Homeকলকাতারাখির বন্ধনে শুভেন্দু-অগ্নিমিত্রা, মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রাখি পরিয়ে আবেগঘন বার্তা মন্ত্রীর

রাখির বন্ধনে শুভেন্দু-অগ্নিমিত্রা, মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রাখি পরিয়ে আবেগঘন বার্তা মন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক : রাখি পূর্ণিমার উৎসবে এ বার বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে রাখি
SUVENDU AND AGNIMITRA

নিউজ ডেস্ক : রাখি পূর্ণিমার উৎসবে এ বার বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে রাখি পরিয়ে দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেই মুহূর্তের ছবি নিজের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি স্নেহ, শ্রদ্ধা এবং সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন অগ্নিমিত্রা।

রাখির দিন ভাই-বোনের সম্পর্কের প্রতীকী বন্ধনকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এ বারই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে রাখিবন্ধন উৎসবকে সরকারি ভাবে রাজ্যব্যাপী উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা সদর থেকে পুরসভা, ব্লক থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত—বিভিন্ন স্তরে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের তরফে এই আয়োজনের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রাখি, আবেগঘন অগ্নিমিত্রা

শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রাখিবন্ধন উৎসবে যোগ দেন অগ্নিমিত্রা পাল। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রাখি পরানোর সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। সঙ্গে দেন আবেগঘন বার্তাও।

অগ্নিমিত্রার বক্তব্যের মূল সুর ছিল, রাখির এই বন্ধন তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককেও আরও দৃঢ় করে। জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহ, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি সম্পর্কটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কামনা করেছেন।

রাজনৈতিক পরিসরে দু’জনেই একই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে রাখির দিনের এই ছবি রাজনৈতিক মহলেও আলাদা নজর কেড়েছে। উৎসবের আবহে দুই মন্ত্রী-নেতার পারস্পরিক সম্পর্কের একটি ব্যক্তিগত দিকও প্রকাশ্যে এসেছে।

প্রথম বার রাজ্যজুড়ে সরকারি উদ্যোগে রাখি উৎসব

এ বার রাখিবন্ধনকে শুধু একটি সামাজিক উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজ্যব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২২টি জেলা সদর, ৪৫টি মহকুমা, ৩৪৫টি ব্লক, ১২১টি পুরসভা, ছ’টি পুরনিগম এবং ৩,০৩৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার ১৪৪টি পুর-ওয়ার্ডও এই আয়োজনের আওতায় রয়েছে।

সরকারি উদ্যোগের মূল ভাবনা হিসেবে উঠে এসেছে সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা। বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় স্তরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাখি বিতরণ এবং সম্প্রীতির কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ ৬০ হাজার রাখি বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই রাখিগুলি বিভিন্ন এলাকা ও কর্মসূচিতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র রাখি কেনা ও সরবরাহের জন্য প্রায় ২.৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

নজরুল মঞ্চে রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠান

রাখিবন্ধন উপলক্ষে কলকাতার নজরুল মঞ্চেও আয়োজন করা হয়েছে রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠান। সেখানে কলেজ পড়ুয়া, এনসিসি-র সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ রয়েছে। প্রায় ২,৫০০ জনের উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের সঙ্গে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতা পুরনিগম এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রাখিবন্ধন ঘিরে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু কলকাতাতেই নয়, রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এই উৎসবকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে শহর ও গ্রামের মধ্যে উৎসবের আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি বিস্তৃত সংযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রায় ৯ কোটি টাকার আয়োজন

সরকারি ভাবে রাখিবন্ধন উৎসবকে বড় পরিসরে আয়োজনের পিছনে উল্লেখযোগ্য অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছে। মোট বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য সবচেয়ে বড় অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। পুরসভা, ব্লক, জেলা সদর এবং মহকুমা স্তরেও পৃথক অর্থ বরাদ্দ রয়েছে।

এর ফলে এ বার রাখির উৎসব কেবল বাড়ি বা স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রশাসনিক স্তরেও তা বড় আকারে পালিত হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একই দিনে রাখিবন্ধন উপলক্ষে কর্মসূচি হওয়ায় উৎসবের পরিসরও আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।

সম্প্রীতির বার্তা সামনে রাখার লক্ষ্য

রাখিবন্ধনের সঙ্গে বরাবরই ভ্রাতৃত্ব, স্নেহ এবং সামাজিক সম্প্রীতির ভাবনা জড়িয়ে রয়েছে। সরকারি কর্মসূচিগুলিতেও সেই বার্তাকেই সামনে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা সামাজিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যেই এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এ দিন রাজ্যস্তরের রাখিবন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন। সরকারি সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে এই অনুষ্ঠানকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আর সেই আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর হাতে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের রাখি পরানোর ছবি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনীতির ব্যস্ততার বাইরে উৎসবের দিনে দুই সহকর্মীর এই সৌহার্দ্যের ছবি ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। অগ্নিমিত্রার আবেগঘন বার্তাও সেই সম্পর্কের ব্যক্তিগত দিকটিকে সামনে এনেছে।

সব মিলিয়ে এ বারের রাখিবন্ধন পশ্চিমবঙ্গে শুধু ঘরোয়া উৎসব নয়, সরকারি উদ্যোগে বৃহত্তর সামাজিক কর্মসূচির রূপ পেয়েছে। রাজ্যজুড়ে লাখ লাখ রাখি বিতরণ থেকে শুরু করে জেলা ও গ্রামস্তরে অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে উৎসবের পরিধি হয়েছে বড়। আর তারই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের রাখির মুহূর্ত রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved