Homeঅন্যান্যরেললাইনে উন্নয়ন কাজ, বাতিল একাধিক লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন! সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বদলাবে একাধিক ট্রেনের যাত্রাপথ

রেললাইনে উন্নয়ন কাজ, বাতিল একাধিক লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন! সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বদলাবে একাধিক ট্রেনের যাত্রাপথ

নিউজ ডেস্ক : রেললাইনে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের কাজের জেরে ফের ট্রেন পরিষেবায় নিয়ন্ত্রণ আনল রেল কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম রেলওয়ের বিভিন্ন অংশে নির্ধারিত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক
Rail.jpeg

নিউজ ডেস্ক : রেললাইনে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের কাজের জেরে ফের ট্রেন পরিষেবায় নিয়ন্ত্রণ আনল রেল কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম রেলওয়ের বিভিন্ন অংশে নির্ধারিত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজ চলবে। আর সেই কারণেই সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে একাধিক লোকাল, মেমু এবং দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু ট্রেন বাতিল নয়, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের যাত্রাপথও সাময়িক ভাবে ছোট করে দেওয়া হচ্ছে।

রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেল পরিকাঠামোর কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য এই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে ওই দিনগুলিতে যাত্রীদের আগে থেকেই ট্রেনের সময়সূচি এবং পরিষেবার পরিবর্তন সম্পর্কে জেনে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আদ্রা, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আসানসোল এবং খড়গপুর সংলগ্ন এলাকার নিত্যযাত্রীদের উপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

আদ্রা ডিভিশনে যে ট্রেনগুলি বাতিল করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে আসানসোল-আদ্রা-আসানসোল মেমু (৬৮০৪৬/৬৮০৪৫)। রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪, ১৭ এবং ২০ সেপ্টেম্বর এই পরিষেবা বাতিল থাকবে। একই ভাবে আদ্রা-ভাগা-আদ্রা মেমু (৬৮০৭৭/৬৮০৭৮) ১৫ এবং ২০ সেপ্টেম্বর চলবে না।

এ ছাড়াও যাত্রীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আসানসোল-পুরুলিয়া-আসানসোল মেমু (৬৩৫৯৪/৬৩৫৯৩)-র পরিষেবাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে এই পরিষেবা বাতিল থাকবে। রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৪, ১৭, ১৯ এবং ২০ সেপ্টেম্বর ট্রেনটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে আসানসোল ও পুরুলিয়ার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখতে হবে।

তবে শুধু লোকাল বা মেমু ট্রেনই নয়, উন্নয়নমূলক কাজের প্রভাব পড়ছে দূরপাল্লার ট্রেনেও। উত্তর-পশ্চিম রেলওয়ের পরিকাঠামোগত কাজের কারণে সাঁতরাগাছি-আজমের এক্সপ্রেস (০৮৬১১)-এর পরিষেবাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৪, ২১ এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ট্রেনটি বাতিল থাকবে।

ফিরতি পথে আজমের-সাঁতরাগাছি এক্সপ্রেস (০৮৬১২)-ও নির্দিষ্ট দিনে চলবে না। ১৭ এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের পাশাপাশি আগামী ১ অক্টোবর ট্রেনটি বাতিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে রাজস্থানমুখী কিংবা রাজস্থান থেকে পশ্চিমবঙ্গে ফেরার পরিকল্পনা থাকা যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।

রেলের তরফে জানানো পরিবর্তনের মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কিছু ট্রেনকে সম্পূর্ণ বাতিল না করে শর্ট টার্মিনেট করা হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত গন্তব্য পর্যন্ত ট্রেন না গিয়ে মাঝপথের কোনও স্টেশনেই তার যাত্রা শেষ হবে। কাজের পরিধি ও রেললাইনের পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে সেই স্টেশন থেকেই ট্রেনটি আবার উল্টো পথে যাত্রা শুরু করবে।

