Homeরাজ্যমাদ্রাসা যাচাইয়ে রাজ্যের বড় পদক্ষেপ, ২৫২টি বন্ধের নোটিস, শো-কজ ১০০! দিলীপের বার্তা, অনুমোদিত মাদ্রাসা চলবে

মাদ্রাসা যাচাইয়ে রাজ্যের বড় পদক্ষেপ, ২৫২টি বন্ধের নোটিস, শো-কজ ১০০! দিলীপের বার্তা, অনুমোদিত মাদ্রাসা চলবে

নিউজ ডেস্ক : রাজ্যে মাদ্রাসা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে প্রশাসনিক তৎপরতা। মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো, অনুমোদন এবং পরিচালন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়ায় বড় পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। দেওয়া হয়েছে ২৫২টি
4ab001cd4740b1c29f99b99434ed3b16-660119982bbc7

নিউজ ডেস্ক : রাজ্যে মাদ্রাসা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে প্রশাসনিক তৎপরতা। মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো, অনুমোদন এবং পরিচালন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়ায় বড় পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। দেওয়া হয়েছে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নোটিস। পাশাপাশি আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে শো-কজ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।

রবিবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, সরকারের অনুমোদন নিয়ে যে মাদ্রাসাগুলি পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলি চালু থাকবে। তবে অনুমতি ছাড়া যেখানে সেখানে মাদ্রাসা তৈরি করে কার্যকলাপ চালানোর ক্ষেত্রে সরকার কোনও ছাড় দেবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

মাদ্রাসা প্রসঙ্গে দিলীপের বক্তব্যে উঠে এসেছে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারির প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, অতীতে মাদ্রাসার শিক্ষক পরিচয়ে কয়েক জন উগ্রপন্থী ধরা পড়েছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে মাদ্রাসা থেকে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগও উঠেছে। সেই অভিযোগগুলির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনা ও তদন্তের ফলাফল পৃথক ভাবে বিবেচ্য।

দিলীপ বলেন, সরকারের অনুমোদন নিয়ে যাঁরা মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, নিয়ম মেনে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানকে একই চোখে দেখা হবে না। প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া নতুন করে মাদ্রাসা গড়ে তোলা এবং তার মাধ্যমে কোনও ধরনের অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস এবং ১০০টিকে শো-কজ করার বিষয়টি সামনে আসার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কী কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদন, নথিপত্র, পরিকাঠামো, পরিচালন ব্যবস্থা কিংবা নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠান চলছে কি না—একাধিক বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে নোটিস বা শো-কজ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত কারণ এই বক্তব্যে পৃথক ভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে মাদ্রাসা প্রসঙ্গের পাশাপাশি রবিবার রাজ্যের রাজনীতি ও আসন্ন উৎসবকে ঘিরেও একাধিক মন্তব্য করেছেন দিলীপ। গণেশ পুজোর উদ্বোধনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পরিবর্তে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট মানুষদের আমন্ত্রণ জানানোর পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়েই দিলীপ এমন মন্তব্য করেছেন।

তাঁর বক্তব্য, গণেশ পুজোর মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে পদ্মভূষণ বা পদ্মবিভূষণের মতো সম্মানে সম্মানিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধু-সন্ত, সমাজসেবী, খেলোয়াড় এবং বিনোদন জগতের বিশিষ্টদের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখা ব্যক্তিদের সামনে আনার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।

পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে রাজনীতির যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, অনেক সময় পুজোর উদ্যোক্তারাই রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, মূলত বিভিন্ন ধরনের আর্থিক বা অন্যান্য সুবিধার প্রত্যাশায়। তিনি দাবি করেন, পুজোর প্রকৃত আয়োজক হওয়া উচিত সেই সাধারণ মানুষদের, যাঁরা পুজোর আয়োজন করেন এবং অর্থ খরচ করেন।

নিজের একটি উদাহরণও টেনে আনেন তিনি। দিলীপ জানান, নিউটাউনের একটি বড় পুজোর উদ্যোক্তারা তাঁকে সভাপতি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক নেতাকে পুজোর সভাপতি করার পরিবর্তে তিনি পুজো কমিটিকে সমর্থন করতে পারেন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের উদ্যোগে আয়োজিত পুজোয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিবর্তে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মানুষদের সঙ্গে রাখা উচিত।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও এ দিন মন্তব্য করেছেন দিলীপ। দলের প্রতীক নিয়ে টানাপড়েন এবং দল ভাঙা-গড়ার জল্পনা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের রাজনৈতিক নাটক আরও চলবে। তৃণমূলের ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দল ভাঙা এবং নতুন করে গড়ার মতো ঘটনাই সামনে আসতে পারে।

এর মধ্যেই তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের একটি মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মদনের দাবি, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা এসেছে। সেই বক্তব্য সম্পর্কে দিলীপকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় তৃণমূলের নেতারাই বলতে পারবেন।

তবে মদন মিত্রের দাবির বিষয়ে দিলীপের পরামর্শ, যদি তাঁর কাছে এই সংক্রান্ত তথ্য থাকে, তা হলে লিখিত ভাবে তা জানানো উচিত। শুধু প্রকাশ্য রাস্তায় বা রাজনৈতিক সভায় কোনও দাবি করলেই সরকার বা সাধারণ মানুষ তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একদিকে মাদ্রাসা যাচাইকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, অন্যদিকে পুজোর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি—রবিবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দিলীপ ঘোষ। বিশেষ করে ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস এবং ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শো-কজ করার খবর সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে আরও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা সামনে আসে কি না, সে দিকেই নজর থাকবে।

মাদ্রাসা সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের ক্ষেত্রে নোটিসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলির বক্তব্য এবং প্রশাসনিক তদন্তের পরবর্তী ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ কোনও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারণ, নথিপত্র এবং আইনগত প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি করবে।

এখন মূল নজর, নোটিস পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হয় এবং শো-কজের জবাবে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলি কী ব্যাখ্যা দেয়। একই সঙ্গে সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলির পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে—দিলীপের বক্তব্যে আপাতত সেই বার্তাই স্পষ্ট।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ মাদ্রাসা পরিচালনা ও অনুমোদন সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর ভাবে কার্যকর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে যাচাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী পর্যায়ের উপর।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved