Homeকলকাতাবাথরুমে ঢুকেই বিপদ! সাপের কামড়ে হাসপাতালে খুদে পড়ুয়া

বাথরুমে ঢুকেই বিপদ! সাপের কামড়ে হাসপাতালে খুদে পড়ুয়া

স্কুলে পড়তে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়ল মিত্র ইনস্টিটিউশনের এক প্রথম শ্রেণির পড়ুয়া। স্কুলের বাথরুমে সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে
2

স্কুলে পড়তে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়ল মিত্র ইনস্টিটিউশনের এক প্রথম শ্রেণির পড়ুয়া। স্কুলের বাথরুমে সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই খুদে পড়ুয়া। ঘটনার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় স্কুল চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়ানোর পাশাপাশি পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অভিভাবকদের মধ্যেও।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, স্কুলে থাকাকালীন বাথরুমে গিয়েছিল ওই পড়ুয়া। সেখানেই সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশুটির শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

মিত্র ইনস্টিটিউশনের মতো শহরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাথরুমে সাপ ঢুকে পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্কুলের ভিতরে ছোট ছোট পড়ুয়াদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত, বাথরুম ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় কি না এবং সেখানে কোনও ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা রয়েছে কি না—এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রথম শ্রেণির পড়ুয়ারা বয়সে খুবই ছোট। স্কুলে কোনও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে নিজের নিরাপত্তার জন্য কী পদক্ষেপ করতে হবে, তা সব সময় তাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না। ফলে এমন পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের সতর্কতা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনায় দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সাপের কামড়ের ঘটনা কখনও হালকা ভাবে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে বিষধর সাপের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। কোন ধরনের সাপ কামড়েছে, কামড়ের প্রভাব কতটা এবং শিশুটির শরীরে বিষের কোনও প্রভাব পড়েছে কি না—এই সমস্ত বিষয় চিকিৎসকরাই পরীক্ষা করে নির্ধারণ করবেন। তাই ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনার পর অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে স্কুলের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্কুলের বাথরুমের মতো জায়গা প্রতিদিন বহু পড়ুয়া ব্যবহার করে। সেখানে যদি সাপ ঢুকে পড়ে, তা হলে অন্য পড়ুয়ারাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই স্কুলের বাথরুম, নিকাশি ব্যবস্থা, আশপাশের ঝোপঝাড় এবং অপরিচ্ছন্ন জায়গাগুলি দ্রুত পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে বা দীর্ঘ সময় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থাকলে সাপ ও অন্যান্য সরীসৃপের আনাগোনা বাড়তে পারে। ড্রেন, নর্দমা, ঝোপঝাড় কিংবা দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়া জায়গা অনেক সময় তাদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে। স্কুলের মতো জায়গায় তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকির জায়গাগুলিও চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

অভিভাবকদের উদ্বেগের আর একটি কারণ হল, স্কুলে পড়ুয়াদের দিনের একটা বড় সময় কাটে। ছোটদের জন্য শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি বাথরুম, করিডর, সিঁড়ি, খেলার জায়গা—প্রতিটি অংশই নিরাপদ থাকা জরুরি। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু সেই জায়গাটিই নয়, গোটা স্কুল চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বাথরুমটি পরিষ্কার করা হয়েছে কি না, আশপাশে আর কোনও সাপ বা সরীসৃপ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইছেন অভিভাবকদের একাংশ।

এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। তবে শিশুদের মধ্যে অযথা ভয় তৈরি না করে, একই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করাও জরুরি। স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগেই পড়ুয়াদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

মিত্র ইনস্টিটিউশনের এই ঘটনায় আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রথম শ্রেণির ওই পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থা। পরিবার দ্রুত শিশুটির সুস্থতার অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলে এমন ঘটনা কী ভাবে ঘটল এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনও পড়ুয়াকে একই ধরনের বিপদের মুখে পড়তে না হয়, তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—সেদিকেও নজর রয়েছে।

ঘটনাটি ফের মনে করিয়ে দিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পরিবেশের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকর পরিকাঠামোর বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছোট শিশুদের স্কুলে এমন কোনও ঝুঁকি থাকা উচিত নয়, যা আগে থেকেই চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তাই এই ঘটনার পর স্কুল চত্বরের সার্বিক নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি আরও জোরালো হতে পারে।

No Comments

তাজা খবর