Homeআবহাওয়াবৃষ্টির দাপট আরও দু’দিন! দক্ষিণবঙ্গের ৩ জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা, বাড়ছে বজ্রপাতের আশঙ্কা

বৃষ্টির দাপট আরও দু’দিন! দক্ষিণবঙ্গের ৩ জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা, বাড়ছে বজ্রপাতের আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার প্রভাবে ফের সক্রিয় হয়েছে বর্ষার পরিস্থিতি। মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী
images (11)

নিউজ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার প্রভাবে ফের সক্রিয় হয়েছে বর্ষার পরিস্থিতি। মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া এবং হুগলিতে ভারী বর্ষণের জন্য জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। শুধু ওই তিন জেলা নয়, দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার পর্যন্ত বৃষ্টির প্রভাব বেশির ভাগ জেলাতেই বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ও বুধবার দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার জেরে সাময়িক ভাবে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গে মূলত আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া ও হুগলিতে বৃষ্টির তীব্রতা তুলনামূলক ভাবে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তিন জেলাতেই ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্য জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কোনও কোনও এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে হাওয়া বইতে পারে। ফলে বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, গাছের নীচে কিংবা জলাশয়ের কাছে থাকা এড়িয়ে চলার প্রয়োজন রয়েছে।

বুধবার আরও কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টি

বুধবারও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকবে। তবে ভারী বৃষ্টির জেলাগুলির তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। এ দিন পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওই পাঁচ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

এ ছাড়া দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। সেই সময়েও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। ভারী বৃষ্টির জন্য আর কোনও সতর্কতা থাকছে না। ধীরে ধীরে কমবে বৃষ্টির সম্ভাবনাও। সপ্তাহান্তে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ও বিস্তৃতি আরও কমতে পারে বলে পূর্বাভাস।

উত্তরবঙ্গেও আপাতত স্বস্তি নেই

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেখানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

তবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত কম। এই দু’দিন বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে কম থাকবে। কিন্তু সপ্তাহের শেষের দিকে ফের বদলাতে পারে পরিস্থিতি।

শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পংয়ে ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবারও উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। ওই দিন দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

অর্থাৎ, উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টির পরিস্থিতি ওঠানামা করবে। মাঝের দু’দিন বৃষ্টি কিছুটা কমলেও শুক্রবার থেকে ফের বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে।

কেন এই বৃষ্টি?

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব বিহারের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমী অক্ষরেখাটিও সক্রিয়। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর থেকে শুরু হয়ে নিম্নচাপ এলাকার উপর দিয়ে পুরুলিয়া ও দিঘার উপর দিয়ে অক্ষরেখাটি উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ দেখা যেতে পারে।

কলকাতার আকাশ কেমন থাকবে?

রাজধানী কলকাতাতেও মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শহরের আকাশ মূলত আংশিক মেঘলা থাকবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে।

বুধবার পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক ভাবে বেশি। ফলে পুজোর প্রস্তুতি এবং দৈনন্দিন কাজে বেরোনো মানুষকে আবহাওয়ার দিকে নজর রেখে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকাই নিরাপদ।

তবে বৃষ্টি থামার পরেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলবে না। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় বৃষ্টির বিরতিতে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.২ ডিগ্রি বেশি। সোমবার বিকেলে শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৬ ডিগ্রি কম। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৪ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার তাপমাত্রা ২৬ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। ইতিমধ্যেই শহরে ১৬.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

সব মিলিয়ে মঙ্গলবার ও বুধবার রাজ্যের একাধিক অংশে বৃষ্টির দাপট থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও উত্তরবঙ্গে শুক্রবার-শনিবার ফের বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved