Last updated: August 23rd, 2026 at 01:30 pm

নিউজ ডেস্ক:মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর এবং শক্তিপুর থানা এলাকায় পুলিশের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গুলি উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের দাবি, দুই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ১০টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১টি ম্যাগাজিন এবং ২২৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পৃথক দুই থানা এলাকায় মোট তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে প্রথম অভিযান চালায় বহরমপুর থানার পুলিশ। পুলিশের হেফাজতে থাকা বহরমপুর শহর যুব তৃণমূল সভাপতি পাপাই ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেই তল্লাশিতেই বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, পাপাই ঘোষের বাড়ি থেকে মোট সাতটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৮৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। শাসকদলের এক নেতার বাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই অস্ত্র তাঁর বাড়িতে কী ভাবে এল, তিনি নিজে এর সঙ্গে যুক্ত কি না, নাকি অন্য কেউ তাঁর বাড়িতে অস্ত্র মজুত করেছিল—সেই সমস্ত বিষয়ই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
অন্যদিকে, শক্তিপুর থানা এলাকাতেও একই রাতে পুলিশের অভিযান চলে। সেখানে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তদন্তকারীরা আরও দুই ব্যক্তির সন্ধান পান বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এরপর বাজারসৌ এলাকায় রাজ্যসড়কের উপর অভিযান চালিয়ে ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ছ’টি ম্যাগাজিন এবং ৪০ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে বহরমপুর এবং শক্তিপুর—দুই জায়গার অভিযান মিলিয়ে মোট ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১টি ম্যাগাজিন এবং ২২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শক্তিপুরে ধৃত দুই ব্যক্তি বিহারের মুঙ্গের থেকে ওই অস্ত্রগুলি সংগ্রহ করেছিলেন। পুলিশের অনুমান, অস্ত্র নিয়ে তাঁরা মুর্শিদাবাদের দিকে এসেছিলেন এবং নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় সেগুলি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা আজিমগঞ্জ হয়ে ভোরে বাজারসৌ স্টেশনে নামেন। এরপর রামনগর ঘাট পেরিয়ে পলাশী, বহরমপুর হয়ে ট্রেকারে জলঙ্গি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তাঁরা। বাজারসৌ স্টেশনে নামার পর রামনগরের দিকে যাওয়ার জন্য রাজ্যসড়ক ধরে হাঁটছিলেন ওই দুই ব্যক্তি। সেই সময়ই পুলিশ তাঁদের আটক করে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন এবং তাজা গুলি উদ্ধার হওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এখন পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এতগুলি অস্ত্র কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং কার হাতে সেগুলি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। মুঙ্গের থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে মুর্শিদাবাদে আনার পিছনে কোনও বড় অস্ত্র পাচারচক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জেলার আরও কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।
বহরমপুরে তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটিও আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ওই অস্ত্র ও গুলির সঙ্গে পাপাই ঘোষের সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাঁর পরিচিত বা সহযোগীদের কেউ এই ঘটনায় জড়িত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। পুলিশ তাঁর বাড়িতে অস্ত্র মজুতের কারণ সম্পর্কেও জানতে চাইছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি জেলা জুড়ে পাচারের জন্য আনা হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ তাজা গুলি উদ্ধারের ঘটনায় কোনও বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাইছে না পুলিশ।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রের উৎস, ক্রেতা এবং সম্ভাব্য পাচারপথ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মুঙ্গের থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত অস্ত্র পাচারের নেটওয়ার্কের সন্ধানেও তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের তথ্যও খতিয়ে দেখা হতে পারে। আপাতত বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মুর্শিদাবাদে পুলিশের তল্লাশি ও তদন্ত জারি রয়েছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments