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রের খবর, সিসিটিভি ফুটেজে এক যুবককে কাঁধে করে একটি দেহ নিয়ে ওই এলাকায় আসতে দেখা গিয়েছে। কিছুক্ষণ পর তিনি দেহটি সেখানে ফেলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। এই ফুটেজকে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তকারীদের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, সৌরভকে অন্য কোনও জায়গায় খুন করা হয়ে থাকতে পারে। পরে তাঁর দেহ বস্তাবন্দি করে স্বামীজিনগর এলাকায় এনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে দেহ ফেলে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি একাই এই কাজ করেছিলেন কি না, নাকি তাঁর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিলেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়ার দু’ থেকে তিন দিন আগেই ওই যুবককে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কী কারণে তাঁকে খুন করা হল এবং ঠিক কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে, দেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। শনিবার ভোর বা তার আগের কয়েক দিনের মধ্যে ওই এলাকায় কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গাড়ি দেখা গিয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

সিসিটিভি ফুটেজে যে যুবককে দেহ নিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে, তাঁর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজ মিলিয়ে তাঁর গতিবিধির সূত্র খোঁজা হচ্ছে। তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন এবং দেহ ফেলে যাওয়ার পর কোন পথে পালিয়ে যান, তা জানতে আশপাশের এলাকার আরও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশের তরফে মৃতের পরিচিতদেরও খোঁজ করা হচ্ছে। সৌরভ বিশ্বাস নামে কোনও যুবক গত কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন কি না, সেই তথ্যও বিভিন্ন থানার সঙ্গে সমন্বয় করে যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফোনের সূত্র, পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

ঘটনার পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন, কিংবা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে চাইছে না পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই খুনের কারণ ও ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে। আপাতত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সিসিটিভিতে ধরা পড়া সন্দেহভাজন যুবকের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

সৌরভকে কোথায় খুন করা হয়েছিল এবং কী ভাবে তাঁর দেহ নিউ টাউনের স্বামীজিনগরে এসে পৌঁছল—এই দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তের মূল জোর। সিসিটিভি ফুটেজ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে রহস্যের জট খুলবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

No Comments

তাজা খবর