Homeকলকাতাতোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রুখতে ডেভেলপার-প্রোমোটারদের নিয়ে বৈঠক বিধায়কের, আইন মেনে নির্মাণের বার্তা

তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রুখতে ডেভেলপার-প্রোমোটারদের নিয়ে বৈঠক বিধায়কের, আইন মেনে নির্মাণের বার্তা

নিউজ ডেস্ক : তোলাবাজি, কাটমানি এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগে লাগাম টানতে এ বার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার ডেভেলপার ও প্রোমোটারদের নিয়ে বৈঠক
resizeplus_w

নিউজ ডেস্ক : তোলাবাজি, কাটমানি এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগে লাগাম টানতে এ বার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার ডেভেলপার ও প্রোমোটারদের নিয়ে বৈঠক করলেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। শনিবার সন্ধ্যায় বাগুইআটির রঘুনাথপুরে আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এলাকার একাধিক ডেভেলপার ও প্রোমোটার। পাশাপাশি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চারটি থানার পুলিশ আধিকারিকরাও সেখানে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

বৈঠকে বিধায়কের মূল বার্তা ছিল, নির্মাণকাজ করতে হবে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে জোর করে টাকা দাবি করলে কিংবা তোলাবাজির চেষ্টা করলে সরাসরি থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক।

এর আগে একই উদ্দেশ্যে রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার সরকারি ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তরুণজ্যোতি। সেই বৈঠকেও তোলাবাজি ও কাটমানির অভিযোগ সামনে এলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। সরকারি প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে উন্নয়নমূলক কাজ করার কথাও ঠিকাদারদের বলা হয়েছিল।

ঠিকাদারদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ বার নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ডেভেলপার ও প্রোমোটারদের নিয়ে আলোচনা করলেন বিধায়ক। শনিবারের বৈঠকে তিনি একাধিক বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যানের বাইরে গিয়ে কোনও নির্মাণ করা যাবে না। ঘষা প্ল্যান বা ডি-প্ল্যানের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন তিনি।

বৈঠকে বিধায়কের তরফে যে বিষয়গুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম অনুমোদিত নকশা মেনে নির্মাণ। কোনও প্রকল্পে অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে সামান্য অংশও নির্মাণ না করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের কাটমানি বা সিন্ডিকেটের প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

তরুণজ্যোতির বক্তব্য, নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত কেউ যদি তোলাবাজির শিকার হন, তা হলে ভয় না পেয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানাতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপদ পরিবেশ দেওয়াও প্রশাসনের দায়িত্ব বলে বৈঠকে বার্তা দেওয়া হয়।

শুধু তোলাবাজি বা সিন্ডিকেট নয়, নির্মাণ প্রকল্পের পরিকাঠামোগত বিষয় নিয়েও ডেভেলপারদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানীয় জলের সংযোগ বা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোনও আবাসন বা নির্মাণ প্রকল্প তৈরি করার সময় শুধুমাত্র ভবন নির্মাণ নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিক পরিষেবার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজারহাট-গোপালপুর এলাকায় দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। ফলে নতুন আবাসন, বহুতল এবং বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের সংখ্যাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেই কারণেই এই ধরনের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়ন এবং আইন মেনে চলা—দুটিকে পাশাপাশি রেখেই এগোতে হবে।

তৃণমূলের শাসনকালে কাটমানি, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট নিয়ে বিরোধীদের একাধিক অভিযোগ ছিল বলে দাবি বিজেপির। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই পুরনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই নিজের বিধানসভা এলাকায় ধারাবাহিক ভাবে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণজ্যোতি। প্রথমে সরকারি ঠিকাদার এবং পরে ডেভেলপার-প্রোমোটারদের সঙ্গে বৈঠক তারই অংশ বলে বিধায়ক শিবিরের দাবি।

বৈঠকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি। তরুণজ্যোতির দাবি, এতদিন এই ধরনের আলোচনা অনেক সময় বন্ধ দরজার আড়ালে হওয়ার অভিযোগ উঠত। সেখানে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে কী আলোচনা হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছেও স্বচ্ছতা থাকত না। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতেই প্রকাশ্য পরিবেশে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে বৈঠক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিধায়কের কথায়, স্বচ্ছতা কোনও গোপন প্রক্রিয়া নয়। প্রশাসন, নির্মাণ সংস্থা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় কোনও অস্পষ্টতা না রেখে প্রকাশ্যেই নিয়ম ও দায়িত্বের বিষয়গুলি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, রাজারহাট-গোপালপুরে উন্নয়নমূলক কাজ থেমে থাকবে না। তবে সেই উন্নয়ন হতে হবে নির্দিষ্ট আইন, অনুমোদিত নকশা এবং নাগরিক পরিষেবার নিয়ম মেনেই।

এখন দেখার, বৈঠকে দেওয়া এই বার্তার পর রাজারহাট-গোপালপুরে নির্মাণকাজকে ঘিরে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট সংক্রান্ত অভিযোগ কতটা কমে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান মেনে নির্মাণ, ড্রেনেজ ও পানীয় জলের মতো নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডেভেলপার ও প্রোমোটাররা কতটা নিয়ম মেনে চলেন, সেদিকেও নজর থাকবে।

No Comments

তাজা খবর