এই তালিকায় রয়েছে খড়গপুর-হাটিয়া-খড়গপুর এক্সপ্রেস (১৮০৩৫/১৮০৩৬)। রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৪ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর এই ট্রেনটি সম্পূর্ণ রুটে চলবে না। ওই দিনগুলিতে ট্রেনটি খড়গপুর এবং আদ্রার মধ্যে চলাচল করবে। অর্থাৎ হাটিয়া পর্যন্ত ট্রেনটির পরিষেবা পাওয়া যাবে না এবং আদ্রাতেই সংশ্লিষ্ট যাত্রার সমাপ্তি হবে।

অন্যদিকে টাটানগর-আসানসোল-বরাভূম মেমু (৬৮০৫৬/৬৮০৬০)-র ক্ষেত্রেও যাত্রাপথে পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে ট্রেনটি আদ্রা পর্যন্ত চলবে এবং সেখান থেকেই ফের যাত্রা শুরু করবে। ফলে স্বাভাবিক রুটে যাতায়াত করতে চাওয়া যাত্রীদের ওই দিনের পরিষেবা সম্পর্কে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

আসানসোল-পুরুলিয়া রুটের মেমু পরিষেবাতেও আরও একটি পরিবর্তন রয়েছে। আসানসোল-পুরুলিয়া-আসানসোল মেমু (৬৩৫৯৪/৬৩৫৯৩) ১৫ এবং ১৬ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়া পর্যন্ত যাবে না। ওই দুই দিন ট্রেনটির যাত্রা আদ্রা পর্যন্ত সীমিত রাখা হবে। আদ্রা থেকেই ট্রেনটি আবার আসানসোলের উদ্দেশে ফিরবে।

একসঙ্গে এতগুলি ট্রেন বাতিল এবং কয়েকটি পরিষেবার যাত্রাপথ ছোট করে দেওয়ার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মেমু ট্রেনগুলি বহু যাত্রীর দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহর বা গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনে পৌঁছতে এই ট্রেনগুলির উপর নির্ভর করেন নিত্যযাত্রী, চাকরিজীবী, পড়ুয়া, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য যাত্রীরা।

পরিষেবা বাতিলের দিনে তাঁদের বিকল্প হিসেবে বাস বা অন্যান্য গণপরিবহণ ব্যবহার করতে হতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট রুটগুলিতে সড়কপথের উপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই ভাবে দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল হওয়ায় যাঁদের আগে থেকে টিকিট বা ভ্রমণ পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদেরও যাত্রার আগে পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়া জরুরি।

রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই সাময়িক অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, রেল পরিষেবাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক এবং গতিশীল করে তুলতে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেললাইনের সংস্কার, আধুনিকীকরণ এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নির্দিষ্ট সময় অন্তর করা না হলে ভবিষ্যতে পরিষেবার নিরাপত্তা ও দক্ষতার উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।

তাই কাজের সময় ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেই উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেল প্রশাসনের আশা, নির্ধারিত কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট রুটগুলিতে পরিষেবা ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে।

এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নির্দিষ্ট দিনে নিজেদের ট্রেনটি আদৌ চলছে কি না, নাকি বাতিল বা সংক্ষিপ্ত রুটে চলছে—তা আগে থেকে দেখে নেওয়া। বিশেষ করে ১৪ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যাঁদের আদ্রা ডিভিশনের বিভিন্ন রুটে যাত্রা রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাঁতরাগাছি-আজমের এক্সপ্রেসের যাত্রীরাও সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবরের নির্ধারিত পরিবর্তনগুলি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করবেন।

রেল উন্নয়নের কাজ শেষ হলে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিষেবার সুবিধা বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। কিন্তু কাজ চলাকালীন যে সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তা এড়াতে আগাম পরিকল্পনাই যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ। রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরিবর্তিত পরিষেবার দিনগুলিতে যাত্রীরা বিকল্প ব্যবস্থা হাতে রেখেই বের হলে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved